যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, চীন উইঘুরদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। বিদায়ী ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনি বলেন, জিনজিয়াং প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় উইঘুর সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অধ্যুষিত ওই অংশে মানবতাবিরোধী অপরাধ চালিয়েছে দেশটির সরকার। 

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যার একদিন পরেই নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করতে যাচ্ছে ডেমোক্রেটিক পার্টির জো বাইডেন। খবর আল জাজিরার

ট্রাম্পের বিদায় এবং বাইডেনের অভিষেক লগ্নে বিদায়ী প্রশাসনের এই বক্তব্য তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না করলেও বাইডেন প্রশাসনের  জন্য এটা জটিলতার আভাস বলে মনে হচ্ছে। এর মাধ্যমে চীন-যুক্তরাষ্ট্র নাজুক সম্পর্কে আরো অবনতি ঘটতে পারে।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে পম্পেও বলেন, যেসব তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে, সতর্কতার সঙ্গে তা পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছা গেছে যে, চীনের কমিউনিস্ট সরকার জিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলিম ও অন্যান্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধর্মীয় ও জাতি-গোষ্ঠীর লোকদের ওপর গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী কার্যক্রম চালিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রাপ্ত সকল তথ্যপ্রমাণে এটাই নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হচ্ছে অন্তত ২০১৭ সালের মার্চ মাস থেকে চীন ওই অঞ্চলের বিভিন্ন ধর্মীয় জাতি-গোষ্ঠীর লোকদের ওপর নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা আগের চেয়ে অনেক বেশি বাড়িয়েছে। অত্যাচারিত জাতিগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কাজাখ ও কিরগিজও রয়েছে।

মঙ্গলবারের ওই বিবৃতিতে পম্পেও আরো বলেন, আমার বিশ্বাস, গণহত্যা চলছেই। আমরা যতটা অনুধাবন করতে পারছি, তাতে মনে হয় চীন সংখ্যালঘু উইঘুরদের পুরোপুরিভাবে নিশ্চিহ্ন করে ফেলতে চায়।

একই দিন ফক্স নিউজের সঙ্গেও এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় ওই প্রদেশটিতে যা ঘটছে, তা মর্মান্তিক ও এক কথায় অমানবিক।

যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য বরাবরই উইঘুরদের ওপর চীনের দমনপীড়ন নিয়ে কথা বলে এসেছে। আর চীন সব সময় তা অবাস্তব ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

মন্তব্য করুন