পর্ব ::১১২

[পূর্বে প্রকাশিতের পর]

পঞ্চমত, কমন গুড-এর মধ্যে জনস্বাস্থ্য ও গণশিক্ষা ছাড়াও চলে আসবে গণপরিবহনের প্রসঙ্গ। দেশের গণপরিবহন 'গণ' ছাড়া চলবে তা তো হতে পারে না। উচ্চবিত্তরা চলবেন প্রাইভেট গাড়িতে; মধ্যবিত্তরা চলবেন গাড়িতে বা উবারে করে, অথবা রিকশায় চড়ে; আর গরিবরা চলবেন বাসে-টেম্পোতে করে, আর অতিদরিদ্ররা হেঁটে। বিভিন্ন ধারার শিক্ষাব্যবস্থার মতো পরিবহন খাতেও চলছে নানামুখী ধারা। কেবল নেই তাতে প্রকৃত অর্থে গণপরিবহন, যেখানে ধনী-মধ্যবিত্ত-গরিব একসঙ্গে চলে। অথচ উন্নত দেশে ভ্রমণের প্রথম চোখে পড়ার বিষয়ই হলো সেখানকার গণপরিবহনের বিকশিত রূপ। বাসে বলুন, ট্রামে বলুন, ট্রলি বাসে বলুন, ট্রানজিট রেলে অথবা মেট্রোতে বলুন সব শ্রেণি ও পেশার মানুষই একসঙ্গে চড়ছে ও চলছে। এই একই দৃশ্য আমি ছাত্রাবস্থায় মস্কো শহরে দেখেছি এবং পরবর্তীকালে কর্মজীবনের বড় অংশ যেখানে কেটেছে সেই ওয়াশিংটনে দেখেছি। অর্থাৎ সনাতনি সমাজতন্ত্র ও আধুনিকতম পুঁজিবাদে গণপরিবহনকে গুরুত্বপূর্ণ 'কমন গুড' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আমাদের দেশের নিত্যদিনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে এর কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। শ্রেণিবিভক্ত সমাজে বিভক্তি থাকবেই, কিন্তু তাই বলে চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর মতো প্রকট বিভক্তি থাকতেই হবে এমন কোনো কঠোর নিয়ম নেই। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মতো আমাদের পরিবহন ব্যবস্থা মাত্রাতিরিক্তভাবে বিভক্ত। এই শ্রেণিবিভক্ত পরিবহন ব্যবস্থা দূর না হলে এবং প্রকৃত অর্থে সবার জন্য স্বাস্থ্য-শিক্ষার মতো সবার জন্য গণপরিবহন (তথা 'সিস্টেম অব মাস ট্রানজিট') প্রবর্তিত না হলে গণতন্ত্র সকলের জন্য অর্থবহ হবে না। এটা চলতে থাকলে ক্রমাগত যানজটে ও বায়ুদূষণে শুধু যে স্বাস্থ্যহানি ও কালক্ষেপণের অর্থনৈতিক মাশুল দিতে হবে তা-ই নয়। আমার ধারণা, উপযুক্ত গণপরিবহন না থাকার কারণে আমাদের 'প্রাইভেট সেভিংস' কমে যাচ্ছে (টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে ব্যক্তিগত যানবাহন কেনার জন্যে); শহর এলাকায় বসতি আরও বেশি ঘন হয়ে উঠছে এবং বাড়িভাড়া আরও বেশি ঊর্ধ্বমুখী হয়ে পড়ছে, যার ভুক্তভোগী সবাই কম-বেশি হচ্ছেন, কিন্তু বিশেষভাবে এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্নবিত্তের মানুষেরা। সমাজতন্ত্রীরা এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন। প্রকৃত অর্থে সবার জন্য সুলভ ও নান্দনিক গণপরিবহন শুধু সময়ের দাবি নয়, এটি বঙ্গবন্ধুর গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রেরও দাবি।

