চট্টগ্রামে জমেছে পশুর হাট, বেড়েছে বিক্রি

১১ আগস্ট ২০১৯

শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে চট্টগ্রামের স্থায়ী ও অস্থায়ী ২০৯টি পশুর হাট। বেপারীরা ব্যস্ত দর হাঁকতে আর ক্রেতারা করছেন দরকষাকষি। হাটে বেড়েছে গরুর সংখ্যা, তেমনি বেড়েছে ক্রেতাও। এতে বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ। কেউ আবার বাজেটের মধ্যে পছন্দের গরু-ছাগল কিনে স্বস্তিতে ফিরছেন বাড়ি। অনেকে ছুটছেন এক হাট থেকে অন্য হাটে। আর ভালো দামে গরু বিক্রি করতে পেরে আনন্দের হাসি দেখা গেছে বিক্রেতাদের মুখেও।

চট্টগ্রামের প্রধান পশুর হাট সাগরিকাসহ বিবির হাট, কাঠগড়, সল্টগোলা, স্টিল মিল, কমল মহাজন হাট, পোস্তারপাড়, বাটারফ্লাই পার্ক সংলগ্ন মাঠের বাজার, হালিশহর (বড়পুল) হাটসহ নগরের বেশকিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে বসা গরুর হাটে গতকাল শনিবার সকাল থেকেই ক্রেতার ভিড় বাড়তে থাকে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থান থেকে গরুবাহী ট্রাক নিয়ে আসছেন বিক্রেতারা। এতে নানা আকারের গরুতে ভরে ওঠে  প্রতিটি হাট। গতকাল সকাল থেকে হাজারো পশুবাহী ট্রাক প্রবেশ করে বিভিন্ন হাটে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা এসব পশুর মধ্যে দেশি গরুর সংখ্যা বেশি।

কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করেন, ঈদের মাত্র এক দিন বাকি থাকলেও গরু বিক্রেতারা এখনও দাম কমাচ্ছেন না। এতে বাজেটের মধ্যে পছন্দের গরু কিনতে ক্রেতাদের ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার ১৫টি উপজেলায় ৬৩টি স্থায়ী এবং ১৪৬টি অস্থায়ী মিলে এবার মোট ২০৯টি পশুর হাট বসেছে। সরকার চলতি বছর ভারত, মিয়ানমার ও নেপাল থেকে গরু আমদানি বন্ধ ঘোষণা করায় চট্টগ্রামের হাটগুলোতে এবার রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, কুষ্টিয়াসহ উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে গরু এনেছেন ব্যবসায়ী ও খামারিরা। চট্টগ্রামে এবার সাত হাজার ৫৭টি খামারে ছয় লাখ ১০ হাজার ২১৯টি পশু রয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকেও আরও কয়েক লাখ পশু চট্টগ্রামে আনা হয়েছে। তাই এবার কোরবানির পশুর ঘাটতি নেই চট্টগ্রামে।

চট্টগ্রাম নগরের দ্বিতীয় বৃহত্তম গরুর বাজার বিবির হাট থেকে গতকাল দুপুরে দেড় লাখ টাকায় পছন্দের গরু কিনে দুই সন্তানকে নিয়ে ফিরতে দেখা গেছে ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলীকে। তিনি বলেন, বাজেটের মধ্যেই পছন্দের গরু কিনতে পেরে ভালো লাগছে।

দেড় ঘণ্টা ধরে বেশ কয়েকটি গরু দেখার পর একটি গরু কেনেন হাটহাজারীর জোবরা এলাকার মহসিন আলম। তিনি বলেন- বাজারে গরু যেমন প্রচুর, ক্রেতাও অনেক। যে বাজেট নিয়ে বাজারে এসেছিলাম, তা দিয়ে গরু মেলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে।

আহসান সুমন নামের এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোরবানির বাকি মাত্র এক দিন। বাজারে প্রচুর গরু আছে। অথচ দাম এখনও ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে বেশি।

নগরের মুরাদপুরের বাসিন্দা রাসেল আহমেদ বলেন, বিবিরহাট বাজারে অনেক গরু দেখেছি। মনে হচ্ছে বেপারীরা ঈদের আগের দিন দাম কমাবেন।

বিবিরহাট বাজারের ইজারাদার মো. হাসান বলেন, ক্রেতাদের সুবিধার্থে বিভিন্ন আকারের প্রচুর গরু-ছাগল আনা হয়েছে। ঈদ বোনাস ও বেতন হাতে পাওয়ায় কয়েকদিনের তুলনায় আজ বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। এতে বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় খুশি বেপারী ও বিক্রেতারা।

সাগরিকা বাজারের ইজারাদার সাইফুল হুদা বলেন, সামান্য লাভে পশু ছেড়ে দিচ্ছেন বিক্রেতারা। বেশিরভাগ ক্রেতাই নির্দিষ্ট বাজেটে গরু কিনতে পেরে স্বস্তি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক সমকালকে বলেন, পশুর প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে ও সার্বিক বিষয় মনিটরিং করতে পশুর ২০৯টি হাটে ৭১টি ভেটেরিনারি টিম দায়িত্ব পালন করছে।

© সমকাল 2005 - 2019

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭ (প্রিন্ট পত্রিকা), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) । ইমেইল: ad.samakalonline@outlook.com