ব্যক্তিজগৎ কি কবিতার জগতের ভরকেন্দ্র হয়ে কাজ করে! হতে পারে, সম্পর্কটি দিন ও রাত্রির মতো। যা কাজ করে সমান্তর বৈচিত্র্য নিয়ে। টমাস হার্ডি নাকি আনন্দে প্লাবিত সময়ে বেদনার কবিতা লিখতেন।র্ যাঁবোর কবিতায়, তাঁর আত্মজীবন এক অতিজীবনের প্রতিফলন। কিন্তু বিশ্বাস করি, কবিতা কখনোই পুরোপুরি আত্মজৈবনিক হতে পারে না। কারণ কবি তার মধ্যে একটি নতুন জগতের উত্তরণ ঘটান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যু চেতনা সম্পর্কিত কবিতাগুলো পড়তে গিয়ে তাঁর কিশোরবেলা, যৌবন, তারুণ্য- এই সবকিছু লক্ষ্য করি বিপন্ন বিস্ময় নিয়ে। অন্ধকার আর মৃত্যু যখন সকল সত্তাকে দখল করে রেখেছে, তখনও তিনি তাঁর অস্তিত্বের গূঢ় বীজমন্ত্র তাঁর কবিতাকে ধরে রেখেছেন এক দৃঢ় বিশ্বাসে।
মৃত্যু সম্পর্কে তিনি লেখেন :
'আধুনিককালে আমরা জীবনের সঙ্গে মৃত্যুর একটা বিরোধ অনুভব করি। মৃত্যু যে জীবনের পরিণাম, তাহা নহে, মৃত্যু যেন জীবনের শত্রু। জীবনের পর্বে পর্বে আমরা অক্ষমভাবে মৃত্যুর সঙ্গে ঝগড়া করিয়া চলিতে থাকি। যৌবন চলিয়া গেলেও আমরা যৌবনকে টানাটানি করিয়া রাখিতে চাই। ভোগের আগুন নিবিয়া আসিতে থাকিলেও আমরা নানাপ্রকার কাঠখড় জোগাইয়া তাহাকে জাগাইয়া রাখিতে চাই। ইন্দ্রিয়শক্তি হ্রাস হইয়া আসিলেও আমরা প্রাণপণে কাজ করিতে চেষ্টা করি। মুষ্টি যখন স্বভাবতই শিথিল হইয়া আসে, তখনো আমরা কোনোমতেই কোনো কিছুর দখল ছাড়িতে চাই না। প্রভাত ও মধ্যাহ্ন ছাড়া আমাদের জীবনের আর-কোনো অংশকে আমরা কিছুতেই স্বীকার করিতে ইচ্ছা করি না। অবশেষে যখন আমাদের চেয়ে প্রবলতর শক্তি কানে ধরিয়া স্বীকার করিতে বাধ্য করায়, তখন হয় বিদ্রোহ, নয় বিষাদ উপস্থিত হয়- তখন আমাদের সেই পরাভব কেবল রণে-ভঙ্গরূপেই পরিণত হয়, তাহাকে কোনো কাজে লাগাইতেই পারি না।'
'সত্যকে অস্বীকার করি বলিয়া পদে পদেই সত্যের নিকটে পরাস্ত হইতে থাকি।'
'কে রাখিতে পারে, আকাশের প্রতি তারা ডাকিছে তাহারে।' সমস্ত পৃথিবীর অনেক সত্যের মধ্যে মৃত্যুর অতি আশ্চর্য সত্য যেন দৃশ্যে, গন্ধে, অনুভবে কবির কাছে মুহূর্তেই অভিনব হয়ে উঠেছিল। সমস্ত জীবনব্যাপী নানা বিয়োগান্ত অভিজ্ঞতার ভিতর দিয়ে মৃত্যুর বিস্ময়কর পৃথিবীতে তিনি উঁকি দিতে বাধ্য হয়েছিলেন বারবার। ছেলেবেলাতেই মায়ের মৃত্যু এক বিস্ময়! তারও আগে ছোটভাই বুধেন্দ্রনাথের মৃত্যু! যদিও তখন তিনি এত ছোট যে, তাঁর স্মৃতিতে তার দাগ বসেনি। চোদ্দ বছর বয়সে মায়ের মৃত্যু এক কিশোর বালকের মনে কী হাজার হাজার বছর শীতল বরফের উপর হেঁটে যাওয়ার অনুভব দিয়েছিল! তখন চোদ্দ বছর বয়সে মৃত্যু যে কী, ঠিক যেন বুঝে উঠতে পারলেন না। গভীর রাতে দাসীর চিৎকারে ঘুম ভেংগে মা সারদাদেবীর মৃত্যুসংবাদটি, টিমটিমে প্রদীপের আলো-অন্ধকারে কিশোর মনটিকে দমিয়ে দিয়েছিল ঠিকই। পরদিন বাইরে বারান্দায় এসে সুন্দরভাবে সাজানো মায়ের দেহ আর প্রশান্ত মুখ দেখে তাঁর মনেই হয়নি মৃত্যু একটা ভয়ংকর ব্যাপার। তবু যেন একটি নির্দিষ্ট ভাবনা তাঁকে আলোড়িত করেছিল যা জীবনস্মৃতিতে উল্লিখিত : 'এই বাড়ির এই দরজা দিয়া মা আর একদিনও তাঁহার নিজের এই চিরজীবনের ঘর করনার মধ্যে আপনার আসনটিতে আসিয়া বসিবেন না।'
