নির্বাচন কমিশন একেবারেই ব্যর্থ ও অযোগ্য: ফখরুল

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২০     আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২০      

সমকাল প্রতিবেদক

জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা -সমকাল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন একেবারেই ব্যর্থ এবং অযোগ্য। 

রোববার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সামনে এ মন্তব্য করেন তিনি। এসময় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীসহ বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিবাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে একেবারেই ব্যর্থ এবং অযোগ্য। তার প্রমাণ হচ্ছে সিটি নির্বাচনের তারিখ তারা নির্ধারণ করে রেখেছিল সেদিন ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা। বড় সমস্যা হচ্ছে যেখানে নির্বাচনী কেন্দ্রগুলো হয় সেখানেই পূজা হয়। এতে করে বড় ধরণের সমস্যা হতে পারতো। কিন্তু এসব চিন্তা না করে তারা তারিখ নির্ধারণ করোছে। নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতার কারণেই এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়। 

বিএনপি মহাসচিব বলেন বলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের। আমরা যখন  জিয়াউর রহমানের জন্মদিবস পালন করছি, তখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে মিথ্যাবাদী আওয়ামী লীগ সরকার কারাগারে আটকে রেখেছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিদেশে নির্বাসিত করে রেখেছে। লাখ লাখ বিএনপির নেতা কর্মীকে তারা মিথ্যা মামলা দিয়েছে, হত্যা করেছে, গ্রেপ্তার করেছে, গুম করেছে, খুন করেছে। দেশটাকে একটা অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে তারা।

ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ দেশে অত্যাচার নির্যাতনের স্টিমরোলার চালিয়ে যাচ্ছে। আজকে এখানে শপথ নিয়েছি যেকোন ত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই দেশকে এবং গণতন্ত্রকে মুক্ত করব। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো এবং জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশকে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব।

মির্জা ফখরুল বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র মানেই তো সবার সমান সুযোগ। আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর থেকে দেশের সকল গণতান্ত্রিক স্তরগুলোকে সংকুচিত করে ফেলেছে। স্পেসগুলো বন্ধ করে দিয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। আজকে এই ঢাকা সিটি নির্বাচনে একটি দলের প্রার্থীরা বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে, কারণ একটি অযোগ্য নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নিতে সক্ষম নয়। এবং তাদের সেই যোগ্যতা নেই। 

তিনি আর বলেন, ইভিএমে নির্বাচন করার মানে হচ্ছে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়ার আরেকটা অপকৌশল। জনগণের রায় কখনো ইভিএমের মাধ্যমে জনগণের সামনে আসবে না। ইভিএম ব্যবহার হচ্ছে একটা ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা। পৃথিবীর কোন দেশেই এই ব্যবস্থাকে ত্রুটিহীন সিস্টেম বলা যায় না। ব্যালটের মাধ্যমে যদি ভোট দেয়া হয় সেটাই জনগণের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা। জনগণ ভোট দিলে চুরি-ডাকাতি না হলে মোটামুটি একটা ফল পাওয়া যায়। কিন্তু ইভিএমে যথেষ্ট ত্রুটি আছে ভোটের ফলাফলকে পরিবর্তন করার।