সমকালকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সীমান্তজুড়েই কাঁটাতারের বেড়া দিতে চায় ভারত

১১ আগস্ট ২০১৯

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তজুড়েই কাঁটাতারের বেড়া দিতে চায় ভারত। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন অনুযায়ী বেড়া দেওয়া হলে আপত্তি করবে না বাংলাদেশ। দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক শেষে দেশে ফিরে সমকালকে এ কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি আরও জানান, ভারতে বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে কেউই এখন ভারতে অবৈধভাবে যায় না। যারা যায়, তারা বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়েই যায়।

দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ভারতের পক্ষ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হলেও কত লোক সেখানে অনুপ্রবেশ করেছে, তার নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি। অন্যদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে ভারতের বক্তব্য একেবারেই গ্রহণ করা হয়নি। এ নিয়ে মতদ্বৈধতার জেরেই এবার দু'দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল সমকালকে বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় তিনি বাংলাদেশের প্রতি খুবই আন্তরিকতা দেখিয়েছেন। গত এক দশকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। মোদি বলেছেন, জঙ্গিবাদ দমন করে বাংলাদেশকে একটা মডেল দেশে রূপান্তর করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ এখন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রোল মডেল এবং এ অভিজ্ঞতা থেকে শেখার জন্য বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে যাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন। কামাল জানান, অমিত শাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল বলেন, আলোচনায় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তের পুরোটা জুড়েই তারা কাঁটাতারের বেড়া দিতে চান। এর জবাবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারত এর আগেও সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে। সেভাবে আইন অনুযায়ী সীমান্তের বাকি অংশে বেড়া দিলে বাংলাদেশের আপত্তি থাকবে না।

কথিত 'অবৈধ অনুপ্রবেশ' নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বাংলাদেশ থেকে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটছে। এর জবাবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, এখন আর বাংলাদেশ থেকে কেউ অবৈধভাবে ভারতে যায় না। কারণ, গত ১০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মাইলফলক স্পর্শ করেছে। মথাপিছু আয় বেড়েছে। বাংলাদেশের অনেকের আত্মীয়স্বজন ভারতে আছেন। তাদের সঙ্গে যারা দেখা করতে যায়, তারা বৈধ পাসপোর্ট-ভিসা নিয়েই যায়। ভারতের পক্ষ থেকেই হিসাব দেওয়া হয়েছে, গত বছর তারা ১৪ লাখ বাংলাদেশি নাগকিককে ভিসা দিয়েছে। এদের বেশির ভাগেরই মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা ছিল। ফলে অনেকে একই ভিসায় একাধিকবার ভ্রমণ করেছেন। সব মিলিয়ে গত বছর প্রায় ২৩ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক বৈধভাবেই ভারতে ভ্রমণ করেছেন। এখানে অবৈধ প্রবেশের কোনো কিছুই নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এটাও জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে এখন চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত গরু আছে। ফলে আমাদের ভারত থেকে গরু নেওয়ারও প্রয়োজন নেই। তিনি আরও জানান, ভারত সঙ্গে মাদকদ্রব্যের চোরাচালান বন্ধ ও জঙ্গি দমনে যৌথ সহযোগিতার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে এবং এতে দু'দেশই একমত হয়েছে।

দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে 'অবৈধ অনুপ্রবেশে'র বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে ছিল না। তবে ভারতের পক্ষ থেকে বৈঠকের শুরু থেকেই এ বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভারতের পক্ষ দাবি করে, বড় সংখ্যায় বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ ঘটছে। বিশেষ করে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিক দিয়ে বেশি অনুপ্রবেশ ঘটছে বলে তারা মনে করে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়নি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করেই জানিয়ে দেওয়া হয়, অবৈধ অনুপ্রবেশের কোনো ঘটনা এখন আর ঘটে না।

© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: ad.samakalonline@outlook.com