তবু তিনি বিশ্বাস রেখেছেন দীপশিখায়। চিরকালীন সবুজের মায়ায়, নদীর আপন বেগে, স্তব্ধ চাঁপার স্বগতোক্তিতে। ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলিতে তিনি মৃত্যুকে বলছেন, 'মরণ রে/শ্যাম তোঁহারই নাম। চির বিসরল যব নিরদয় মাধব/তুহুঁ ন ভইবি মোয় বাম/আকুল রাধা রিঝ অতি জরজর/ঝরই নয়ন্তদউ অনুক্ষণ ঝরঝর/ তুহুঁ মম মাধব, তুঁহু মম দোসর/তুঁহু মম তাপ ঘুচাও।/মরণ তু আও রে আও।
মৃত্যুর প্রতি এই চিন্তাসূত্রের মনস্তত্ত্বকে কী বলব! জীবন ও মৃত্যুর মাঝখানের এক বিশাল নিষ্ঠুরতাকে লুকিয়ে মৃত্যুকে প্রেমের সৌন্দর্য দিয়ে বরণ করে নেবার উত্তুঙ্গ স্তরটিকে তিনি ধারণ করেছিলেন উপনিষদের আলোকে। উপনিষদিক ভাবনার এই একান্ত রূপটি তিনি তার পিতার সাধনার জীবনের ভিতর দিয়ে নিজের অন্তরে লালন করেছিলেন। কবিতা, গদ্য, প্রবন্ধ এবং গানে উপনিষদের দর্শনকে প্রকাশ করেছেন নানাভাবে। মৃত্যুর রূপ সেখানে জীবনের মতোই সচল আর গতিময়। যেন এঘর থেকে ওঘরে যাওয়া। মৃত্যু যেন সর্বদাই সখা, সে যেন সর্বকালের প্রেমিক। সে যেন স্বাভাবিক নিয়মে ঝরে যাবার বাগানের ফুল। 'ক্ষণিক' কবিতায় তিনি লিখেছেন-
'এ চিকন তব লাবণ্য যবে দেখি
মনে মনে ভাবি একি
ক্ষণিকের পরে অসীমের বরদান
আড়ালে আবার ফিরে নেয় তারে
দিন হলে অবসান।'
কোনো কোনো কবিতায় মৃত্যু নিয়ে সংশয়ও রয়েছে। যেমন নৈবেদ্য কাব্যগ্রন্থের 'মৃত্যু' কবিতায়- 'মৃত্যু অজ্ঞাত মোর/আজি তার তরে/ক্ষণে ক্ষণে শিহরিয়া কাঁপিতেছি ডরে/এত ভালবাসি/বলে হয়েছে প্রত্যয়/মৃত্যুরে আমি ভালো/বাসিব নিশ্চয়।'
কিশোর বয়সের বন্ধু ও বৌদি কাদম্বরী দেবীর অপমৃত্যু, তারও পরে স্ত্রী, তারপর সন্তানদের মধ্যে বেলা, শমী ও একে একে প্রিয়জনের মৃত্যু কবিকে একদিকে যেমন ঋজু আর অনন্য করেছে, অন্যদিকে তাঁর ক্লান্তিও আমরা দেখতে পাই তার গানে। 'ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু/পথে যদি পিছিয়ে পড়ি কভু/দিনের তাপে, রৌদ্র জ্বালায়,/শুকায় মালা, পূজার থালায়/সেই ম্লানতা ক্ষমা করো প্রভু।'
তবু জীবনস্মৃতির মৃত্যুশোক পর্যায়ে কবি লিখছেন, 'জগৎকে সম্পূর্ণ করিয়া এবং সুন্দর করিয়া দেখিবার জন্য যে দূরত্ব প্রয়োজন, মৃত্যু দূরত্ব ঘটাইয়া দিয়াছিল। আমি নির্লিপ্ত হইয়া দাঁড়াইয়া মরণের বৃহৎ পটভূমিকার ওপর সংসারের ছবিটি দেখিলাম এবং জানিলাম, তাহা বড়ো মনোহর।'
রবীন্দ্রনাথের মেজ মেয়ে রেনুকা তখন অসুস্থ। একদিন সকালে বন্ধু রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী দেখা করতে এসে জানতে চাইলেন, 'রেনুকা কেমন আছে!' উত্তরে কবি বললেন, 'আজ সকালে সে মারা গিয়েছে।' কবির মুখের দিকে তাকিয়ে স্থির হয়ে গেলেন রামেন্দ্রসুন্দর। কী জানি! তিনি কী দেখেছিলেন ওই মুখে! মৃত্যুর এই আক্রমণের কতটা আলো-অন্ধকার, কতটা অবসাদ, কতটা জ্বলন্ত জ্বলন ছিল স্থির উত্তরের মধ্যে!
