টমেটো গাজর শসার দামে 'সেঞ্চুরি'

ঈদের কাঁচাবাজার

১১ আগস্ট ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

কাল ঈদুল আজহা। মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব কোরবানি উপলক্ষে চলছে প্রস্তুতি। রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে শেষ মুহূর্তের পণ্য কেনাকাটা বেশ জমজমাট। গতকাল শনিবার বাজারে ক্রেতার ভিড় ছিল লক্ষণীয়। এই ঈদের রান্নাসামগ্রীর চাহিদা যেমন বেড়েছে, তেমনি পণ্যের দামও বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বেশি চাহিদা থাকায় মসলার দাম সপ্তাহজুড়েই চড়া। গত দু'দিনে টমেটো, শসা ও গাজরের কেজি ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া ভোজ্য তেল, লবণসহ অন্যান্য পণ্য আগের দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে চাহিদা কম থাকায় মুরগি ও ডিমের দাম কমেছে।

গতকাল রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচাবাজারে সবচেয়ে দামি সবজি টমেটো, গাজর ও শসা। চড়া দামের এই তিন সবজির মধ্যে টমেটোর কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। যা দু'দিন আগেও ১০০ টাকা ছিল। দেশি প্রজাতির শসার কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। তবে উচ্চফলনশীল শসার কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। আগে দেশি শসা ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা। মান ও বাজারভেদে গাজরের কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আগের সপ্তাহে গাজর বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। কাঁচামরিচের দাম তেমন বাড়েনি। বন্যার প্রভাবে ২০০ টাকা উঠেছিল। তা এখন কমে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া লেবুর হালির দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। প্রতি হালি লেবু ২০ থেকে ৪০ টাকা। অন্যান্য সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম ছিল চড়া।

মোহাম্মদপুর টাউন হলের সবজি বিক্রেতা মো. জাকির হোসেন জানান, বন্যার প্রভাব ও পরিবহন সংকটের কারণে পাইকারি বাজারে সবজির সরবরাহ কম। এ কারণে বেশি দাম দিয়ে আনতে হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে টমেটো, শসা ও গাজরের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবার দাম অতিরিক্ত বেড়ে গেছে।

গতকাল খুচরা বাজারে বেশিরভাগ মসলার দোকানগুলোতে ক্রেতার ভিড়। চাহিদা বেশি থাকায় খুচরা দোকানগুলোতে আরও বাড়তি দামে বিক্রি হয় মসলা। পাইকারিতে এলাচের কেজি দুই হাজার টাকা থেকে দুই হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়। এবার এলাচ খুচরায় এখন বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। এতে কেজিতে দুই বাজারের দামের ব্যবধান ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। অন্যান্য মসলার দাম পাইকারিতে না বাড়লেও খুচরায় কেজিতে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন দোকানিরা। খুচরায় দারুচিনি মানভেদে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। প্রতি কেজি জিরা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, শাহি জিরা ৫০০ টাকা এবং গোলমরিচ ও লবঙ্গ এক হাজার ২০০ টাকা। অন্যান্য মসলার দামও চড়া। গতকাল প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৩২ থেকে ৩৫ টাকা। প্রতি কেজি দেশি রসুন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। এ ছাড়া চীনা আদা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও দেশি আদা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা।

মিরপুর-১ টাউন হলের বিক্রেতা সফিকুল ইসলাম ও মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারের দোকানি মো. শাওন বলেন, গত বছর কোরবানির ঈদে মসলার দাম তেমন বাড়েনি। কিন্তু এবার ঈদে পাইকারিতে মসলার বেশ বেড়েছে। অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে এলাচের। গতবারের তুলনায় প্রায় তিনগুণ দাম বেড়েছে। অন্য মসলার দামও কিছুটা বেড়েছে।

এদিকে বাজার চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৩০ টাকা কমে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের হালি ডজনে ১০ টাকা কমে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। তবে এখনও গরুর মাংস ৫৪০ থেকে ৫৬০ টাকা ও ছাগলের মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে কমেছে ইলিশের দাম। এক কেজি সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকায়। ছোট সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি। দেড় কেজি ওজনের বড় ইলিশ এক হাজার ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: ad.samakalonline@outlook.com