জীবন সংগ্রাম

অক্লান্ত পরিশ্রমে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন বগুড়ার জলি

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০১৮      

এস এম কাওসার, বগুড়া ব্যুরো

নিজের খামারে শাহানা ইয়াছমিন জলি (পেছনে দাঁড়ানো)— সমকাল

গাভী পালন করেই ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন বগুড়ার শাহানা ইয়াছমিন জলি। দরিদ্র পরিবারের এই গৃহবধূই এখন ‘জলি ডেইরি ফার্মে’র মালিক।

বগুড়া সদরের কোয়ালীপাড়া গ্রামের আহসান হাবিব দীপুর স্ত্রী জলি। স্বামীর আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় তাদের সংসারে বলতে গেলে অভাব অনটন লেগেই থাকতো। দু’সন্তানের মুখে দু’বেলা ঠিকমতো খাবার তুলে দিতে হিমশিম খেতেন। পূরণ করতে পারতেন না সন্তানদের কোনো শখ-আহ্লাদ।

কী করবেন, সন্তানদের ভবিষ্যতই বা কী হবে— এমন নানান দুশ্চিন্তা যখন তাকে ঘিরে ধরে ঠিক সেই সময়েই জোবেদা বেগম নামে এক নারীর সঙ্গে পরিচয় হয় জলির। জোবেদা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা টিএমএসএস মহাস্থান শাখার মাঠকর্মী। জলির অভাব-অনটনের কথা শুনে তাকে মহাস্থান শাখার সদস্য হিসেবে ভর্তি করে নেন।

জোবেদার পরামর্শে ২০০৮ সালে টিএমএসএস থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি দেশি জাতের গাভী কিনে পালন শুরু করেন জলি। গাভী থেকে প্রতিদিন যে দুধ পেতেন তা বিক্রি করে টিএমএসএসের ঋণের কিস্তি পরিশোধের পাশাপাশি সংসারের অভাব মোচনেও ব্যয় করতে শুরু করেন। এভাবে জলির স্বপ্নগুলো ধীরে ধীরে ডানা মেলতে থাকে।

গাভী পালন করে স্বাবলম্বী হতে জলি ২০০৯ সালে টিএমএসএসের মহাস্থান শাখা হতে আরও ১ লাখ টাকা ঋণের জন্য আবেদন করেন। জলির মধ্যে সম্ভাবনা ও তার উদ্যেম দেখে ঋণ মঞ্জুর করা হয়। জলি ঋণ নিয়ে আরো তিনটি গাভী কেনেন। আগেরটিসহ চারটি গাভী থেকে প্রতিদিন ১৫/২০ লিটার দুধ পেতে থাকেন। ওই সময় তিনি নিজেই রিকশা-ভ্যান ভাড়া করে স্থানীয় চণ্ডিহারা ও মহাস্থান বাজারে দুধ বিক্রি শুরু করেন। প্রতিদিন দুধ বিক্রি করে চার থেকে পাঁচশ' টাকা আয় হয়। প্রতিদিনের আয় দেখে বেকার স্বামী দীপুও তার স্ত্রীর পাশে দাঁড়ান এবং তাকে সার্বিক সহযোগিতা করতে থাকেন।

২০১২ সালে ডেইরি ফার্ম স্থাপন করেন তিনি। ফার্মের নাম দেন ‘জলি ডেইরি ফার্ম’। আর এই খামার প্রতিষ্ঠায় অর্থের যোগান দেয় টিএমএসএস। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাচঁ বছরে টিএমএসএস মহাস্থান শাখা থেকে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন জলি।  বর্তমানে তার খামারে ২৫টি গাভীসহ গরুর সংখ্যা ৪৫টি। খামারের আয় দিয়ে তিনি ৫০ শতক জমি ক্রয় করে খামারের পরিধি বাড়িয়েছেন। তার এই খামারে দৈনিক গড়ে ১৩০ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। উৎপাদিত দুধ স্থানীয় বাজারসহ বগুড়া শহরের ‘সুপারশপ’ ও ‘ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে’ বিক্রি করেন। এ ছাড়া প্রতি মাসে ১০ ট্রাক গোবর বিক্রি করেও তার আয় হয় ১০ হাজার টাকা।

জলির কথায়, 'ইচ্ছা ও মনোবল এবং পরিশ্রম করলে সফলতা আসবেই।'

তিনি জানান, তার বাৎসরিক আয় প্রায় ১৫ লাখ টাকা। বাৎসরিক ব্যয় প্রায় ১০ লাখ টাকা। আয়-ব্যয় মিটিয়ে তার বাৎসরিক নিট আয় ৫ লাখ টাকা।

খামারে পাঁচজন স্থায়ী ও ছয়জন খণ্ডকালীন কর্মী কাজ করেন। জলি তার খামারের পরিধি আরও বাড়াতে ৫ বিঘা জমি কেনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। খামারটি সম্প্রসারিত হলে আরো অনেক বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন জলি। সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে দু’বছর আগে জয়িতা পুরস্কার পান জলি।

বিষয় : জীবন সংগ্রাম সাফল্য সাফল্যের গল্প সংগ্রামী গল্প

সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
তারিখ সেহরি ইফতার
২৪ মে '১৯ ৩:৪২ ৬:৪২
২৫ মে '১৯ ৩:৪২ ৬:৪২
*ঢাকা ও আশেপাশের এলাকার জন্য প্রযোজ্য
সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