জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে নিজের গায়ে আগুন দিয়ে গাজী আনিস নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে আমিন ম্যানুফাকচারিং কোম্পানির (হেনোলাক্স গ্রুপ) কর্ণধার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আমিন এবং তার স্ত্রী ফাতেমা আমিনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক হিসেবে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

৫০ বছর বয়সী গাজী আনিসের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তিনি ঠিকাদারি ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। একসময় কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন তিনি।

গত ৪ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের ফটকের ভেতরে খোলা স্থানে আনিস নামের ওই ব্যবসায়ী নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। তার শরীরে আগুন দেখে আশপাশ থেকে লোকজন ছুটে গিয়ে আগুন নেভান। কিন্তু তার আগে আনিসের পোশাক সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া আনিসকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের ভর্তি করানো হয়। কিন্তু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর ৬টা ১০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

গায়ে আগুন দেওয়ার আগে এক ফেসবুক পোস্টে এক ফেসবুক পোস্টে গাজী আনিস জানিয়েছিলেন, হেনোলাক্স গ্রুপের কাছে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা পান তিনি। বর্তমানে লভ্যাংশসহ নুরুল আমিনের কাছে তার ন্যায্য পাওনা তিন কোটি টাকার অধিক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই গাজী আনিস নিজের গায়ে আগুন জ্বালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। হেনোলাক্স গ্রুপের কাছ থেকে তার পাওনা টাকা না পাওয়ায় তিনি নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানান তারা।

এ ঘটনায় হেনোলাক্স গ্রুপের কর্ণধার নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী ফাতেমা আমিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন গাজী আনিসের ভাই নজরুল ইসলাম। মঙ্গলবার দুপুরে শাহবাগ থানায় এ মামলা করেন তিনি।