নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত দেশে পরিপূর্ণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষের কথা বলার অধিকার যেমন আসবে না, তেমনি নারী অধিকারও প্রতিষ্ঠা পাবে না।’

সোমবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর তোপখানা রোডের শিশু কল্যাণ পরিষদের মিলনায়তনে নাগরিক নারী ঐক্যের আয়োজনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘দেশের শাসন ক্ষমতায় নারী অধিষ্ঠিত থাকলেও বাংলাদেশে আজ নারী অধিকার ভুলুণ্ঠিত। কিছুদিন আগেও বাংলাদেশ ছিল ধর্ষণের স্বর্গরাজ্য। বিশ্ব নারী দিবসের যে স্লোগান: নারী নেতৃত্বে করোনাকালে বৈষম্যের অবসান হবে। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টোটা হয়েছে। দেশে বৈষম্য এবং দারিদ্র আরও বেড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছে এই সরকার। শুধুমাত্র ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করার কারণে লেখক মোশতাককে কারাগারে জীবন দিতে হয়েছে; কার্টুনিস্ট কিশোর নির্যাতনের কারণে হাসপাতালে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রকৃতপক্ষে সরকারের ক্ষমতাকে নিরাপদ করার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর তার বিপরীতে ভিন্নমত দমন করার নিষ্ঠুর পায়তারা চলছে। ৫৭ ধারা বাতিল করে আরো কালো আইন বলবৎ করা হয়েছে, যার নাম ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এই আইন বাতিল করার কোনো বিকল্প নেই।’

মান্না বলেন, ‘এই সরকার গণতন্ত্রকে পরিপূর্ণভাবে হত্যা করেছে, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করেছে; গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার পরিবর্তনের সমস্ত সম্ভাবনার দ্বার এখন বন্ধ। এজন্যই আগামী দিন গণআন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে অপসারণ করে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

নাগরিক ঐক্যের প্রধান উপদেষ্টা এস এম আকরাম বলেন, ‘এই সরকার শুধু অগণতান্ত্রিক নয়, এ সরকার অবৈধ। এরা কোনো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি। ৩০ ডিসেম্বরের ভোট তারা প্রশাসনকে ব্যবহার করে আগের রাতে ডাকাতি করে নিয়ে গেছে। আর এই দুই বছরে স্থানীয় সরকার সমুহের নির্বাচনে নির্জলা ভোট ডাকাতি করে তারা ভোট ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। যত তাড়াতাড়ি এই সরকারকে বিদায় করা যায় ততই এই দেশের মঙ্গল।’

সংগঠনের সভাপতি শাহনাজ রানু সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, দলটির নেতা শহীদুল্লাহ কায়সার, মমিনুল ইসলাম, লুৎফুন নাহার মিনু, নাগরিক নারী ঐক্যের নেত্রী ফেরদৌসী আক্তার প্রমুখ।