শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহত এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ক্যাফেটেরিয়া পরিচালনের দায়িত্ব কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষার্থী আন্দোলনের আগ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনের ক্যাফেটেরিয়া পরিচালনা করতেন। তবে সম্প্রতি 'নিয়মের' কথা বলে তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্যাফেটেরিয়া থেকে তাঁর জিনিসপত্র সরিয়ে নিতেও বলা হয়েছে।

অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকায় সজল কুণ্ডু নামের শাবির ওই শিক্ষার্থীকে গত বছরের ডিসেম্বরে ক্যাফেটেরিয়াটি পরিচালনার দায়িত্ব দেয় প্রশাসন। ২ জানুয়ারি তিনি ক্যাফেটেরিয়া চালু করেন। এর মধ্যে ১৬ জানুয়ারি উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে আহত এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে গেলে পুলিশের ছররা গুলি লাগে সজলের শরীরে। এরপর বেশ কিছুদিন আইসিইউতে ছিলেন তিনি।

সজল জানান, রোজার ঈদের ছুটিতে তাঁর কাছ থেকে ক্যাফেটেরিয়ার চাবি নিয়ে নেওয়া হয়। গত ২৮ জুন আইআইসিটি অফিস থেকে এক সহকারী ফোন দিয়ে তাঁকে ক্যাফেটেরিয়া থেকে জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের এ শিক্ষার্থী জানান, দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় পড়াশোনার খরচ চালাতে কখনও টিউশনি, কখনও আবাসিক হলে মিষ্টি ও চা বিক্রি করেছেন। মেসে মেসে খাবার বিক্রিও করেছেন। সবশেষ ক্যাফেটেরিয়াটি পরিচালনার দায়িত্ব পান।

সজল বলেন, শরীরে ৮৩টির মতো স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন আইসিইউতে ছিলেন। অস্ত্রোপচার ছাড়া তাঁর পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে কোনো সহযোগিতায় করা হয়নি। ৩৪টি স্প্লিন্টার বিদ্ধ তাঁর ডান হাতটা এখন প্রায় অকেজো। এ অবস্থায় তাঁর বাঁচার সম্বল ব্যবসাটি। অনেক ঋণ নিয়ে তিনি এটি দাঁড় করিয়েছেন। এখন প্রশাসন দরপত্রসহ বিভিন্ন নিয়ম দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে এটি নিয়ে নিচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি পরিচালক অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রথমে সে আগ্রহ প্রকাশ করলে আমরা তাকে ট্রায়াল হিসেবে দিই। এটা আমার ভুল ছিল। কারণ, কাগজপত্র ছাড়া এভাবে ক্যাফেটেরিয়া দেওয়ার নিয়ম নেই। 

তিনি আরও বলেন, তার খাবারের মান, দামসহ কিছু অভিযোগও এসেছে। এসব কারণে ক্যাফেটেরিয়া পরিচালনা কমিটি গত ঈদের ছুটির পরে সিদ্ধান্ত নেয়, সব নিয়ম মেনে নতুন দর বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার। ওই ছাত্র আবেদন করে যোগ্যতা অনুযায়ী পেলে সেই চালাবে।