বৌঠান কাদম্বরীর অস্বাভাবিক অকালমৃত্যু ছিল রবীন্দ্রনাথের জন্য এক মনোবিকলনের অধ্যায়। আন্দাজ করি, এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর পরের কাঁটাছেঁড়াও কম বীভৎস নয়। আত্মবিলুপ্তির কথা কি তিনি ভেবেছিলেন তখন! কোনো এক সুন্দর রাতে! যখন চাঁদ সাঁতরে যাচ্ছে মেঘের ভিতর। আবার কোথাও ডেকে উঠেছে কর্কশ ধ্বনিময় পেঁচার ডাক।
কাদম্বরী মারা যাবার কিছুদিন পর, 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকায় তিনি একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন, যার নাম 'আত্মা'। সেখানে তিনি লিখলেন, 'যে আত্মবিসর্জন করতে পারে, আত্মার উপর শ্রেষ্ঠ অধিকার শুধু তারই জন্মাতে পারে।'- এমন একটি ভয়ংকর ইচ্ছে কি তাঁরও হয়েছিল কোনো এক বয়সে এসে! তাই বুঝি আত্মহত্যাকে লিখলেন আত্মবিসর্জন!
কিন্তু 'মৃত্যুঞ্জয়' কবিতায় তিনি মৃত্যুকে কাটিয়ে উঠে এক অসীম আনন্দলোকের কথা ভাবছেন। তিনি লিখেছেন, 'এইমাত্র? আর-কিছু নয়? ভেঙে গেল ভয়/যখন উদ্যত ছিল তোমার অশনি/তোমারে আমার চেয়ে বড় বলে নিয়েছিনু গনি/আমি মৃত্যু-চেয়ে বড়/এই শেষ কথা বলে/যাব আমি চলে।' হয়তো এই গতিশীল বিশ্বের যা কিছু চলমান বস্তু তা স্রষ্টার বাসের নিমিত্ত মনে করার মধ্যে জীবনের অসম্পূর্ণতা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় আছে জেনে তিনি নিবৃত্ত হয়েছিলেন। অন্তরের যে আনন্দরস, যা দিয়ে কবিতা লেখা যায় তার উৎসমূলে রয়েছে মৃত্যুর বিচ্ছেদবেদনা। 'যেতে যেতে একলা পথে/নিবেছে মোর বাতি/ঝড় এসেছে, ওরে, এবার ঝড়কে পেলেম সাথি।' 'যে পথ দিয়ে যেতেছিলেম ভুলিয়ে দিল তারে/ আবার কোথা চলতে হবে গভীর অন্ধকারে/কোন পুরীতে গিয়ে তবে প্রভাত হবে রাতি ...'
২.
চারপাশে করোনাকাল। মৃত্যুর এক প্রাত্যহিক খেলা চলছে। সকল বৈজ্ঞানিক বিশ্নেষণের বাইরে আমি ভালোবাসি প্রকৃতিকে, মানবজীবনকে। মানুষের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসা এই করোনাকালে, যখন হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন না নিতে পারা মানুষেরা ভয়ংকর ভাবে একা, সম্পূর্ণ একা- কেবলি অপেক্ষায় আছে মৃত্যুর জন্য। উদ্বেগ, মনোবেদনা আর নিরাপত্তাহীনতার ভিতর মানুষেরা নিশিদিন, ভরসার জায়গাগুলো থেকে যেন অনবরত সরে যাচ্ছে। এক সাড়াশব্দহীন ভয়াবহতা তাড়া করছে দিবানিশি। দুঃখগুলো পিষে মারছে অবিরত। কী করি তখন! রবীন্দ্রনাথের গানের ভুবনে উঁকি দিই। বিস্মিত হই। কিছু সুগন্ধ, কিছু স্বপ্ন, কিছু প্রেরণা- এখনও আছে তবে! এখনও তবে আছে সমস্ত ব্যথার ঊর্ধ্বে এক জ্যোতির্ময় আনন্দধারা! অন্ধকারের ভয়াবহ নগ্ন দেয়ালের ওপারে রয়েছে কী আলোর আকাশ!
