জীবন সংগ্রাম

যত যানজট তত লাভ!

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০১৯      

সাজ্জাদ হোসেন

ফার্মগেট সিগন্যালে শসা-গাজর বেঁচে জীবন চালান বজলু মিয়া -সমকাল

রাস্তাঘাটে যানজটের কারণে সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে পরিবহন শ্রমিক-ট্রাফিক পুলিশ সবাইকেই চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। শুধু ভোগান্তি নয়, যানজটের কারণে অপচয় হয় মহামূল্যবান কর্মঘণ্টা ও জ্বালানির। কিন্তু এমনও কিছু মানুষ আছে যারা বসে থাকে চরম যানজট সৃষ্টির প্রতিক্ষায়।

তেমনই একজন রাজধানীর ফার্মগেটে শসা ও গাজর নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পঞ্চাশোর্ধ বজলু মিয়া। যানজট না থাকলে বেচা-বিক্রি কমে যায় জানিয়ে বজলু বলেন, যত বেশি জ্যাম (যানজট) লাগে, তত বেশি বেচতে পারি। আর বেশি বেচা-বিক্রি মানে বেশি লাভ।

বজলু জানান, মাস ছয়েক আগে তিনি ফার্মগেটের আনোয়ারা উদ্যানে বড়ই-চালতাসহ বিভন্ন প্রকারের আচার বিক্রি করতেন। উদ্যানে হাজারো মানুষের আনাগোনায় বেশ বিক্রিবাট্টা হতো তার। কিন্তু মেট্রোরেলের কাজের কারণে উদ্যানটি বন্ধ করে দেওয়ায় ফার্মগেট সিগন্যালে শসা-গাজর বিক্রি শুরু করেন। কিন্তু এখন এই জায়গাও ত্যাগ করতে হবে তাকে।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মেট্রোরেলের কাজ চলার কারণে খামারবাড়ি হয়ে ফার্মগেট যাওয়ার রাস্তায় বাস চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আর আমার বেশিরভাগ ক্রেতাই বাসের যাত্রী।     

বজলুর পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন সত্তরোর্ধ আমেনা বেগম। ভিক্ষা করে জীবন চালান তিনি। ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফার্মগেট সিগন্যালে ভিক্ষাবৃত্তি করছেন আমেনা। তিনি ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন ট্রাফিক সিগন্যালে গাড়ি দাঁড়ানোর অপেক্ষায়। কারণ সিগন্যাল পরলেই গাড়ির যাত্রীদের কাছে সাহায্য চাইতে পারবেন আমেনা।

কিন্তু এই সড়কে বাস চলাচল না করায় বজলুর মতো তারও মন খারাপ। তিনি বলেন, বাসে থাকা মানুষের কাছে সাহায্য বেশি পাওয়া যায়। আর প্রাইভেট কারের যাত্রীরা বেশিরভাগ সময়ই জানালা বন্ধ করে বসে থাকে। হাজার ডাকলেও কাঁচ সরায় না।

শুধু আমেনা-বজলুই নয়, তাদের মতো হাজারো মানুষ জীবন চালান রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তার যানজটের ওপর ভিত্তি করে। তাদের মধ্যে কেউ বিক্রি করেন পানি-পপকর্ন-সিগারেট, কেউবা তোয়ালে-রুমাল-মোবাইল চার্জার-গৃহস্থলি উপকরণসহ বিভিন্ন পন্য। আবার অনেকেই আমেনা বেগমের মতো ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত।

জিয়া উদ্যান-খেজুরবাগান সিগন্যালে ছেলে বিজয় (৫) এবং মেয়ে মুক্তা (৪) ও মুক্তাকে (২) নিয়ে ভিক্ষা করেন আসমা। শারীরিক কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকলেও বেশি আয়ের আশায় কোনো কাজে না করে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়েছেন তিনি। আর এ ক্ষেত্রে মানুষের করুণা লাভের আশায় ফুটফুটে তিন সন্তানকে ব্যবহার করছেন আমেনা।

আমেনার পাশেই দাঁড়িয়ে পানির বোতল বিক্রি করছিলেন শেরপুর থেকে আশা যুবক কাঞ্চন। তিনি জানান, এই স্যিগনালে পানি বেঁচেই ৫ সদস্যের সংসার চালান তিনি। পানি ঠান্ডা করার জন্য ফ্রিজের বিলসহ সব খরচ বাদ দিয়ে দৈনিক ২০০-৩০০ টাকা আয় হয় তার।

অন্যদিকে আগারগাঁও সিগন্যালে একগুচ্ছ গোলাপ ফুল হাতে দাঁড়িয়ে ছিল শিশু মীম। হাতে থাকা ফুলগুলোর মতো তার মুখটাও খুশিতে জ্বলজ্বল করছে। মীম জানায়, এখন বাণিজ্য মেলা চলার কারণে এই সড়কে অনেক যানবাহন আর মানুষের যাতায়াত। অন্য সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি ফুল বিক্রি হয় তার।   

বিষয় : জীবন সংগ্রাম যানজট রাজধানী

সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
তারিখ সেহরি ইফতার
২৪ মে '১৯ ৩:৪২ ৬:৪২
২৫ মে '১৯ ৩:৪২ ৬:৪২
*ঢাকা ও আশেপাশের এলাকার জন্য প্রযোজ্য
সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