সড়ক খুঁড়ে রাখায় ভোগান্তি

ডুমুরিয়া : ১২ গ্রামে ৩০ হাজার মানুষ বিপাকে

০৭ জুলাই ২০১৮

এম এ এরশাদ, ডুমুরিয়া (খুলনা)

৩০ কিলোমিটারজুড়ে ভদ্রা ও শালতা নদী খননের ফলে বিভিন্ন স্থানে ভরাটি নদীর ওপর নির্মিত ২১টি আড়াআড়ি যাতায়তের বাঁধ বিছিন্ন করা হয়েছে। একই এলাকায় সংস্কারের নামে ৬ কিলোমিটার ইটের সড়ক গত ৫ মাস আগে খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রাখা হয়েছে। চলতি বর্ষার মৌসুমে দ্বিমুখী এ সমস্যায় খুলনার ডুমুরিয়ায় উপজেলার শোভনা ইউনিয়নের ১২টি গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ বিপাকে পড়েছে।

স্থানীয় গ্রামবাসী জানান, ডুমুরিয়া উপজেলা সদর, সাহস, শোভনা, খর্নিয়া, শরাফপুর ও ভাণ্ডারপাড়া- এ ৬টি ইউনিয়নের বুক চিরে ভদ্রা ও শালতা নদী বয়ে গেছে। আশির দশকে এ নদী দুটি ব্যাপক পলি পড়ে ভরাট হতে শুরু করে। নব্বইয়ের দশকে নদী দুটি সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে ভূমিতে পরিণত হয়। এরই ফাঁক গলিয়ে স্থানীয় কিছু লোক ওই ৩০ কিলোমিটার ভরাটি নদীর চর দখল নিয়ে ইটভাটা, মাছের খামার, বাড়িঘর, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা গড়ে তোলে। যাতায়াতের সুবিধার্থে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সরকারি অর্থায়নে ওই ৩০ কিলোমিটার ভরাটি নদীর বুকে বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিত অর্ধশতাধিক আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হয়।

ফলে প্রতি বছর বর্ষার মৌসুমে ওই সব এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। পানি নিস্কাশনের অভাবে এ অঞ্চলের কোটি কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট হয়। সঙ্গে সঙ্গে জীববৈচিত্র্যসহ পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ে। তবে নদীর বুকে বিভিন্ন স্থানে নির্মিত ২১টি সড়ক বিছিন্ন হওয়ায় এলাকাজুড়ে সাময়িক যাতায়াত বিঘ্নিত হচ্ছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্তমান সরকারের বিশেষ উদ্যোগে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে ৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০ কিলোমিটার ভদ্রা ও শালতা নদী পুনঃখনন কাজ চলতি জানুয়ারিতে শুরু করা হয়।

আওয়ামী লীগ নেতা ও শোভনা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সরদার আব্দুল গনি বলেন, উপজেলার ২৬ নম্বর পোল্ডার অর্থাৎ শোভনা ইউনিয়নটি পুরো একটি বদ্বীপের মধ্যে পড়ে গেছে। খননের ফলে বিভিন্ন স্থানে ২১টি নদীর ওপর নির্মিত আড়াআড়ি বাঁধ বিছিন্ন হয়েছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিডি) বিদ্যুৎ কুমার জানান, শোভনা ইউনিয়নে এলজিডির অধীনে সড়ক নির্মাণ কাজে ইট-বালু নিতে সমস্যা হচ্ছে বলে কাজের গতি থমকে গেছে। দ্রুত কাজ শেষ করে সড়কগুলো সচলের চেষ্টা চলছে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খান আলী মুনসুর জানান, সবে মাত্র নদীটি খনন কাজ শেষ হয়েছে। খননকৃত নদীতে বিভিন্ন স্থানে কালভার্ট-ব্রিজ নির্মাণের চেষ্টা করা হবে।

খুলনা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, এলাকার বৃহত্তর স্বার্থে নদী খননের বেশ কিছু অপরিকল্পিত সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়েছে সত্য। এটি সাময়িক সমস্যা। নদীর ওপর বিভিন্ন স্থানে কাঠের ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। আর স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ স্থানীয় প্রশাসনে সমন্বিত প্রচেষ্ট প্রয়োজন।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২০

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ (প্রিন্ট), +৮৮০১৮১৫৫৫২৯৯৭ (অনলাইন) | ইমেইল: samakalad@gmail.com (প্রিন্ট), ad.samakalonline@outlook.com (অনলাইন)