যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন কনজারভেটিভ দলের নেতার পদ থেকে আজই পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানায়।

খবরে বলা হয়, তিনি কনজারভেটিভ দলের নেতার পদ থেকে আজই পদত্যাগ করতে পারেন। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শরৎকাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

জনসন এ বিষয়ে আজই ঘোষণা দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন ১০ নং ডাইনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতীর উদ্দেশ্যে আজ একটি বিবৃতি দিতে পারেন। 

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের একটি সূত্র জানিয়েছে, জনসন তার সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানানোর জন্য কনজারেভিটিভ ১৯২২ কমিটির চেয়ারম্যান স্যার গ্রাহাম ব্র্যাডির সঙ্গে কথা বলেছেন।

সূত্রটি জানায়, প্রধানমন্ত্রী স্যার গ্রাহাম ব্র্যাডির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সময়মতো পদত্যাগ করতে রাজি হয়েছেন।

চলতি গ্রীষ্মেই কনজারভেটিভ দলের নেতা বাছাই করা হবে। আর অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হবে দলটির সম্মেলন।

বরিস জনসন ২০১৯ সালে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হন। কিন্তু গত দুবছর ধরেই তিনি একের পর এক কেলেংকারিতে জড়িয়ে দলের মধ্যে অনেকের আস্থা হারিয়েছেন।

মূলত একজন এমপির বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগকে ঘিরে বরিস জনসনের প্রধানমন্ত্রীত্ব এই সর্বশেষ সংকটে পড়েছে। কনজারভেটিভ পার্টির এমপি ক্রিস পিঞ্চারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তিনি একজনের ওপর যৌন হামলা চালিয়েছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এ রকম অভিযোগ সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পরও কেন প্রধানমন্ত্রী জনসন পিঞ্চারকে ডেপুটি চিফ হুইপ নিয়োগ করেন— এটি নিয়েই মূলত তোপের মুখে পড়েন তিনি।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুই মন্ত্রীর নাটকীয় পদত্যাগ ব্রিটিশ রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করে। এরপরই একের পর এক মন্ত্রীরা পদত্যাগ করতে থাকেন বরিস জনসনের নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে।