পাঠক বাছাই

০৪ আগস্ট ২০১৯

আমার সন্তান থাকুক দুধে-ভাতে

প্রতিটি মা-বাবা সর্বদা সন্তানের মঙ্গল কামনা করেন। প্রত্যেক মা-বাবাই চান তাদের সন্তান সুস্থ-সবল থাকুক। সঠিকভাবে বেড়ে উঠুক। আজকাল আমরা খেয়াল করলেই দেখতে পাব, শিশুদের সঙ্গে অনীহা ব্যাপারটা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কোনো না কোনো কারণে তাদের মধ্যে যে কোনো বিষয়ে অনীহা আসতেই পারে। অনেক সময় শিশু খেতে চায় না। তবে আমরা জোর করে খাওয়াই; কিন্তু ফলে কী পাই?

উপকার নাকি অপকার? খেয়াল করলেই স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, জোর করে খাওয়ানোর ফলে অনেক সময় বমি হয়। অতিরিক্ত খাবার খেলে পেটব্যথা করে। শিশু অস্বস্তি বোধ করে।

আসলে এই জোর করে খাওয়ানোয় উপকারের চেয়ে অপকার বেশি হয়। তবে হ্যাঁ, শরীরের জোরে নয়, আমরা বুদ্ধির জোর খাটিয়ে সমস্যার সমাধান করতে পারি। আমরা শিশুদের নতুন নতুন ছড়ার বইয়ে হরেক রকমের ছবি দেখিয়ে কিংবা খেলনা দেখিয়ে, বলতে গেলে যা দেখলে শিশুরা আনন্দ পায় সে পদ্ধতি ব্যবহার করে খাবার খাওয়াতে পারি।

আমরা শিশুর হাতে যখন বই তুলে দিই, তখন দেখা যায় বই ছিঁড়ে ফেলে কিংবা ছুড়ে ফেলে দেয়। হয়তো চড়-থাপ্পড় দিয়েই ফেলি। এটা কী ধরনের আচরণ? শিশুরা ভুল করবে, এটাই স্বাভাবিক। আমাদের উচিত তাদের মন বোঝা, তারা কী করতে ভালোবাসে। তারা যখন খেলতে চায় তখন যদি খেলনা না দিয়ে বই তুলে দিই, একটু এদিক-সেদিক হতেই পারে। শিশুরা সবকিছু জানে না, সবকিছু বোঝে না। আমাদের উচিত তাদের বোঝানো, ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ভালো অভ্যাস গড়ে তোলা। চারদেয়ালের বেড়াজালে বন্দি না রেখে মাঝে মধ্যে প্রকৃতির খোলামেলা পরিবেশের সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া উচিত। শিশুকে খাওয়ানোর মতোই তার প্রতিটি অনীহায় আমাদের উচিত শরীরের জোর পরিহার করে বুদ্ধির জোর ব্যবহার করা।

জেলী আক্তার
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ
রসুলপুর, কুড়িগ্রাম

এবং ছেলেধরা আতঙ্ক

সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত খবর ছেলেধরা। বেশ কয়েক দিনে এই ছেলেধরা সন্দেহে সারাদেশে প্রাণ গেছে ১০ জনের। আহত হয়েছে প্রায় ৭১ জনের মতো। এমন গুজব দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এক মাকে, যে কি-না মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাতে গিয়েছিলেন। নারায়ণগঞ্জে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বাকপ্রতিবন্ধী এক বাবাকে।

এ সময়ে শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা যেমন আতঙ্কে আছেন, তেমনি যাদের পরিবারের কেউ মানসিক বিকারগ্রস্ত, তাদেরও দুশ্চিন্তার শেষ নেই। গ্রাম থেকে শহর, সর্বত্র এখন ছেলেধরার গল্প। অভিভাবকরা সন্তানকে বাড়ির বাইরে পাঠাতেই ভয় পাচ্ছেন। এই ছেলেধরা গুজব এতটাই প্রবল বেগে ছড়িয়ে পড়ছে, রাজধানীর মতো জায়গায় তাসলিমা বেগমকে পায়ে পিষে হত্যা করে উচ্ছৃঙ্খল কিছু যুবক। এই নির্মম মৃত্যুতে নিন্দার ঝড় বয় দেশজুড়ে। হতভাগা এই মায়ের মৃত্যুর পর কে দেখবে তার দুই সন্তানকে? তারা তো কিছুদিন আগে তাদের বাবাকেও হারিয়েছে।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য মতে, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে শিশু অপহরণ হয়েছে যথাক্রমে ৫২ ও ৪০টি। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০ জনে। তাদের মধ্যে পাচার বা হত্যা করা হয়েছে ৩১ জনকে। ২০১৯ সালের জুন মাস পর্যন্ত অপহরণ হয়েছে ১২০ জন। তাদের মধ্য থেকে হত্যা বা পাচার করা হয়েছে ১৯ শিশুকে।

এটাকে গুজব বলে উড়িয়ে দিলেও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে, তাতে এমনটি হয়েছে বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ। এই পরিস্থিতে নিগ্রহের শিকার হওয়া অধিকাংশ মানুষ ভবঘুরে, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও মানসিক বিকারগ্রস্ত।

এমন অবস্থায় যদি কোনো প্রকৃত ছেলেধরাকেও আমরা মেরে ফেলি, তবে অজানা তথ্যগুলোও চাপা পড়ে যাবে। আবার নিছক সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কোনো মানুষকে জনসম্মুখে গণপিটুনি দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা কোনো সভ্য সমাজের কাজ হতে পারে না। তাই আমাদের উচিত গুজবে কান না দিয়ে সঠিক তথ্য জানা এবং এমন পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন মনে হলে তাকে আটক করে পুলিশে দেওয়া।

আলী আকবর

শিক্ষার্থী, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, ফরিদপুর

© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: ad.samakalonline@outlook.com