ফাঁসির আসামি জাপার যুগ্ম মহাসচিব

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২০     আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ     

ইজাজ আহ্‌মেদ মিলন, গাজীপুর

নূরুল ইসলাম দীপু

গাজীপুরের তৎকালীন সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ মাথায় নিয়ে ইউরোপের নানা দেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন নূরুল ইসলাম দীপু। ফেরারি এই আসামিকে দলের যুগ্ম মহাসচিব পদ দিয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের শুক্রবার ১৪ জন যুগ্ম মহাসচিবের নাম ঘোষণা করেন। সেই তালিকার ৩ নম্বরে রয়েছে গাজীপুরের নূরুল ইসলাম দীপুর নাম। বিদেশে পালিয়ে থেকে এতদিন জাতীয় পার্টির সহআন্তর্জাতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।

আহসান উল্লাহ মাস্টারকে ২০০৪ সালের ৭ মে বাড়ির পাশের নোয়াগাঁও এম এ মজিদ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে ঘাতকরা। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান বাদী হয়ে টঙ্গী থানায় জাতীয় ছাত্র সমাজের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম দীপুকে প্রধান আসামি করে ৩০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল টঙ্গীর গোপালপুর এলাকার রফিকুল ইসলাম ওরফে রফু কন্ট্রাক্টরের ছেলে নূরুল ইসলাম দীপুসহ ২২ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে ২০১৬ সালের ১৫ জুন উচ্চ আদালত দীপুসহ ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

হত্যার ঘটনার পর থেকেই ফেরারি দীপু। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে বিদেশে গিয়ে ব্যবসা করছেন দীপু। পাশাপাশি রয়েছেন জাপার সহআন্তর্জাতিক সম্পাদকের দায়িত্বে। এরই মধ্যে জাতীয় পার্টি দীপুকে যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব দিয়েছে।

জাপার এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ মামলার বাদী মতিউর রহমান বলেন, আহসান উল্লাহ মাস্টারের খুনি পলাতক দীপুকে পদ দিয়ে জাতীয় পার্টি চিহ্নিত একজন অপরাধীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। জাপার উচিত ছিল তাকে ধরে আইনের হাতে সোপর্দ করা। জাপার এমন সিদ্ধান্তকে ধিক্কার জানিয়ে মতিউর বলেন, মামলার প্রধান আসামি দীপুর বিচার দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানাই। সাজাপ্রাপ্ত দীপুকে জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকেই গাজীপুরে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ধিক্কার জানিয়ে নানা রকম পোস্ট দিচ্ছেন। মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক রাসেল সরকার বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এমন একজন ঘাতককে কীভাবে জাপা এই পদে অধিষ্ঠিত করল? এ নিয়ে ঘৃণা জানানো ছাড়া আর কোনো ভাষা নেই।