ষষ্ঠত, জনস্বাস্থ্য, জনশিক্ষা ও গণপরিবহন এদের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ দুটি উপাদান হচ্ছে পরিবেশসম্মত উন্নয়ন এবং নিরাপত্তাপূর্ণ জীবন (শেষেরটি না বললেও চলে)। দুঃখের বিষয়, ঐতিহাসিকভাবে পুঁজিবাদী দেশগুলো যখন গড়ে উঠেছিল এবং সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো আধুনিকায়নের পথে অগ্রসর হয়েছিল তখন পরিবেশ নিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই অনেক হঠকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীকালে এসব দেশ পরিবেশ বিষয়ে আরও সচেতন হয়ে ওঠে এবং নানামুখী উদ্যোগ নিতে থাকে। আমাদের দেশে কী বেসরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, কী উন্নয়নের জন্য প্রকল্প নির্বাচনে পরিবেশ-সচেতনতাকে যথেষ্ট আমলে নেওয়া হয় না। নদী নিয়ে ঐতিহাসিকভাবে গড়ে ওঠা প্রকল্পগুলোয় অনেক ক্ষেত্রেই নদীরক্ষা বা শহররক্ষার নামে নদীগুলোকে মেরে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি এখন এ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে গেছে যে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র উপন্যাসের নামের মতো চারপাশ থেকে ধ্বনি উঠেছে কেবলু 'কাঁদো, নদী কাঁদো'। নদীমাতৃক দেশে আমরা এখনও নদীভিত্তিক পরিবহন ও জনপদ গড়ে তুলতে পারিনি। নদী মরুভূমিতে হারিয়ে যায়নি, পানি উন্নয়ন পরিকল্পনার ফাঁদে পড়ে এমনকি স্মৃতি থেকে লুপ্ত হয়ে গেছে। বাংলাদেশের ৫৪টি নদী নিশ্চিহ্ন, আর বেঁচে-বর্তে থাকা প্রায় অধিকাংশ নদীর শাখা-প্রশাখা মরে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সংযুক্ত সমস্যাবলি। পরিবেশের পরিবর্তনের ঝুঁকির সঙ্গে মানানসই শহর কী করে গড়ে তোলা যাবে- এসব প্রশ্ন উঠছে। উপদ্রুত উপকূলের জনপদ ভাঙনের মুখে। বাংলাদেশ দুঃস্বপ্ন দেখে- সমগ্র দক্ষিণবঙ্গ সমুদ্রের নোনাজলে তলিয়ে যাচ্ছে। একই সমস্যা দেখি বন-পাহাড় রক্ষার ক্ষেত্রেও। পাহাড় বৃক্ষহীন, বন উজাড়, পাহাড়ে নামছে ধস, বিপন্ন পশু-পাখি- তারা কার কাছে ফরিয়াদ চাইবে? সমাজতন্ত্রীরা এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন।

সবশেষে বলব, বাংলাদেশে মাথাপিছু আয়ের তুলনায় আয়-বৈষম্য নিম্ন ও নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশের মানদণ্ডে কিছুটা বেশি। এই বৈষম্য সময়ের সঙ্গে অল্প অল্প করে বাড়ছে। এখন সেটা বেড়ে প্রায় বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে। বৈষম্য মাপার জিনি সূচক ১৯৭৩/৭৪ সালের ০.৩৬ থেকে ক্রমশ বেড়ে ২০১৬/১৭ সালে ০.৪৮-এ এসে দাঁড়িয়েছে। মনে রাখতে হবে যে, প্রকৃত আয়-বৈষম্য আরও বেশি হবে, কেননা সর্বোচ্চ ১ শতাংশ ধনী লোকেরা বিবিএসের আয়-ব্যয় জরিপে কদাচিত অন্তর্ভুক্ত হন। শুধু আয়-বৈষম্য নয়, সম্পদ-বৈষম্যেও আমাদের অবনতি হচ্ছে। ২০১৯ সালের MICS জরিপ অনুযায়ী সারা দেশের মাত্র ৬ শতাংশ খানায় কম্পিউটার বা ল্যাপটপ আছে; ৫০ শতাংশের এখনও একটি টেলিভিশন নেই; ইন্টারনেট যোগাযোগ নেই ৬২ শতাংশ গৃহে।

