বৈরুতে বিস্ফোরণের ঘটনায় বন্দর কর্মকর্তারা গৃহবন্দি

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় দেশটির বন্দরের কয়েকজন কর্মকর্তাকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলাকালে বুধবার তাদের গৃহবন্দি করা হয়। মঙ্গলবার বৈরুত কাঁপানো ওই বিস্ফোরণে এখনো পর্যন্ত ১৩৫ জন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে আরো ৪ হাজারেরও বেশি। এ ঘটনার পর লেবাননে দুই সপ্তাহের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।

লেবানন সরকার জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তের জন্য বন্দর কর্মকর্তাদের গৃহবন্দি রাখা হয়েছে। 

দেশটির তথ্যমন্ত্রী মানাল আবদেল সামাদ বলেন, ২০১৪ সাল থেকে বন্দরের যেসব কর্মকর্তা সেখানে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুত রাখা, সেগুলো তত্ত্বাবধান করা এবং এর কাগজপত্র যারা দেখাশুনা করেছেন, সবাইকে গৃহবন্দি করা হবে। তিনি আরও জানান, দুই সপ্তাহের জন্য বৈরুতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। প্রয়োজনে তা আরও বাড়ানো হতে পারে।

নিহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামাদ হাসান। আল-মানার টেলিভিশনকে তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ জনে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৫ হাজার এবং নিখোঁজ রয়েছেন অনেকেই। আহতরা রাজধানীর ভেতরে ও বাইরে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট মাইকেল আউন বলেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় গুদামে মজুদ রাখা ২ হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের কারণে এই বিস্ফোরণ হয়েছে।

কৃষিকাজের জন্য সার এবং বিস্ফোরক বানানোর জন্য অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ব্যবহার করা হয়।

দেশটির কাস্টমস প্রধান বাদরি দাহের বলেন, এসব রাসায়নিক পদার্থ সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য তার সংস্থা বললেও তাতে কোন কাজ হয়নি।

ব্রিটেনের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা বলছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোশিমা শহরে যে পারমানবিক বোমা ফেলা হয়েছিল, সেটির দশভাগের এক ভাগ শক্তি ছিল বৈরুত বিস্ফোরণে। তারা বলছেন, বৈরুতের এই বিস্ফোরণ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পারমানবিক-বহির্ভূত বিস্ফোরণ।

বৈরুতের কর্মকর্তারা জানান, গুদামটিতে যে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ছিল তা ছয় বছর ধরে অনিরাপদ অবস্থায় সেখানে পড়ে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ২০১৩ সালে একটি জাহাজে করে এই অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বৈরুত বন্দরে এসেছিল।

বৈরুত বন্দরের প্রধান এবং কাস্টমস প্রধান দাবি করেন, তারা জানতেন যে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিপজ্জনক। তাই বন্দরের নিরাপত্তার কথা ভেবে সেখানে রাখা রাসায়রিক পদার্থ রফতানি কিংবা বিক্রি করে দেওয়ার জন্য আদালতের অনুমতি চেয়ে একাধিকবার চিঠি লেখা হয়েছিল।

লেবাননের সুপ্রিম ডিফেন্স কাউন্সিল বলেছে, এই ঘটনার জন্য যারা দোষী হবে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে।