ভারতে করোনাভাইরাসের টিকা গ্রহণের পর ৫০ জনের শরীরে অল্প পরিমাণে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, এর মধ্যে একজনের অবস্থা ‘কিছুটা গুরুতর’।

রোববার দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন এতথ্য জানিয়েছেন বলে এএনআইয়ের বরাত দিয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, শনিবার ভারতে করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই টিকা গ্রহণ করায় এখন পর্যন্ত ৫১ জনের শরীরে ‘ছোটখাটো’ জটিলতা দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, দিল্লিতে ৪ হাজার ৩১৯ জন স্বাস্থ্যকর্মী এই টিকা নিয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা ‘কিছুটা গুরুতর’ বলে জানা গেছে।

টিকা নিয়ে অসুস্থ হওয়া ওই ব্যক্তিকে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা ‘স্থিতিশীল’ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মন্ত্রী জানিয়েছন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের বাড়িতেই পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাদের হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।

এর আগে শনিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এসময় তিনি বলেন, ভ্যাকসিন তৈরি হতে অনেক সময় লাগে। কিন্তু দেশের বিজ্ঞানীরা দিন-রাত এক করে পরিশ্রম করেছেন। ৩ কোটি স্বাস্থ্যকর্মীকে ভারত সরকার বিনামূল্যে টিকা দেবে।

মোদি বলেন, করোনার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া কর্মীদের আগে টিকা দেওয়া হবে। দ্বিতীয় দফায় ৩০ কোটি মানুষ টিকা পাবেন। ধীরে ধীরে সবাইকে টিকা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ রয়েছে। এক মাসের মধ্যেই এই দুটি ডোজ নিতে হবে। ভ্রান্তির কোনো জায়গা নেই। প্রথম ডোজ দু’সপ্তাহের মধ্যেই কাজ করবে।’

ভারতের মোট ৩ হাজার ৬টি কেন্দ্রে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রত্যেক কেন্দ্রে ১০০ জনকে করোনার টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রথম দফায় চিকিৎসক, নার্স, অ্যাম্বুলেন্স চালক, স্বাস্থ্যকর্মী, সাফাই-কর্মীরা টিকা পাবেন।

এর পরে পুলিশ, সামরিকবাহিনীর সদস্যরা এবং অন্যান্য করোনা যোদ্ধাদের টিকা দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপে টিকা দেওয়া হবে ৫০ বছরের বেশি বয়স্কদের, বিশেষত যাদের আগে থেকেই কোনো না কোনো অসুস্থতা রয়েছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে পুনের সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ড জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেয় ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

একইসঙ্গে ভারতের হায়দরাবাদভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন টিকারও জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়। দুটি টিকারই দুই ডোজ করে নিতে হবে। দুই ডোজ টিকা নেওয়ার মধ্যে ব্যবধান ২৮ দিন।


মন্তব্য করুন