কেউ কেউ বলতে পারেন, দেশে যে বৈষম্য বাড়ছে এতে অতটা দুশ্চিন্তার কিছু নেই। স্বল্প-আয়ের দেশগুলোয় আয়-বৈষম্যের মাত্রা কম থাকে; এরপর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় আয় বাড়তে থাকলে আয়-বৈষম্য বাড়তে থাকে; সেটি বাড়তে বাড়তে একপর্যায়ে এসে আবার কমতে শুরু করে। অর্থাৎ আয়ের সঙ্গে বৈষম্যের মাত্রার সম্পর্ক সরলরেখার মতো নয়। প্রথমে কম, মাঝখানে বেশি, এবং সবশেষে আবারও কম। এই প্রবণতাকে নোবেল-অর্থনৈতিক সাইমন কুজনেস্‌ প্রথম শনাক্ত করেছিলেন। দুঃখের বিষয়, পরবর্তী গবেষণায় দেখা গেছে যে জরিপের মধ্যে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো বিচার করলে বৈষম্যের কমা-বাড়া-কমার প্রবণতা আর প্রমাণিত থাকছে না। আয় বাড়লেও বৈষম্য কমার লক্ষণ নেই; এমনকি বৈষম্যের উল্লম্ম্ফনের জন্যেই ওইসব দেশে জাতীয় আয় যথাযথভাবে বাড়তে পারছে না। গবেষণা থেকে এটা স্পষ্ট যে, যেসব দেশে বৈষম্য অতি উচ্চমাত্রায় (জিনি সূচক ০.৫০-র থেকে বেশি) অবস্থান করছে, সেসব দেশে প্রবৃদ্ধি একসময় শ্নথ হয়ে আসে এবং দারিদ্র্য নিরসনের গতিও থমকে যায়। মোট কথা, জাতীয় আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আয়-বৈষম্যও বাড়ছে-এতে চিন্তিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ওপরের আলোচনা থেকে এটুকু স্পষ্ট যে বঙ্গবন্ধুর গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে 'কমন গুড' তথা জনস্বাস্থ্য, জনশিক্ষা, গণপরিবহন, পরিবেশ সংবেদনশীল উন্নয়ন বিষয়ে অনেক প্রশ্ন তোলার অবকাশ রয়ে গেছে। সমাজে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য নিয়েও উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বঙ্গবন্ধু যে সমতামুখীন সমাজ চেয়েছিলেন তা এখনও 'অসমাপ্ত প্রকল্প' হিসেবেই রয়ে গেছে। এর একটা কারণ হতে পারে যে বঙ্গবন্ধুর গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র সম্পর্কে রাজনৈতিক সচেতনতা এবং আদর্শিক আগ্রহ আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। শাসক দল আর ৫০ বছর আগেকার মতো গরিব-মধ্যবিত্তের পার্টি নয়; এটি এখন অনেক বেশি ধনিক শ্রেণিনির্ভর পার্টি। ১৯৭২-৭৫ সালে যারা নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত ছিলেন তারা এখন হয়তো উচ্চ-মধ্যবিত্ত বা ধনিক শ্রেণির কাতারে। এর পেছনে খানিকটা তথ্য-প্রমাণও রয়েছে। ১৯৭৩ সালের পার্লামেন্টে সংসদ-সদস্যের বেশিরভাগই ছিলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মধ্য কৃষক, চিকিৎসা, শিক্ষকতা বা আইন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। খুব কমই ছিলেন তখন বৃহৎ ট্রেডার ও শিল্পপতি। কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন সংসদ সদস্যের অধিকাংশই কোনো-না-কোনো শিল্পের মালিক ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। মধ্য কৃষক বা মধ্যবিত্ত ঘরের থেকে আসা সংসদ সদস্য খুবই কম (কৃষক-শ্রমিক, নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণি থেকে আসা সংসদ সদস্য নেই বললেই চলে)। এ তথ্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহানের বিশ্নেষণ থেকে বেরিয়ে এসেছে। সংসদ-সদস্যদের শ্রেণি-পরিচয়ে এই ধনিক-অভিমুখীনতার কারণে বিশেষ কায়েমী স্বার্থের বলয়ের দ্বারা অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এবং এই যুক্তিতে জনস্বাস্থ্য, জনশিক্ষা ও গণপরিবহনের ক্ষেত্রে নাটকীয় শুভ পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসে বৈকি। বৈষম্যরোধকারী নীতিমালা গ্রহণেও সংসদ সদস্য বা নীতিপ্রণেতাদের তৎপর হতে দেখা যায় না তেমন। কররাজস্ব নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে (যেমন সম্পদ-কর বসানোর ক্ষেত্রে) অথবা সরকারি ব্যয় বরাদ্দে সামাজিক সুরক্ষার অংশ বাড়ানোর ক্ষেত্রে যে পরিমাণ 'কমিটমেন্ট' আবশ্যক ছিল তা দৃশ্যত পরিলক্ষিত হয় না। সংসদের অধিকাংশ সদস্য উচ্চ মধ্যবিত্ত-ধনিক শ্রেণিভুক্ত হওয়ার কারণে গরিব শ্রেণি অভিমুখীন নীতিমালা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। শুধু তা-ই নয়, কেবল ধনিক শ্রেণির স্বার্থে নীতিমালা বা প্রকল্প গ্রহণের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার (যাকে বলে 'পলিসি ক্যাপচার' বা 'রেন্ট ক্যাপচার') আশঙ্কা দেখা দেয়।

