‘যাদের শোয়ার জায়গা নেই, তাদের চোখে ঘুম বেশি’

প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০১৯     আপডেট: ২২ মার্চ ২০১৯      

সাজ্জাদ হোসেন

কাওরান বাজারে ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা এক শিশু -সমকাল

খোলা আকাশ, বিকট শব্দে হর্ন বাজিয়ে দ্রুতগতিতে যানবাহন চলাচল, মশার ঝাঁক, পাশ দিয়ে পথচারীদের হেঁটে যাওয়া কিংবা সড়ক বাতির নিয়ন আলো; কোনো কিছু্ই তাদের ঘুমের ব্যঘাত ঘটাতে পারেনি। ফুটপাত ও সড়ক ডিভাইডারের ওপর স্যান্ডেল, পানির বোতল কিংবা কুড়ানো কাগজ মাথার নিচে দিয়ে ‘নির্বিঘ্নে’ ঘুমাচ্ছেন তারা। 

Caption goes here.

তবে অনেকেই মশার কামড় থেকে বাঁচতে চাদর বা কম্বল দিয়ে শরীর এমনভাবে পেঁচিয়েছেন, দেখে মানুষ নয়; কাপড়ের পুঁটলি মনে হয়। কেউবা আবার ফুটপাতের পাশের রেলিংয়ের সঙ্গে মশারি টাঙিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু মশারি বা চাদর পাওয়া এমন ‘সৌভাগ্যবানদের’ সংখ্যা হাতেগোনা। বেশিরভাগ মানুষেরই পরনের পোশাক ছাড়া আর কিছুই নেই।

ফার্মগেটে ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা কয়েকটি শিশু -সমকাল

প্রতি রাতেই এমন দৃশ্য দেখা যায় রাজধানীর কাওরান বাজার, ফার্মগেট এলাকায়। শুধু কাওরান বাজার-ফার্মগেট নয়, রাজধানীর সব সড়কেই এমন চিত্র খুবই পরিচিত। 

এসব মানুষের বেশিরভাগই গৃহহীন-ছিন্নমূল। তাদের কেউ টোকাই, কেউবা ভিক্ষুক। এছাড়াও অনেক মাদকাসক্ত ও মানসিক ভারসাম্যহীন অনেককেও চোখে পড়ে। 

দ্রুতগতিতে চলা ট্রাকের তীব্র শব্দও তার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারেনি -সমকাল

রাস্তাঘাটে শুয়ে থাকা নারী-পুরুষদের মধ্যে সব বয়সী মানুষই আছে। তবে তাদের মধ্যে শিশু-কিশোরদের সংখ্যাই বেশি। তেমনই একজন কাজী নজরুল ইসলাম সড়কের নর্দান ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের অপরপাশের ফুটপাতে শুয়ে থাকা জাকির হোসেন। সে জানায়, মশা, শব্দ, শীত কিংবা গরম; কোনোকিছুতেই তাদের ঘুমে তেমন ব্যাঘাত ঘটতে পারে না। তবে বৃষ্টি আসলেই তারা অসহায় হয়ে পড়ে। বৃষ্টি হলে কোনো ভবনের সামনে বা যাত্রী ছাউনি দাঁড়িয়ে থেকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় তাদের।

মশার হাত থেকে বাঁচতে কাপড় দিয়ে পুরো শরীরই মুড়ে রেখেছেন তারা -সমকাল

জাকিরের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ঘুমিয়ে থাকা আরেকজনের ছবি তোলার সময় উৎসুক এক পথচারী বলে উঠলেন, ‘দামি দামি বিছানায় কত মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। ঘরের মধ্যে দু-একটা মশার কামড়ও সহ্য করে  ঘুমাতে পারি না আমরা। আর এরা খোলা আকাশের নিচে, শত শত মশার কামড় খেয়েও কত গভীর ঘুম ঘুমাচ্ছে। যাদের শোয়ার জায়গা নেই, তদের চোখে ঘুম বেশি হয় সম্ভবত।’ জানালেন তার নাম মাহফুজুর রহমান। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি।

ঘুমানোর জন্য যাত্রী ছাউনিতে বিছানা পেতেছেন কয়েকজন -সমকাল 


বিষয় : রাজধানী জীবন সংগ্রাম ঘুম