ময়মনসিংহের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও শিক্ষানগরী ভালুকা। অথচ উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ দুই কর্মকর্তা ছুটিতে রয়েছেন। তাদের জায়গায় সপ্তাহে দু'দিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ত্রিশালের এসিল্যান্ড ও গফরগাঁওয়ের ইউএনও। এ কারণে সরকারি সেবা পেতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে উপজেলাবাসীকে।

ভালুকা উপজেলায় রয়েছে দুই শতাধিক শিল্প কারখানা, যার অধিকাংশই রপ্তানিমুখী। এছাড়া নির্মাণাধীন রয়েছে প্রায় ৩০০ শিল্প প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার নগরী হিসেবে খ্যাত ভালুকা। শিল্পসমৃদ্ধ এ উপজেলায় রয়েছে অন্তত ১৩-১৪ লাখ মানুষের বাস। অথচ এ উপজেলার শীর্ষ দুটি প্রশাসনিক পদ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। দু'জনই ছুটিতে রয়েছেন। এ কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) দুটি পদে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিয়ে খুঁড়িয়ে চলছে প্রশাসনিক কার্যক্রম।

উপজেলা ভূমি অফিস থেকে জানা গেছে, ভালুকায় বছরে ৫ থেকে ৬ হাজার নামজারি-জমা খারিজ ও ১ হাজারের ওপরে মিস-মোকদ্দমা হয়ে থাকে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে নিয়মিত কর্মকর্তা থাকলেও এ বিশালসংখ্যক নামজারি ও মিস-মোকদ্দমা যাচাই-বাছাই, একাধিক শুনানি ও সরেজমিন প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা প্রায় অসম্ভব। এছাড়া উপজেলায় রয়েছে বিশাল পরিমাণ বনভূমি। বনভূমি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমির অধিকাংশের সীমানা নির্ধারণ না থাকায়, এফএসও আদালতের রায়ের নির্দেশনায় রয়েছে যৌথ জরিপসহ অন্যান্য দাপ্তরিক কাজ। যেখানে নিয়মিত কর্মকর্তা থাকলেও সব কাজ সময়মতো সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না।

ভালুকার এসিল্যান্ড আব্দুল্লাহ আল বাকিউল চলতি বছরের মে মাসে উচ্চতর আইন প্রশিক্ষণের জন্য ছুটি নিয়ে ঢাকায় চলে যান। সেখানে প্রতি সপ্তাহের সোম ও বুধবার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন ত্রিশালের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। উপজেলা ভূমি অফিসে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেবাপ্রত্যাশীদের ভিড় থাকে প্রতিদিন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

চলতি মাসে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে গেছেন ইউএনও সালমা খাতুন। তার জায়গায় সপ্তাহে বুধ ও বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন গফরগাঁওয়ের ইউএনও আবিদুর রহমান।

ভালুকার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনরত ইউএনও আবিদুর রহমান বলেন, একাই সব দেখা তো সম্ভব নয়। তবে সবার সহযোগিতা পেলে দায়িত্ব পালনে তেমন অসুবিধা হবে না। একা হলেও দুই উপজেলার জনগণকেই কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।

ভালুকা উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, ভালুকার মতো এলাকায় দীর্ঘদিন অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিয়ে চলতে পারে না। উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের প্রায় সব কাজই নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু উপজেলা ভূমি অফিসে দক্ষ কর্মকর্তা না থাকলে অনেক কাজই অতিরিক্ত কর্মকর্তা দিয়ে করা সম্ভব নয়।