শ্রমিক লীগের জাতীয় সম্মেলন শনিবার, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

জাতীয় শ্রমিক লীগের জাতীয় সম্মেলন আগামীকাল শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে বিকেল ৩টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশনে সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ও ঘোষণা করা হবে।

আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রতীম এই সংগঠনের সম্মেলনের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ও ৯টি উপ-কমিটির নেতারা তাদের কাজ গুছিয়ে এনেছেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল সম্মেলনমঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণ ছাড়াও সম্মেলনস্থল ও আশপাশের সড়কগুলোকে বর্ণাঢ্য সাজে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সারাদেশে সংগঠনের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলা থেকে ৮ হাজার কাউন্সিলর ও সমসংখ্যক ডেলিগেটস সম্মেলনে যোগ দেবেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতারাসহ কয়েকজন বিদেশি অতিথি এতে উপস্থিত থাকবেন।

১৯৬৯ সালের ১২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত জাতীয় শ্রমিক লীগ আগে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বলে বিবেচিত হতো। তবে নির্বাচন কমিশনের গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ-২০০৮ এর বিধিমালা অনুযায়ী দলীয় গঠনতন্ত্র সংশোধন করায় এই সংগঠনসহ ছাত্রলীগ সহযোগী সংগঠনের মর্যাদা হারায়। অবশ্য সংগঠন দুটি ভাতৃপ্রতীম সংগঠনের মর্যাদা পাচ্ছে। 

২০১২ সালের ১৯ জুলাই শ্রমিক লীগের সর্বশেষ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক নেতা শুকুর মাহমুদ সভাপতি এবং জনতা ব্যাংক ট্রেড ইউনিয়নের নেতা সিরাজুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুই বছরের জন্য বর্তমান কমিটি নির্বাচিত হলেও এবার দীর্ঘ সাত বছরের বেশি সময় পর জাতীয় সম্মেলন হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর সম্মেলন হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। সেই সঙ্গে পরবর্তী নেতৃত্বে কারা আসছেন- এ নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৩৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

সংগঠনের বর্তমান সভাপতি শুকুর মাহমুদ একই পদে আবারও নির্বাচিত হতে চাইছেন। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের নামও সভাপতি পদের আলোচনায় রয়েছে। এই পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আরও নাম শোনা যাচ্ছে- বর্তমান কমিটির কার্যকরী সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মন্টু, সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান আকন্দ, আমিনুল হক ফারুক, মোল্লা আবুল কালাম আজাদ, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ।

সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে বর্তমান কমিটির এক ডজনের বেশি নেতা জোর লবিংয়ে নেমেছেন। তারা হচ্ছেন- বর্তমান কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান সিরাজুল ইসলাম, সফর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল আলম মিল্কি, তোফায়েল আহমেদ, প্রচার সম্পাদক কে এম আজম খসরু, দপ্তর সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক সুলতান আহম্মেদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, শিল্প ও সাহিত্য সম্পাদক আলাউদ্দিন মিয়া, শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ সম্পাদক কাওছার আহমেদ পলাশ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোতালেব হাওলাদার, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহাবুদ্দিন খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব মোল্লা প্রমুখ।