পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে নকলা উপজেলার ৮নং চর অষ্টাধর ইউনিয়নের দক্ষিণ নারায়ণখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অনেক স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। ওই এলাকার প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক বছরে ভিটে-মাটি হারিয়ে সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়েছেন অনেকেই। বর্তমানেও নদীর তীরের অনেক বাসিন্দা ভাঙন আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রোধে বালির বস্তা ফেলে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও তা সফল হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে দক্ষিণ নারায়ণখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে অংশ নেন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্কুলের শতাধিক শিক্ষার্থী। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লোকজন ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নকলা হাজী জাল মাহমুদ কলেজের প্রভাষক শরীফ আহমেদ, শিক্ষক রাজীব আহম্মেদ, কৃষক আব্দুল হামিদ প্রমুখ।

গত কয়েক বছরে নদী ভাঙনে স্থানীয় কৃষক বারেক মিয়ার চার একর জমি বিলীন হয়ে গেছে। তিনি এখন অন্যের বাড়িতে থাকেন। ওই কৃষক বলেন, ‘নদী আমার সব কেড়ে নিয়েছে। আমি এখন অসহায়। সরকার না দেখলে আমি কোথায় যামু।’

শিক্ষক রাজীব বলেন, স্কুলটি যদি নদীগর্ভে বিলীন হয়, তাহলে ছেলে-মেয়েরা কোথায় পড়তে যাবে, তা নিয়ে আমরা ভীষণ চিন্তিত।’

এ ব্যাপারে শেরপুর-জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডি) মো. শাজাহান বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে আমরা ভাঙন রোধে জিও ব্যাগসহ বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছি।

তিনি বলেন, নদী যে স্থানে ভাঙছে, সে জায়গাটিতে নদীর একটি বাক রয়েছে। ফলে প্রবল স্রোত এসে সেখানেই ধাক্কা দেয়, যে কারণে ভাঙন রোধ করা কঠিন হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমরা বিষয়টি চিফ স্যারকে জানিয়েছি। তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।

নকলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বুলবুল আহমেদ বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি। সমস্যাটি সমাধানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি ভাঙন রোধে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারব।