নবীন-প্রবীণের যৌথ প্রচেষ্টায় গড়ে উঠবে মানবিক সমাজ

আলোচনা সভায় বিশিষ্টজন

১৫ অক্টোবর ২০১৭ | Updated ১৫ অক্টোবর ২০১৭

সমকাল প্রতিবেদক


আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় বিশিষ্টজন দেশকে এগিয়ে নিতে নবীন-প্রবীণদের একসঙ্গে পথ চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, প্রবীণরা সমাজে বিস্তৃত পরিসরে অবদান রাখতে পারেন। তারা নিজেদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বয়স কোনো বাধা নয়। তাই প্রবীণদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও একীভূত সমাজ গঠনের কোনো বিকল্প নেই। নবীন-প্রবীণের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই গড়ে উঠবে মানবিক সমাজ।
'আগামীর পথে, প্রবীণের সাথে'- প্রতিপাদ্য নিয়ে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও ফোরাম ফর দ্য রাইটস অব দ্য এল্ডারলি বাংলাদেশ (এফআরইবি)-এর যৌথ উদ্যোগে গতকাল শনিবার
রাজধানীর পিকেএসএফ মিলনায়তনে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। পিকেএসএফ চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে এতে সম্মানিত অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুতফা ডালিয়া, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। এফআরইবির মহাসচিব আবুল হাসিব খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম, এফআরইবির সহসভাপতি মেজর জেনারেল (অব.)
জীবন কানাই দাস ও ড. শরীফা বেগম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডা. সামনুন ফারুখ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রবীণরা কখনোই বোঝা নন। তারা নিজেদের জ্ঞান, বুদ্ধি ও প্রতিভা তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারেন। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে নবীন-প্রবীণ একসঙ্গেই পথ চলতে হবে। তিনি বলেন, সরকার বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ইত্যাদির মাধ্যমে প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় নিয়ে এসেছে।
কানাডার উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, সেখানে বিভিন্ন পেশায় অভিজ্ঞ প্রবীণদের তালিকা করে থাকে বিভিন্ন সংগঠন। প্রয়োজন অনুসারে তাদের কাজে লাগানো হয়। বাংলাদেশেও এ রকম করা যায় কি-না, তা ভাবতে সংশ্নিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
হোসনে আরা লুতফা ডালিয়া বলেন, প্রবীণদের অধিকার রক্ষায় সরকার ২০১৩ সালে নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করেছে। তাদের জন্য যানবাহনে সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা এবং হাসপাতালে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। বৃদ্ধাশ্রম নয়; প্রবীণদের জন্য বিনোদন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
গোলাম সারওয়ার বলেন, বয়স কোনো বাধা নয়। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ৮০ বছর বয়সেও তার অভিজ্ঞতা দিয়ে দেশকে সমৃদ্ধ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বিচারকদের অবসরের বয়সসীমা নেই। একজন বিচারক যতদিন নিজেকে কর্মক্ষম মনে করেন, ততদিন তিনি দায়িত্ব পালন করে যেতে পারেন। তিনি আরও বলেন, প্রবীণদের প্রতি নবীনদের দায়িত্ববোধ বাড়াতে সচেতনতা সৃষ্টি জরুরি। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের দায়িত্ব রয়েছে। সমকাল এ
ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করে যাবে।
কাজী রিয়াজুল হক বলেন, বিস্তৃত পরিসরে প্রবীণরা অবদান রাখতে পারেন। এ জন্য তাদের গঠনমূলক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। ইতিমধ্যে সরকার প্রবীণবান্ধব আইনও করেছে। তবে দেশে অনেক আইন থাকলেও তা মানা হয় না। তাই আইনের প্রয়োগ ও বাস্তবায়নে সরকারকে কঠোর নজরদারি করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, দেশে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে। এ কারণে বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানদের অবহেলার ঘটনা সামনে আসে। তবে শিক্ষার মাধ্যমে এই অবক্ষয় ঠেকানো সম্ভব। শিক্ষানীতিতে নৈতিকতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পাঠ্যপুস্তকও রচিত হয়েছে।
প্রবীণদের জন্য পিকেএসএফের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না। নবীন-প্রবীণ সবাইকে ন্যায্যভাবে যুক্ত করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে গড়ে উঠবে মানবিক সমাজ।
মূল প্রবন্ধে ডা. সামনুন ফারুখ প্রবীণদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে তাদের সামাজিক অংশগ্রহণ বাড়ানো, 'ওল্ড পিপল অ্যাসোসিয়েশন' গড়ে তোলা, তাদের নিয়ে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও কর্মক্ষমতার বয়স নির্ধারণের প্রতি আলোকপাত করেন।
আবদুল করিম বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রবীণদের অধিকার স্বীকৃতি পাচ্ছে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রবীণদের জন্য সামাজিক উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা বলেন মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাই দাস। অনুষ্ঠানে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন সারাদেশ থেকে আগত নবীন-প্রবীণরা। তারা প্রবীণদের জন্য ফিজিও থেরাপির সুযোগ সম্প্রসারিত করা, পিতা-মাতার ভরণপোষণের জন্য সচেতনতা বাড়ানো, যানবাহনে আসন সংরক্ষণ এবং হাসপাতালে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান। গত ১ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী প্রবীণ দিবস পালন করা হয়।

© সমকাল 2005 - 2018

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫, ৮৮৭০১৯৫, ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১, ৮৮৭৭০১৯৬, বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০ । ইমেইল: info@samakal.com