কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের নওদা আজমপুর এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে মনিরা খাতুন মিম নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। 

রোববার সকালে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। তবে মেয়েটির বাবার দাবি, তাঁকে মেরে ফেলা হয়েছে। ঘটনার পর মনিরার স্বামী সজিব মোল্লা অনিক (২৮), তার বাবা শরিফ মোল্লা (৪৭) ও সজিবের মা রাজেনা খাতুন (৪২) পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ ও মনিরার বাবার বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে প্রেম করে নওদা আজমপুর এলাকার সজিবের সঙ্গে মনিরার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন বছর ও আট মাস বয়সী দুটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর মনিরার দিনমজুর বাবা মনিরুল ইসলাম জামাইকে এক লাখ টাকা দেন। এর কিছুদিন পর টাকা চাইলে আরও ৮০ হাজার টাকা দেন। সজিব বেকার। তেমন কোনো কাজ করেন না। টাকার জন্য মনিরাকে মারধর করেন। এই নিয়ে কলহের জেরে একাধিকবার বাবার বাড়ি চলে যান তিনি।

মনিরার বাবা মনিরুলের ভাষ্যমতে, পারিবারিক কলহের কথা প্রায়ই জানতে পারেন তিনি। কয়েকদিন ধরেই ঝগড়া চলছিল। শনিবার বিকেলে মনিরাকে মারধর করে। প্রতিবেশীরা বাধা দেয়। পরে রাতে আবার চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পায় প্রতিবেশীরা। তার দাবি রাত ৮টার দিকে মেয়ে তাকে ফোন করে বলেন, “আব্বা এরা আমাকে মেরে ফেলবে। তুমি আসো তাড়াতাড়ি আমাকে বাঁচাও।” পরে জামাই ফোন কেড়ে নিয়ে বলেন, “কোথায় পাবেন জানি না ২০ হাজার টাকা দেন। না হলে মেয়েকে মারতে মারতে মেরে ফেলবো।”

তিনি জানান, সকালে খবর পান মেয়ে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখতে পান মেয়ের মরদেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে।

মনিরুল আক্ষেপ করে বলেন, গতকাল রাতে যদি মেয়েকে নিয়ে যেতাম তাহলে আজ হয়তো তার লাশ দেখতে হতো না। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। জড়িত সবার ফাসি চাই।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। মেয়েটির শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে। থানায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।