প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটকে 'গণবিরোধী বাজেট' আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। নেতারা বলেছেন, এই বাজেটে অর্থ পাচারকারীকে শাস্তি না দিয়ে এবং ওই টাকা উদ্ধার না করে পাচার করা অর্থ নামমাত্র কর দিয়ে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাই এ বাজেট অনৈতিক ও টাকা পাচারে উৎসাহ সৃষ্টিকারী বাজেট।

শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমাবেশে নেতারা এসব কথা বলেন। বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো এবং 'আওয়ামী ফ্যাসিবাদী' সরকারের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে বাম জোট ঘোষিত দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়।
বাম জোটের সমন্বয়ক ও ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সিপিবির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা বিধান দাস প্রমুখ। পরিচালনা করেন সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. সাজেদুল হক রুবেল।
নেতারা বলেন, বড় ও ঘাটতি এই বাজেট পূরণ করতে সাধারণ মানুষের কাঁধে করের বোঝা চাপানো হবে। এমনিতে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে চিড়েচ্যাপটা সাধারণ জনগণ আরও বিপদে পড়বে। বৈষম্য আরও বাড়বে।
প্রস্তাবিত বাজেট বাতিল ও জনবান্ধব বাজেট প্রণয়নের দাবি জানিয়ে নেতারা বলেন, বর্তমান সংকটে নিত্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে রেশন ব্যবস্থা ও ন্যায্যমূল্যের দোকান চালু করতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও শ্রমিকের নূ্যনতম মজুরি নির্ধারণ ও সরাসরি সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে। জনগণের ওপর করের বোঝা কমাতে হবে। মুক্তবাজারের নামে লুটপাটের অর্থনীতি বজায় রেখে জনবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করা যাবে না। এর বিরুদ্ধে বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তি সমাবেশ গড়ে তুলে লুটপাটকারীদের হাত থেকে দেশ বাঁচাতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান নেতারা।
সমাবেশের আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জমায়েত শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি তোপখানা রোড, পল্টন, শহীদ নূর হোসেন স্কয়ার, জিপিও ও বায়তুল মোকাররম হয়ে পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়।
নেতারা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে কনটেইনার ডিপোয় অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ম্ফোরণের জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহত-আহতদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।