ছাত্রদলের কাউন্সিল ঘিরে পদ প্রত্যাশীদের তৎপরতা

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০১৯      

কামরুল হাসান

ছাত্রদলের কাউন্সিল ঘিরে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। জেলা-উপজেলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাচ্ছেন সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা। ভোট চাওয়ার পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন জোরদার করতে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা।

সারাদেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের ছাত্রদলের ১১৭টি সাংগঠনিক ইউনিটের ৫৮০ জন কাউন্সিলরের ভোটে এবার সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন। তৃণমূল পর্যায়ের এসব প্রতিনিধির নিয়ন্ত্রণকারী বিএনপি নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন পদপ্রত্যাশী নেতারা।

২৭ বছর পর আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল হবে। এদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দুই পদের নেতা নির্বাচনের ভোট নেওয়া হবে।

গত শনিবার ও রোববার শীর্ষ এ দুই পদের জন্য ১০৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তাদের মধ্যে সভাপতি পদে ৪২ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৬৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত সোম ও মঙ্গলবার ৭৬ জন মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। যাদের মধ্যে মধ্যে রয়েছেন সভাপতি পদপ্রার্থী ২৭ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ৪৯ জন।

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে আগামী সোমবার পর্যন্ত যাচাই-বাছাই শেষে ২ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ৩১ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।

নির্বাচন পরিচালনার জন্য ছাত্রদলের সাবেক নেতা খায়রুল কবির খোকনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, ফজলুল হক মিলনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি এবং শামসুজ্জামান দুদুর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল কমিটি গঠন করে বিএনপি।

ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল আলম টিটু এরই মধ্যে একবার জেলা সফর শেষ করে আবারও যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম ফকির লিংকন জানান, তিনি ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। সভাপতি পদে নির্বাচিত হতে পারলে সংগঠনকে আন্দোলনমুখী করতে ঢেলে সাজাবেন বলে জানান তিনি।

বৃত্তি ও ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ জানান, তিনি ওয়ান-ইলেভেন থেকে দলের প্রতিটি আন্দোলনে সক্রিয় রয়েছেন। জিয়া পরিবার ও দলের যে কোনো নির্দেশনায় মাঠে ছিলেন।

সাজিদ হাসান বাবুও ব্যস্ত রয়েছেন নির্বাচনী প্রচারকাজে। মেহেদী আল তালুকদারও ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন নির্বাচনে। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সাইফ মাহমুদ জুয়েল এরই মধ্যে চার বিভাগ সফর করেছেন। আমিনুল ইসলাম আমিনও গেছেন চার বিভাগে। শেখ আবু তাহেরও ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। একইভাবে কাজ করছেন তানজিল হাসান।

সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, ছাত্রদলের কাউন্সিল ঘিরে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে পুরো সংগঠন। প্রার্থীদের মতো তাদের অনুসারীরাও যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে। অতীতে আন্দোলন ও কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার প্রমাণ উপস্থাপন করছেন। প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোও। একই সঙ্গে গুজব-গুঞ্জন ছড়িয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগারও করছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা।

এদিকে দলের হাইকমান্ড মনে করছেন, অতীতে সিন্ডিকেটনির্ভর নেতা নির্বাচনের কারণে আন্দোলন কিংবা দলের কর্মসূচিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। একটি পক্ষ সক্রিয় হলে অপর পক্ষ নিষ্ফ্ক্রিয় থেকেছে। সক্রিয় পক্ষকে ব্যর্থ করতে ভূমিকা পালন করেছে অন্যরা। এ পরিস্থিতি থেকে দলকে রক্ষা করতে বলা হচ্ছে, ত্যাগী আর দলের হাইকমান্ডের প্রতি অনুগত ছাত্রনেতাদের দিকে ফোকাস করতে।

অতীতে কে বা কারা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, কোন প্রার্থী বিবাহিত কিংবা নিষ্ক্রিয় কে- এসবের চুলচেরা বিশ্নেষণ করছেন দলের হাইকমান্ড থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতাকর্মীরা। ভোটারদের বার্তা দেওয়া হচ্ছে, সিন্ডিকেটের নির্দেশনা থেকে বেরিয়ে এসে স্বাধীনভাবে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে। বলা হচ্ছে, জিয়া পরিবার ও দলের প্রতি অনুগতদের বেছে নিতে।

দলের হাইকমান্ডের এমন মনোভাবে বিভিন্ন সিন্ডিকেটের অনেক নেতা নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। এমনকি নিজেদের ফোন নম্বর পর্যন্ত পরিবর্তন করেছেন কিংবা বন্ধ রেখেছেন। আবার অনেকে কৌশলে তৎপর রয়েছেন। ভোটের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে বিভিন্ন জেলায় যোগাযোগ করছেন, ফোন করছেন।

ফেনী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাহ উদ্দিন মামুন সমকালকে জানান, তৃণমূলের ভোটে নেতা নির্বাচিত হওয়ার সিদ্ধান্তে তারা সবাই আনন্দিত। এর ফলে কেন্দ্রের সঙ্গে তাদের শক্ত সেতুবন্ধ তৈরি হবে। তিনি বলেন, যে প্রার্থী দৃঢ়তার সঙ্গে রাজপথের আন্দোলনে থাকতে পারবেন, তাকেই ভোট দেবেন তারা।

বরিশাল মহানগর সভাপতি রেজাউল করিম রনি বলেন, দলের এ দুঃসময়ে ছাত্রদলের কাউন্সিলকে তারা খুবই গুরুত্ব দিচ্ছেন। কোনো বড় ভাই বা নেতার কথায় তারা ভোট দেবেন না। যারা দলের আন্দোলনে সরাসরি মাঠে থাকতে পারবেন, নেতৃত্ব দিতে পারবেন, তাদেরই ভোট দেবেন।