অবিলম্বে ফিলিস্তিনি গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনি জনগণের আবাসভূমি তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার এবং মার্কিন-ইসরায়েল সাম্রাজ্যবাদী জায়নবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এই জোট।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমাবেশ থেকে এই আহ্বান জানানো হয়।

মার্কিন মদদপুষ্ট জায়নবাদী ইসরায়েল কর্তৃক মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী অশান্তি সৃষ্টি, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের হত্যা ও ফিলিস্তিনিদের বসতবাড়ী উচ্ছেদ বন্ধ এবং তাদের আবাসভূমি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে এই সমাবেশ আয়োজন করা হয়। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, সিপিবির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড আবদুল্লাহেল কাফি রতন, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড মানস নন্দী, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের নেতা কমরেড নজরুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা কমরেড বাচ্চু ভূইয়া, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির নেতা কমরেড শহীদুল ইসলাম সবুজ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি কমরেড হামিদুল হক।

সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদ ঢাকা মহানগরের সদস্য সচিব জুলফিকার আলী। সমাবেশে শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৭৩ বছর ধরে ফিলিস্তিনিদের আবাসভূমি অবৈধভাবে দখল করে প্রতিষ্ঠিত ইসরায়েলি জায়নবাদী শক্তি স্বাধীন-সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ওপর আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। এ সময়কালে হাজার-হাজার নারী-পুরুষ-শিশু মৃত্যুবরণ করেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর গুলি, বোমা হামলা ও নির্যাতনে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো এই সন্ত্রাসী তৎপরতায় প্রত্যক্ষভাবে মদদ জুগিয়ে চলছে। জাতিসংঘ পালন করেছে নীরব ভূমিকা।

তারা বলেন, গত শুক্রবার থেকে প্রায় ছয় দিন ধরে ইসরায়েলি বাহিনী পুনরায় এই বর্বরেচিত হামলা শুরু করেছে। মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে বোমা হামলা চালিয়ে প্রায় ২০ জন নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে, হামলা করে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে গাজায় ১২ তলা একটি ভবন। এরই মধ্যে নিহত হয়েছেন ১৬ শিশুসহ ৬৭ জন নিরীহ ফিলিস্তিন নাগরিক। রমজান মাসে এ ধরনের হামলা সারা বিশ্বের মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত কার্যক্রম যখন শেষ পর্যায়ে সে সময়ে এ ধরনের হামলা চালিয়ে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ঘোরানোর জন্যই এ হামলা বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ীভাবে অশান্তি সৃষ্টি করে নিজেদের অস্ত্রের বাজার ও ব্যবসাকে রমরমা রাখতে, তেলসম্পদসহ প্রাকৃতিক ও খনিজসম্পদ লুটপাট করতেই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এতে উৎসাহ যোগাচ্ছে। আর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর চাপে জাতিসংঘ পালন করছে নির্লিপ্ত ভূমিকা। তারা অবিলম্বে এই হামলা ও গণহত্যা বন্ধ করার আহ্বান জানান।

বক্তারা বাংলাদেশ সরকারের প্রতিও আহ্বান জানান বিশ্বশান্তির পক্ষে এবং জায়নবাদী ইসরায়েলের এই বর্বর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান নেওয়ার জন্য। এ ছাড়া সৌদি সামরিক জোটে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ তার জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে উল্লেখ করে তারা তাদের বক্তব্যে অবিলম্বে সৌদি জোট থেকে বাংলাদেশি সৈন্য ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

অনতিবিলম্বে এই হামলা-গণহত্যা বন্ধ এবং বাংলাদেশ সরকার এই জায়নবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান না নিলে ঈদের পরে বাম জোট মার্কিন দূতাবাস অভিমুখে বিক্ষোভের কর্মসূচি দেবেন বলেও বাম জোট নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

মন্তব্য করুন