ঝাড়ূ

১৯ আগস্ট ২০১৯

ওহাব ওহী

ষ সূচনা

ঝাড়ু ঘরে-বাইরে গৃহস্থালির কাজে ব্যবহূত একটি অতি প্রয়োজনীয় প্রাচীন উপকারী বস্তু! এমন কোনো পরিবার কিংবা সংসার নেই, যেখানে ঝাড়ুর ব্যবহার হয়নি কিংবা হচ্ছে না!

ষ ঝাড়ু কী

ঝাড়ু হচ্ছে ধুলাবালি পরিস্কারক এক ধরনের ঝাটা সদৃশ লম্বাকার বস্তু। নারিকেল পাতার মধ্যবর্তী শলাকাকে চেছে-ছিলে পরিস্কার করে যে ঝাঁটা তৈরি করা হয় তাকে শলাকার ঝাড়ু বলে। এ ছাড়া বাঙালিদের জাতীয় জীবনে শন কিংবা পাহাড়ি ফুলের ঝাড়ুরও বিশেষ কদর রয়েছে।

ষ ঝাড়ুর উপকারিতা

ঝাড়ুর জন্ম ঝাড়ু দেওয়ার জন্য হলেও আমাদের সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে এর নানাবিধ উপকারী-ব্যবহারিক দিক লক্ষ্য করা যায়। ঘরদুয়ার পরিস্কার করা ছাড়াও বাঙালি জেদি বধূরা এটিকে তাদের সহজ-সরল, অবলা স্বামীদের পিঠে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে থাকে। এ ছাড়া আমাদের জাতীয় জীবনের যে কোনো অসঙ্গতি কিংবা যে কোনো প্রতীকী প্রতিবাদে ঝাড়ুকেই সবাই বেছে নেন সর্বাগ্রে! তা ছাড়া কোরবানি ঈদ-পরবর্তী কয়েকদিন গ্রামগঞ্জে ঝাড়ুর কাঠির ব্যবহার থাকে সেই তুঙ্গে! কেননা গোশত ভক্ষণ পরবর্তী দাঁতে লেগে থাকা অবশিষ্ট গোশতাংশ ছুটানোর কাজে এর চেয়ে উত্তম মাধ্যম আর নেই! তবে সম্প্রতি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বাংলাদেশে এক শ্রেণির নির্বোধ আহাম্মক ভিআইপি বন্ধুর এডিস মশা তাড়ানোর নিমিত্তে পরিস্কার রাস্তাঘাট কিংবা মিডিয়ার সামনে ঝাড়ু ধরে দন্ত প্রদর্শক হাসিপরবর্তী যেই হারে ছবি তুলতে দেখা যাচ্ছে, ঝাড়ু ব্যহারের ক্ষেত্রে তা আজ এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে এবং তা অত্যন্ত বিনোদিত জাতীয় রম্য নাটকের শামিল! এই লক্ষ্যে আমি কিংবা আমরা আরও বিশেষভাবে শঙ্কিত এই ভেবে যে, অদূর ভবিষ্যতে হয়তো এর চেয়েও অধিক হাস্যকর এবং চটকদার ঝাড়ুকেন্দ্রিক রম্যনাটক আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে এবং সে দিন বেশি দূরে নয়!

ষ অপকারিতা

প্রত্যেক জিনিসের একটি উল্টা পিঠ থাকে। সেই সুবাদে, উপকারের সৎভাই হচ্ছে অপকার! ঝাড়ু নানান দিক দিয়ে উপকার করলেও কিছু কিছু অপকার আমাদের চোখে দৃষ্টিগোচর হয়। এই যেমন : এটি নোটিশ ছাড়াই অযাচিতভাবে স্ত্রীদের দ্বারা স্বামীদের পিঠে চালান হয়! ঝাড়ুকে কেন্দ্র করে আছে বিভিন্ন অসামাজিক এবং অপমানজনক গালিগালাজও। যেমন : ওই বেটা ঝাড়ুদারের পোলা, এই তোকে কিন্তু ঝাড়ুপেটা করব রে! ওহে শ্যামিল, ওকে ঝাড়ু মেরে মাল্যদান করে দাও তো!... ইত্যাদি ইত্যাদি।

ষ ঝাড়ুদের নিজস্ব কিছু বক্তব্য

একই সঙ্গে পরিতাপ এবং আনন্দের বিষয় হচ্ছে, যেসব লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে আমাদের জন্ম হয়েছিল, তা থেকে বর্তমান পদমর্যাদা অনেক গুণ বেড়েছে। ধুলাবালি পরিস্কার করা ছাড়াও আমরা এখন বাঙালির জাতীয় জীবনের নানাবিধ ইস্যুতে জড়িয়ে গেছি! বিশেষ করে গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমজুড়ে আমাকে নিয়ে যে ব্যাপক ফালাফালি আর লাফালাফি, সেটি কিন্তু দেখার মতো। বাউরে! এ যে কত্ত বড় ইজ্জতের ব্যাপার; আপনাগো তা কেমতে বোঝাই! ধন্যবাদ আপনাগো! আমার আর কিচ্ছু চাওয়ার নাই!

ষ শেষ কথা

বাঙালির জাতীয় জীবনে শেষ কথা বলে কোনোদিন কিছু ছিল না। আমি ঝাড়ু যেভাবে ছিলাম, আছি সেভাবেই এবং থাকব ইনশাল্লাহ! বিদায়ের বেলায় তাই এটুকুই শুধু মনোকষ্টে সংক্ষিপ্ত আকারে বলে যেতে চাই... ঝাড়ু নাহি দেবো হায়! তবুও দিতে হয়... কিন্তু মশা নাহি মারা যায়!



হসাভার, ঢাকা

© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: ad.samakalonline@outlook.com