ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দারা ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দিয়েছিলেন। সে সময়ে ভোটদানের ব্যাপারে তাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল। এরপর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও ভোট দেন তারা। তারা ভোটাধিকারের সুযোগ পেলেও এতদিনেও তাদের জমির অধিকারের দাবি পূরণ হয়নি। এ জন্য এবারের নির্বাচনে তাদের আগের মতো সেই উৎসাহ আর দেখা যাচ্ছে না। এদিকে, নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করার অভিযোগে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিশ দেওয়ায় কমিশনের তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার হাওড়ার ডোমজুড়ে নির্বাচনী সভায় এ সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিধানসভা ও লোকসভার ভোটের সময় প্রতিবার কোচবিহারে গিয়ে বিভিন্ন দলের নেতারা ভূরি ভূরি প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর তা বাস্তবায়িত হয় না। দীর্ঘদিনেও তাদের জমির অধিকারের দাবি কার্যত পূরণ হয়নি। এ কারণে এবারের নির্বাচনে সাবেক এই ছিটমহলবাসীর আগ্রহ নেই বললেই চলে। তাই আক্ষেপের সুরেই সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দা জয়নাল আবেদিন বলেন, 'জমির কাগজ তো এখনও পাইনি আমরা। এটাই তো আমাদের অন্যতম দাবি ছিল। এ জন্য এ অঞ্চলের মানুষের ভোট নিয়ে বিশেষ কোনো উৎসাহ নেই। '
জয়নাল দীর্ঘদিন ধরে ছিটমহল বিনিময় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই আন্দোলনের প্রধান মুখ ছিলেন দীপ্তিমান সেনগুপ্ত। বর্তমানে তিনি বিজেপি শিবিরে রয়েছেন। তবে এখনও তিনি ওই অঞ্চলের সুখ-দুঃখে পাশে থাকেন। তাদের অভিযোগ, সাবেক ছিটমহলবাসীর অনেকেই সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। সেখানে এখনও কর্মসংস্থানের পর্যাপ্ত সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। সেখানে ছিটমহল হস্তান্তর হলেও জমি সংক্রান্ত কাগজ এখনও হাতে পায়নি একাংশ।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা ওই অঞ্চলে প্রচারে গেছেন। মধ্য মশালডাঙা, করলা কিংবা পোয়াতুরকুঠি সাবেক এ ছিটমহলে শাসক ও বিরোধী দলের পক্ষে বহু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তাতে আস্থা পান না স্থানীয়রা।
২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে ছিটমহল বিনিময় হয়। এ কৃতিত্ব নিজেদের দাবি করে তৃণমূল ও বিজেপি উভয়ই। তবে এতদিনে সেখানে প্রকৃত সমস্যার সমাধান হয়নি। আগে তাদের নাগরিকত্ব ছিল না, এখন সেটা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হতে চান তারা।
এদিকে, নির্বাচনী আচরণবিধি ভাঙার অভিযোগে নোটিশ পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার তাকে নোটিশ পাঠায় নির্বাচন কমিশন। মমতাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে হবে। ৩ এপ্রিল হুগলির তারকেশ্বরে এক নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে সংখ্যালঘু মুসলিমদের একজোট হয়ে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। এটা নিয়ে মূলত মমতার বিরুদ্ধে নোটিশ পাঠানো হয়।
নির্বাচন কমিশন নোটিশ পাঠানোয় কড়া সমালোচনা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল হাওড়ার ডোমজুড়ে সভায় শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, 'নন্দীগ্রামে মুসলিমদের যারা পাকিস্তানি বলেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে কটা অভিযোগ হয়েছে? খালি তৃণমূলের বিরুদ্ধেই সব অভিযোগ!' এদিন প্রকাশ্যে সভা থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেই পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ তোলেন মমতা।
কলকাতায় নির্বাচনী প্রচারে আসতে পারেন রাহুল :পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আট ধাপের ভোটের এ পর্যন্ত তিন ধাপ অনুষ্ঠিত হলেও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেননি। তবে শেষ পর্যন্ত শেষ দুই দফার আগেই কলকাতায় আসতে পারেন তিনি।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে অন্য কয়েকটি রাজ্যে চলা নির্বাচনের প্রচারে রাহুল গেলেও এ রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেননি তিনি। তবে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এবার চেষ্টা হচ্ছে, যাতে কলকাতাতেই সংযুক্ত মোর্চার নেতাদের উপস্থিতিতেই রাহুল একটি জনসভায় হাজির হন।
কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেছেন, রাহুল গান্ধী পশ্চিমবঙ্গে ভোট প্রচারে যথাসময়ে অংশ নেবেন। কংগ্রেস সূত্র বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, শেষ দুই দফা নির্বাচনের প্রচারে অংশ নিতে পারেন তিনি।

মন্তব্য করুন