বাবার উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম ভ্যান হারিয়ে ভয়ে কাঁদতে থাকা দীপ্তর মুখে অবশেষে হাসি ফুটেছে। দীপ্তর পরিবার পেয়েছে নতুন একটি ভ্যান। বুধবার বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়ের পক্ষ থেকে কচুয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে দীপ্তর বাবা দিপঙ্কর মৃধাকে পা চালিত নতুন ভ্যানটি প্রদান করা হয়।

এর আগে গত সোমবার দুপুরে বাগেরহাট শহরের মিঠাপুকুরপাড় এলাকা থেকে চুরি হয়ে যায় দীপ্তর বাবার ভ্যানটি। স্কুল বন্ধ থাকায় বাবার ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে সেদিন যাত্রী নিয়ে বেরিয়েছিল দীপ্ত। তবে ভ্যানে ওঠা যাত্রীবেশী চোরেরা কৌশলে ওই কিশোরের থেকে ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যায়। এদিন দীপ্তর অসহায়ত্ব নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয় গণমাধ্যমে।

সংবাদ প্রকাশের পরে দীপ্তকে ভ্যান কিনতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন অনেকে। এর মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়ের পক্ষ থেকে বুধবার কচুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাজমা সরোয়ার পা চালিত একটি ভ্যান তুলে দেন।

এদিকে ঢাকা থেকে দীপ্তর বাবার ভ্যানের জন্য সহযোগিতা পাঠান ব্যারিস্টার আহসান হাবিব, ব্যাংকার জেরিন জাহান ও সুমনা হক। তাদের পাঠানো ২৫ হাজার টাকা বুধবার রাতে কচুয়া উপজেলার ছোট আন্ধারমানিক গ্রামে দীপ্তদের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।  এছাড়া স্কুলপড়ুয়া দীপ্তর কান্নার ভিডিও দেখে দু'জন সরাসরি তাদের কাছে ১০ হাজার টাকা পাঠান।

দীপ্তর বাবা দিপঙ্কর মৃধা বলেন, ওই ভ্যানটি আমার উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম ছিল। এর আগেও একটি ভ্যান চুরি হয়ে যায়। পরে তিন জায়গা (এনজিও) থেকে আরও লোন নিয়ে বাটারির ওই ভ্যানটা বানাই। এনজিওর ঋণ এখনও শোধ হয়নি। তার আগেই ভ্যানটা চুরি হয়ে যায়।

ভ্যান পেয়ে খুশি দীপ্তর বাবা আরও জানান, ভ্যান পাওয়ার পরেও ব্যাটারি, মোটর লাগানো নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। যে ৩৫ হাজার টাকা পেয়েছি তাই দিয়ে এসব লাগাতে পারব।

দীপ্তদের বাড়ি বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার মঘিয়া ইউনিয়নের ছোট আন্ধারমানিক গ্রামে। সে স্থানীয় আন্ধারমানিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দীপ্ত বলেন, ভ্যান হারিয়ে খুব ভয় পেয়েছিলাম। বাড়িতে ফিরতেও ইচ্ছা করছিল না। এখন নতুন ভ্যান পেয়ে আমি খুব খুশি।