সিটিতে ইভিএমে নয়, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোট নিন: বিএনপি নেতারা

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২০      

সমকাল প্রতিবেদক

ছবি: সমকাল

ঢাকা সিটি নির্বাচনে ইভিএম নয়, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোট নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলেছেন, রাতের ভোটের পর এখন ইভিএম নামের নতুন এক কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। এই ইভিএম দিয়ে নির্বাচন হবে না। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে নির্বাচন করতে হবে। রোববার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় নেতারা এসব কথা বলেন।

সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব মানুষকে সংগঠিত করতে পারলে এই সিটি নির্বাচনে অবশ্যই বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারবেন।

দলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আসুন, আগামী দিনগুলোতে নিজেদের আরও সংঘবদ্ধ করি। জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্দীপ্ত হয়ে খালেদা জিয়ার অনুপ্রেরণায় সামনের দিকে এগিয়ে যাই।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। ১৯৭২-১৯৭৫ সালে তারা গণতন্ত্রবিরোধী কাজ করেছে। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেও সুপরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে ফেলেছে। এখান থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, আজকে বিএনপির দায়িত্ব অনেক, যুবকদের দায়িত্ব অনেক; তরুণদের দায়িত্ব অনেক। খালেদা জিয়াকে যদি মুক্ত করতে হয়, গণতন্ত্রকে যদি মুক্ত করতে হয়; তারেক রহমানকে যদি দেশে ফিরিয়ে আনতে হয়, তাহলে দুর্বার গণআন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ জানে, জিয়াউর রহমানের সফলতাগুলো মানুষের সামনে এলে, বর্তমান প্রজন্মের সামনে এলে আওয়ামী লীগের মিথ্যাচারের রাজনীতি কেউ বিশ্বাস করবে না। তাই আওয়ামী লীগ ইতিহাসকে বিকৃত করছে। জিয়াউর রহমানকে, তার পরিবারের সদস্যদের ও বিএনপিকে নানাভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তারা উঠেপড়ে লেগেছে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা সেই ১৯৭২-৭৫-এর মতোই। খুন হলে কথা বলা যাবে না। জখম হলে কথা বলা যাবে না। শেয়ার মার্কেটের কয়েক হাজার কোটি টাকা লুট হয়ে গেল- কথা বলা যাবে না। তিনি বলেন, এ অবস্থায় দেশের প্রত্যেক নাগরিককে জিয়াউর রহমান হয়ে যেতে হবে। নইলে এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা যাবে না।

মহাসচিবের সভাপতিত্বে এবং শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও আমিরুল ইসলাম খান আলিমের পরিচালনায় এ আলোচনা সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ বক্তব্য দেন। এ ছাড়া অঙ্গসংগঠনের মধ্যে যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মহিলা দলের জেরিন খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, ছাত্রদলের ইকবাল হোসেন শ্যামল, ওলামা দলের শাহ নেছারুল হক, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহীম বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, নুরী আরা সাফা, মাহবুবুল হক নান্নু, মাশুকুর রহমান মাশুক, সেলিমুজ্জামান সেলিম, হায়দার আলী লেলিন, তকদীর হোসেন জসিম, রফিক শিকদার, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বিলকিস ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমীন, কাজী মনিরুজ্জামান মনির, রফিকুল ইসলাম মাহতাব, আকরামুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।