কিন্তু এই যুক্তিটা সঠিক না-ও হতে পারে। এমনও হতে পারে যে আমাদের দেশে ঐতিহ্যবাহী ধনিক শ্রেণি বা ক্লাসিক বুর্জোয়া পরিবার-গোষ্ঠী আদিতে না থাকার কারণে ধনিক পরিবারের সংখ্যা কালক্রমে বেড়েছে বটে, কিন্তু রাষ্ট্র হাতে-গোনা কিছু পরিবারের কাছে জিম্মি হয়নি। এই যুক্তিতে যেভাবে ভারতে টাটা-বিড়লা বা পাকিস্তানে আদমজী-দাউদ কয়েকটি একচেটিয়া (মনোপলি) পরিবার শিল্প-ব্যবসা খাতে আত্মপ্রকাশ করেছিল আমাদের দেশে এখনও সেই প্রবণতা দেখা দেয়নি। বেসরকারি ব্যাংক-বীমা ও শিল্প খাতে শতাধিক বৃহৎ ধনিকগোষ্ঠী বিচরণ করলেও তাদের নীতিমালা প্রভাবান্বিত করার ক্ষমতা সীমিত। এদের একটা বড় অংশেরই রয়েছে রপ্তানিমুখীন গার্মেন্টস শিল্প চালানোর অভিজ্ঞতা। অর্থাৎ এক দশক বা দুই দশক আগেও তারা মধ্যবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাদের এখনও মনোপলি বা একচেটিয়া পুঁজির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। ফলে তাদের আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রের তরফে (নীতিমালা গ্রহণের ক্ষেত্রে) এখনও একটি আপেক্ষিক স্বাতন্ত্র্য বা 'রিলেটিভ অটোনমি' রয়ে গেছে। সবকিছুর জন্যে তাদের মুখাপেক্ষী হওয়ার দরকার নেই রাষ্ট্রের কর্ণধারদের। এর ফলে-কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম ছাড়া-অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা তাদের উন্নয়নের পথে যেসব প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছেন সেসবের দ্রুতই সমাধান করা গেছে। কভিড-উত্তরকালে প্রবৃদ্ধি বা রপ্তানির ক্ষেত্রে যেসব অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল রাষ্ট্র দ্রুতই তার মীমাংসা দিতে পেরেছে। কভিড-উত্তর ইনসেনটিভ প্যাকেজের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশই বেসরকারি গার্মেন্টস্‌ খাতের জন্য ব্যয়িত হয়েছে 'ওয়েজ সাবসিডি' হিসেবে। এর সুফল পেয়ে থাকবেন গার্মেন্টস্‌ কারখানার শ্রমিকেরা। তারপরও বলতে হয়, বেসরকারি খাতনির্ভর উন্নয়নের পথে নতুন প্রযুক্তি বা নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করলেও বেসরকারি মালিকদের সংগঠন বা সাধারণভাবে এদেশের পুঁজিপতি শ্রেণি নিজের গরজে এদেশের রাষ্ট্রকে একটি 'জনকল্যাণকামী রাষ্ট্রে' ('ওয়েলফেয়ার স্টেট') পরিণত করে ফেলবে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। হয় শক্ত হাতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব (যেমন, বিসমার্কের জার্মানিতে 'সোশ্যাল স্টেট'-এর ক্ষেত্রে) বা দেশের ভেতরে 'নিচে থেকে' গড়ে-ওঠা সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক আন্দোলন অথবা শাসক দলের ওয়েলফেয়ার স্টেটমুখী সচেতন পদক্ষেপ বঙ্গবন্ধুর 'গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের' চিন্তাধারাকে একবিংশ শতাব্দীর পরিস্থিতিতে বাস্তবায়ন করতে সাহায্য করতে পারে। শুধু বেসরকারি ব্যবসায়ী শিল্পপতি-ব্যাংকারদের দিয়ে গড়ে ওঠা সংগঠন, সংসদ বা শ্রেণি এককভাবে এই কাজটি করতে পারবে না।

[ক্রমশ]