স্ত্রীর পাশে শায়িত হলেন আবদুল মান্নান

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান ও বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নানকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। বুধবার চার দফা জানাজা নামাজ শেষে স্ত্রীর কবরের পাশে তাকে শায়িত করা হয়। 

এর আগে আবদুল মান্নানের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিএনপি। সকালে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার কফিন নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আনার পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ সিনিয়র নেতারা পুস্পস্তবক অর্পণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। 

এ সময়ে তার কফিন দলীয় পতাকা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। ঢাকা জেলাসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তার কফিনে ফুল দেওয়া হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বের আগে নয়া পল্টনের কার্যালয়ের সামনে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহাসচিব ছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, দলের চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা ও মরহুমের জামাতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, মীর সরফত আলী সপু, কায়সার কামাল, আবদুস সালাম আজাদ, রফিক শিকদার, ইশরাক হোসেন, খন্দকার আবু আশফাক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকনসহ কয়েকশ’ নেতাকর্মী অংশ নেন। 

মরহুমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আবদুল মান্নান শুধু দলের ভাইস চেয়ারম্যানই ছিলেন না, তিনি এদেশের একজন প্রতিথযশা জ্ঞানী মানুষ ছিলেন, তিনি মন্ত্রী ছিলেন, সংসদ সদস্য ছিলেন এবং অত্যন্ত যোগ্য একজন পুরুষ ছিলেন। এরকম সৎ, আন্তরিক, নিষ্ঠাবান ও যোগ্য মানুষকে রাজনীতিতে খুব কম দেখেছি।

নয়াপল্টন থেকে পরে বেলা ১২টায় ধানমন্ডি ঈদগাহ মাঠে, বেলা ৩টায় নবাবগঞ্জের রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এবং বেলা ৪টায় দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে সন্ধ্যা ৬টার দিকে আজিমুপর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এসময়ে আবদুল মান্নানের নিকটাত্মীয়সহ ঢাকা জেলা যুবদল সভাপতি রেজাউল করিম পল, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় বার্ধক্যজনিত কারণে ৭৮ বছর বয়সে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি মারা যান। দীর্ঘদিন কিডনি, ডায়াবেটিক, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া সরকারের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন আবদুল মান্নান। ঢাকা-২ আসনে (নবাবগঞ্জ- দোহার) ১৯৯১ সালে থেকে চারবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির সংসদ নির্বাচিত হন তিনি।