সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পরিত্যক্ত কারাগারে রেখে অসুস্থতার দিকে ঠেলে দিয়েছে- এমন অভিযোগ করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে শুধু নয়, তাকে জীবন থেকে নিশ্চিহ্ন করতে উঠেপড়ে লেগেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি একথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দাবিতে জাতীয়তাবাদী যুবদল এই সমাবেশের আয়োজন করে।

কারাগারে থাকা অবস্থায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে 'স্লো-পয়জনিং' করা হয়েছিল কি-না– এমন প্রশ্ন তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, যারা গুম খুন করছে , ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে, তাদের দ্বারা কোনোকিছু অসম্ভব নয়।

তিনি বলেন, হাসপাতালে রেখেও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না করায় আজ দেশনেত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়েছেন। খালেদা জিয়া এতটাই অসুস্থ যে তাকে দেশে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মন্ত্রীরা চাইলেও একজনের কারণে বিদেশ যেতে পারছেন না খালেদা জিয়া। মন্ত্রীরা বলছেন, জনগণ বলছে, সবাই বলছে, বিদেশি চাপ আছে, কিন্তু তিনি কারো কথা শুনছেন না। শুধুমাত্র প্রতিহিংসার কারণে তিনি কারো কথা শুনছেন না।

দেশে গণতন্ত্র নেই দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের গণতন্ত্রের সভায় বাংলাদেশের নাম না থাকায় এটা প্রমাণ হয়েছে।

সমাবেশ থেকে হরতাল কর্মসূচি ঘোষণার আহ্বান জানানো হলে কিছু ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কৌশলগতভাবে কর্মসূচি পালন করতে হবে, সবাইকে রাস্তায় নামতে হবে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারকে বাধ্য করা হবে।

যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসানের পরিচালায় সমাবেশে বিএনপি মহানগর উত্তরের আহবায়ক আমান উল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহবায়ক আবদুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্লাফিজুর রহমান, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুল, যুব দলের মোরতাজুল করীম বাদরু, আলী আকরব চুন্নু, মোনায়েম মুন্নাসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।