ব্যান্ডের কথা ভেবেই একক অ্যালবাম করিনি: পার্থ বড়ূয়া

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২০     আপডেট: ২২ জুন ২০২০   

বিনোদন প্রতিবেদক

পার্থ বড়ূয়া। তারকা কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক। সম্প্রতি আইপিডিসি ফিন্যান্সের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়েছে তার প্রথম একক অ্যালবামের গান 'শহর ও মেঘদল'। দীর্ঘ সংগীত জীবনে প্রথম একক অ্যালবাম প্রকাশ ও অন্যান্য বিষয়ে কথায় হয় তার সঙ্গে

তিন দশকের বেশি সময় ধরে সংগীত ভুবনে পদচারণা। সোলসের বাইরে অসংখ্য মিশ্র অ্যালবামে গেয়েছেন; কিন্তু একক অ্যালবাম প্রকাশ করতে দেখা যায়নি, এর কারণ কী?

আমি একটি ব্যান্ডের শিল্পী ও মিউজিশিয়ান- এটাই আমার প্রধান পরিচয়। ব্যান্ডের কথা ভেবেই একক অ্যালবাম করিনি। তিন দশকের বেশি সময় সোলসের সঙ্গে আছি। তাই সবকিছুই ব্যান্ডের পরিচয়ে করতে চেয়েছি, একক শিল্পী হিসেবে নয়। মিক্সড অ্যালবামেও গেয়েছি সোলসের পার্থ হিসেবে। কিন্তু এটাও সত্যি, গত ত্রিশ বছরে অনেকে একক অ্যালবামের কথা বলেছেন; শ্রোতাদেরও অবদার ছিল, তার পরও নিজের জন্য কিছু করার কথা ভাবিনি।

ত্রিশ বছর পর কেন মনে হলো...

অনেকের প্রত্যাশা পূরণ আর সোলস সদস্যদের সমর্থনেই 'মুখোশ' অ্যালবামটি তৈরি করা। তা ছাড়া এখন যে গানগুলো তৈরি করেছি, তা সোলসের গানের প্যাটার্ন থেকে একেবারে আলাদা। ব্যান্ডের সদস্যরাও সে কথা স্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, এককভাবে গানগুলো প্রকাশ করা যেতে পারে। শেষমেশ আমিও রাজি হয়ে গেছি।

'মুখোশ'র অ্যালবামের সব গানই কী নিরীক্ষাধর্মী?

চেষ্টা করেছি, আগের সব আয়োজন থেকে ভিন্ন ধরনের কিছু তুলে ধরার। 'শহর ও মেঘদল' শিরোনামের যে গানটি প্রকাশ করেছি, তা শুনলেই কিছুটা আঁচ করতে পারবেন। বাকি চারটি গান 'নস্টালজিয়া', 'টং-এর দোকান', 'বৃষ্টির গান' ও 'মুখোশ'র কথা, সুর ও সংগীত নিয়ে যথেষ্ট এক্সপেরিমেন্ট করেছি। রানার লেখা অনেক গান শ্রোতা শুনেছেন। তার গীতিকথাগুলোয় গল্প বা বিষয় তুলে ধরা হয় একটু অন্যভাবে। আমিও চেষ্টা করেছি সুর ও সংগীতায়োজন ভিন্ন চোখে তুলে ধরার। এখন কতটা ভিন্ন ধরনের হয়েছে, সেটা শ্রোতা বলবেন।

সোলসের জনপ্রিয় এবং মৌলিক গান নিয়ে দুটি অ্যালবামের কথা বলেছিলেন...

ব্যান্ডের জনপ্রিয় পুরোনো গানগুলোর রিমেক করে 'সোলস গোল্ড' নামে অ্যালবামের পরিকল্পনা ছিল। পুরোনো গানগুলোর গীতিকার, সুরকারদের অনুমতি থেকে শুরু রয়্যালিটিসহ আরও কিছু জটিলতা আছে। যেজন্য অ্যালবামটির কাজ স্থগিত রয়েছে। আর নতুন মৌলিক গান নিয়ে যে অ্যালবাম করছিলাম, তার কাজ প্রায় শেষ। শুরুতে অ্যালবামের নাম রাখা হয়েছিল 'বন্ধু', এখন ব্যান্ডের সবার সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব, নাম পরিবর্তন করব কিনা।

শ্রোতা আপনার কণ্ঠে রক, ব্লুজ, র‌্যাপ, আধুনিক, রিমেক, ফোক ফিউশন থেকে শুরু করে নানা ধরনের গান শুনেছেন। এবার গাইলেন রবীন্দ্রসংগীত। এ বিষয়ে জানতে চাই?

আমরা যারা বাংলা গানের চর্চা করি, তাদের সবারই রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি এক ধরনের ভালো লাগা আছে। কারণ একটাই, রবি ঠাকুরের সৃষ্টির সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা চলে না। তাই অনেকেই চেষ্টা করেন কবিগুরুর গান গাওয়ার। লকডাউনের ঘরবন্দি থেকে আমিও সাহস করে গাইলাম। যদিও রবীন্দ্রসংগীত শুনতে যত সহজ মনে হয়, গাওয়া ততই কঠিন। স্টাফ নোটেশন ফলো করে গাওয়া আরও কঠিন। তার পরও চেষ্টা করেছি, যতটা সম্ভব সঠিকভাবে গাওয়ার।

'ঘরে বসে আয়নাবাজি' সিরিজে অভিনয় করলেন। আবার অভিনয়ে নিয়মিত হবেন?

গানের পেছনে সময় দেওয়া কমে গিয়েছিল বলেই অভিনয় থেকে সরে এসেছিলাম। শিল্পী ও মিউজিশিয়ানের বাইরে অন্য কোনো পরিচয় বড় করে দেখিনি, তাই অভিনয় নিয়েও আলাদা করে ভাবি না। 'ঘরে বসে আয়নাবাজি' সিরিজে কাজ করেছি, কারণ এটি 'আয়নাবাজি'র চরিত্রগুলো নিয়ে। যে চরিত্রগুলো মানুষের মনে গেঁথে আছে। তাদের দিয়ে জনসচেতনতা গড়ে তুলতেই এই সিরিজটি নির্মাণ করা হয়েছে। আর শিল্পী নির্মাতা সবাই যার যার ঘরে থেকে কাজ করেছেন।