সৌন্দর্যবোধ মানবচেতনার এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। চেতনার উন্মেষের সঙ্গে সঙ্গেই মানবশিশুর চোখে এই প্রকাণ্ড রহস্যময় জগৎ আপন, সুন্দর আর ভালোবাসাময় হয়ে তৈরি করে তার নির্ভুল অন্তর্দৃষ্টি আর আর জন্মগত ও বিকাশমান সৌন্দর্যচেতনা। কিন্তু মৃত্যুর করালগ্রাস যেন উলঙ্গ কুৎসিত। জীবন এত প্রবল বলেই বারবার মৃত্যুর পদধ্বনি! ওখানে থেমে, আমরা যেন বোবা আর জড়বুদ্ধিগ্রস্ত হয়ে যাই। তাই নিরন্তর শুভবোধের দিকে মনকে পরিচালিত করতে হয়। সুন্দর ও সত্য একসঙ্গে মিলেই তৈরি হয় শুভবোধ।
একজন প্রকৃত শিল্পী কখনই তাঁর প্রিয়তম বন্ধুটিরও তুলির আঁচড় সহ্য করবেন না ক্যানভাসে। একজন কবি কখনও চাইবেন না, তাঁর কবিতার একটি বর্ণও বদলে যাক অন্যের হস্তক্ষেপে। হস্তক্ষেপতো দূরের কথা, অন্যের শারীরিক উপস্থিতিও তখন অসহনীয় সেই সৃজনের সময়ে। কিন্তু গানের ক্ষেত্রে বিষয়টি যেন একটু অন্যরকম।
'একাকী গায়কের নহে তো গান, মিলিত হবে দুইজনে-
গাহিবে একজন খুলিয়া গলা, আরেক জন গাবে মনে।'
চারপাশে দুঃখের স্রোতধারা। মৃত্যুর করাল থাবা। তার মধ্যেই গাই রবীন্দ্রনাথের গান, 'অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো।' অথবা 'তোমার অসীমে প্রাণ মন লয়ে যতদূরে আমি ধাই।' অথবা 'আজি ঝড়ের রাতে তোমার অভিসার'। এসব গান যখন সম্পূর্ণ হৃদয়কে অধিকার করে রাখে, কোনো তীব্র মুহূর্তে, আর তা উৎসারিত হয় অবচেতনের গহন থেকে, তখনই তা গান হয়ে ওঠে। সে যেন নতুন অর্থ পায় চির নতুনের মধ্যে, মননের গতির মধ্যে। মননহীন গানতো রবীন্দ্রনাথের গান হতে পারে না। মননহীন স্থবিরতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথের গান গাওয়া যায় না। তার ভাবসম্পদ দাবি করে গভীর অভিনিবেশ।
সহজ সুরে, দ্রুতলয়ের দুটি গানের কথা ভাবছি। 'খর বায়ু বয় বেগে. গানটি নিতান্তই সরল গান। সাধারণত শিশুরা শেখে প্রথম দিকে। আমিও তেমন করেই শিখেছিলাম। কিন্তু অনেক বড়বেলায় গানটির প্রকৃতরূপটি আবিস্কার করি। 'যদি মাতে মহাকাল/উদ্দাম জটাজাল/ঝড়ে হয় লুণ্ঠিত, ঢেউ ওঠে উত্তাল/হয়ো নাকো কুণ্ঠিত তালে তাল,/দিও তাল/ জয় জয় জয় গান গাইও-। অবধারিত নিয়তির মুূমূর্ষু জীবনের মধ্যে গানের এই লাইনগুলো ছিল ঈশ্বরের মতো।
আরেকটি গান, 'ওগো নদী, আপনবেগে পাগলপারা...'। এই গানটিও দ্রুতলয়ের। ঝরনার মতো উচ্ছল একটি গান। কিন্তু তার বাণীর গভীরে যখন স্তব্ধ চাঁপার তরুটিকে অনুভব করি, তখন এই গান অন্য এক গান হয়ে ওঠে। এই গান হয়ে ওঠে গভীরতার দিকে চলমান কোনো গান। বাইরের হাতছানি উপেক্ষা করে অন্তরের দিকে চলার গান। সেখানেই আছে জ্যোতির্ময় আনন্দধারা। মৃত্যুকে জয় করার এক অলৌকিক আনন্দ।