‘আমাদের মতো স্টেজনির্ভর শিল্পীদের এটা কঠিন সময়’

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২০     আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২০   

বিনোদন প্রতিবেদক

সালমা। তারকা কণ্ঠশিল্পী। লকডাউন শিথিল হওয়ার পর নতুন গানের আয়োজন শুরু করেছেন তিনি। একই সঙ্গে নির্মাণ করছেন নতুন গানের ভিডিও। এ সময়ের ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে-

লকডাউনের পর কাজে ফিরেছেন, কেমন লাগছে?

বন্দি জীবন থেকে বের হয়ে আসার অনুভূতি কেমন- তা কিছুটা হলেও বুঝতে পারছি। স্টুডিওতে গিয়ে নতুন গান রেকর্ড করার আনন্দটা জীবন ফিরে পাওয়ার মতো। অন্তত আমার মতো যারা শিল্পী তারা এবং মিউজিশিয়ান এটা কথা স্বীকার না করে পারবেন না। কিন্তু কাজে ফেরা আনন্দের হলেও ভয় কিন্তু এখনও থেকেই গেছে। এ জন্য যেখানেই যাই, বেশি সময় সেখানে থাকি না। বাইরে বেরোলে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সঙ্গে রাখি এবং দূরত্ব মেনে চলি। নিজের জন্য যতটা না ভাবি, তার চেয়ে বেশি ভয়ে থাকি আমার সন্তানে জন্য।

এর মধ্যে নতুন কী গান রেকর্ড করলেন?

ঈদের জন্য একটি মৌলিক গান রেকর্ড করেছি। সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন আহমেদ হুমায়ূন। এটি সাউন্ডটেক থেকে প্রকাশ পাবে। এর বাইরে বাউল শাহ আবদুল করিমের একটি ফোক গানে কণ্ঠ দিয়েছি। খ্যাতিমান এই বাউলের কথা ও সুরে 'আমার বাড়ি আইলা না ক্যানে' কালজয়ী গানে আমার সহশিল্পী ছিলেন চৌধুরী কামাল। সংগীতায়োজন করেছেন বাপ্পা মজুমদার।

লালন শাহর কালজয়ী গান নিয়ে কয়েক খণ্ডের একটি সংকলন প্রকাশের কথা বলেছিলেন। সেই কাজের কতটুকু শেষ হয়েছে?

কাজ শুরু করেও শেষ করা হয়ে ওঠেনি। কারণ লালন শাহর গান নির্বাচন করা ভীষণ কঠিন। কোন গান রেখে কোন গান গাইব- এ নিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে। এর পরও নিজের প্রিয় এবং যে গানগুলো কম শিল্পীর কণ্ঠে শোনা গেছে, তেমনই কিছু গান নিয়ে সংকলন প্রকাশের ইচ্ছা আছে।

অনলাইনে গান প্রকাশ ছাড়া পেশাদার শিল্পী ও সংগীতায়োজকদের এখন অন্য কিছু করার সুযোগ নেই। এমন পরিস্থিতিতে অনলাইন কতটা ভরসার?

ক্যাসেট, সিডির যুগ শেষ হওয়ার পর অনলাইনই হয়ে উঠেছে গান প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। কেউ কেউ নিজের ইউটিউব চ্যানেল থেকেও ভালো আয় করছেন। কিন্তু আমার মতো যারা স্টেজনির্ভর শিল্পী, তাদের জন্য এটা কঠিন এক সময়। টিভিতে লাইভ অনুষ্ঠান নেই। ওপেন কনসার্ট বন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের জন্য বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের ইউটিউব চ্যানেল নিয়ে আলাদা করে ভাবিনি বলে, নিজেরই এখন আফসোস হচ্ছে। অবশ্য এই আফসোসের কোনো মানে নেই। কারণ কেউই জানতাম না, করোনাভাইরাস আমাদের এমন এক কঠিন সময়ের মধ্যে ফেলে দেবে।

স্টেজে ফেরা অনিশ্চিত, এটা ভেবে কি কষ্ট হয়?

কষ্ট তো হওয়ারই কথা। আমরা যারা পেশাদার শিল্পী, তাদের স্টেজ শো করেই বেঁচে থাকতে হয়। অডিও, ভিডিও প্রকাশ করে যে টাকা পাওয়া যায়, তা খুবই কম। অ্যালবাম বা একক গান প্রকাশ করে সচ্ছলভাবে বেঁচে থাকা কঠিন। শুধু আমি নই, দেশের বেশিরভাগ শিল্পীর জন্য এটা সত্য। তাই আবার মঞ্চে দাঁড়িয়ে দর্শকের সামনে গাইতে চাই। যে জন্য মনেপ্রাণে চাই, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই দুঃসময় যেন কেটে যায়।