'দুপুরের রোদে যখন দিক-দিগন্তে আগুন জ্বলে উঠলো, একটা ছোট্ট পাথরের ঢিবির আড়ালে সে আশ্রয় নিলে। ১৩৫ ডিগ্রী উত্তাপ উঠেচে তাপমান যন্ত্রে, রক্তমাংসের মানুষের পক্ষে এ উত্তাপে পথহাঁটা চলে না। যদি সে কোনরকমে এই ভয়ানক মরুভূমির হাত এড়াতে পারতো, তবে হয়তো জীবন্ত অবস্থায় মানুষের আবাসে পৌঁছুতেও পারতো। সে ভয় করে শুধু এই মরুভূমি, সে জানে কালাহারী মরু বড় বড় সিংহের বিচরণভূমি। তার হাতে রাইফেল আছে-রাতদুপুরেও একা যত বড় সিংহই হোক, সম্মুখীন হতে সে ভয় করে না- কিন্তু ভয় হয় তৃষ্ণা রাক্ষসীকে। তার হাত থেকে পরিত্রাণ নেই।'
গল্পটা বাংলা ভাষার অনন্য কথাশিল্পী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অসাধারণ এক সৃষ্টি 'চাঁদের পাহাড়'-এর। বাংলা ভাষায় সম্ভবত এটিই সর্বাধিক জনপ্রিয় রোমাঞ্চকর উপন্যাস। শঙ্কর নামের ভারতবর্ষীয় এক তরুণের আফ্রিকা মহাদেশ জয় করার দুঃসাহসিক বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে অনবদ্য এই ভ্রমণকাহিনিতে।
সময়কাল ১৯০৯। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করা শঙ্কর রায় চৌধুরী এ অভিযানের মূল নায়ক। ভূগোলপ্রেমী এই যুবক ফুটবলে যেমন পারদর্শী, তেমনি সাঁতার কিংবা বক্সিংয়েও তার সমকক্ষ কেউ ছিল না সেই সময়ে। বাবার শারীরিক অসুস্থতার জন্য বেশি পড়ার সামর্থ্য তার হলো না। পাটকলে চাকরি পায় সে। কিন্তু সে চায় না জীবনটাকে এই ছোট্ট গণ্ডির মধ্যে শিকল পরিয়ে রাখতে। মনেপ্রাণে শঙ্কর ছিল খুব সাহসী আর রোমাঞ্চপ্রিয়। অবশেষে সুবর্ণ এক সুযোগ এলো তার জীবনে। এক আত্মীয়ের কল্যাণে আরেকটি চাকরি পায় শঙ্কর। সেটা ভারতে নয়, সুদূর আফ্রিকায়। সেখানে উগান্ডা রেলওয়েতে চাকরি পায় সে। কিন্তু সেখানে গিয়ে মানুষখেকো সিংহের আক্রমণ আর কুলিদের একের পর এক প্রাণ হারানোর মতো হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটতে লাগল। এরপর স্টেশন মাস্টারের কাজে সে নিযুক্ত হয় জনমানবহীন একটি স্টেশনে। সেখানে বিষাক্ত ব্ল্যাক মাম্বা সাপের খপ্পরে পড়ে। সেখানেই তখন পর্তুগিজ অভিযাত্রিক ও স্বর্ণসন্ধানী ডিয়েগো আলভারেজের দেখা পায় শঙ্কর। তার সঙ্গে সে হীরার খনির সন্ধানে অজানার উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ে। তারপর শুরু হয় আরও রোমাঞ্চকর অভিযান। পথে পথে সবখানেই মৃত্যুর হাতছানি। দুঃসাহসিক এই অভিযানে সহযোদ্ধা আলভারেজও একসময় বুনিপের ভয়াল থাবায় মারা যায়। শঙ্কর একা হয়ে পড়ে। বাকি অভিযান সে শেষ করে একা একা। নিজের অজান্তেই হীরার খনির খোঁজ পেয়ে যায়। যে গুহায় একসময় সে পথ হারিয়ে ফেলেছিল, একপর্যায়ে কিছু পাথরের সহায়তায় সে গুহা থেকে বের হতে সক্ষমও হয়। সেই পাথরগুলো আর কিছুই নয়, হীরা ছিল। শঙ্কর দিনের পর দিন, মাসের পর মাস বিভিন্ন রকম লোমহর্ষক, রোমাঞ্চকর সময় কাটায় আফ্রিকার বিভিন্ন জানা-অজানা বন-জঙ্গল, পাহাড়ে। একসময় মরুভূমিতে মৃত ইতালীয় অভিযাত্রী আত্তিলীয় গাত্তির নোট থেকে জানতে পারে, আসলে সে যে গুহায় গিয়েছিল, সেই গুহায়ই বিখ্যাত হীরার খনি। যেখানে সবাই যেতে চায়। যার জন্য আলভারেজ ও তার বন্ধু জিমও তাদের জীবন হারিয়েছে হিংস্র বুনিপের কাছে।
উপন্যাসটিতে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় একটি বিশেষ কথা লিখেছেন, 'মানুষের আয়ু মানুষের জীবনের ভুল মাপকাঠি।' সত্যিই তাই, মানুষের আয়ু কখনও তার জীবনের মাপকাঠি হতে পারে না। শঙ্কর তার দশ বছরের জীবন উপভোগ করেছে দেড় বছরে। সেজন্য স্বপ্টম্ন থাকতে হয়, অনেকটা ত্যাগ থাকতে হয়। উপন্যাসের নায়ক শঙ্কর তেমনি এক দুঃসাহসিক স্বপ্টম্নবাজ যুবক।
প্রশ্ন
১. উপন্যাসটি প্রথম গ্রন্থাকারে বের হয় কত সালে?
২. উপন্যাসে কোন পর্বতের কথা বলা হয়েছে?
৩. দুঃসাহসিক এই অভিযানে গল্পের নায়ক শঙ্করের মূল সহযোদ্ধা হিসেবে কে ছিল?
কুইজ ৫৭-এর উত্তর
১। গণদেবতা
২। গঙ্গা, বুলু ও বাণী
৩। ১৯৪৪

কুইজ ৫৭-এর জয়ী
আনিসুর রহমান
নলছিটি, ঝালকাঠি

মোহাম্মদ রুবেল
সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, ফরিদপুর

নিয়ম
পাঠক, কুইজে অংশ নিতে আপনার উত্তর পাঠিয়ে দিন ১৩ জুন সোমবারের মধ্যে কালের খেয়ার ঠিকানায়। পরবর্তী কুইজে প্রথম তিন বিজয়ীর নাম প্রকাশ করা হবে। বিজয়ীর ঠিকানায় পৌঁছে যাবে পুরস্কার।