করোনার মধ্যেই পরমাণু পরীক্ষা চালাবেন ট্রাম্প!

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২০     আপডেট: ২৩ মে ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দুর্জনের ছলের অভাব নেই, অপদার্থেরও নেই অজুহাতের অভাব। করোনা সংক্রমণ চীনের ভূখণ্ডে সীমিত থাকতে ট্রাম্প বেশ ঠাট্টা-মশকরায় মশগুল ছিলেন। করোনাকে সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা হিসেবে অবজ্ঞা করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছরেই স্থানীয়ভাবে কিছু লোক মারা যায় এই রোগে। কিন্তু করোনা যখন ‘পারমাণবিক শক্তি’র পরোয়া না করে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে গেল, তখন সুর পাল্টালেন আবার।

এবার বললেন, করোনা ভাইরাসের জন্য দায়ী চীন। তারাই  ওটা বানিয়েছে উহানের ল্যাবরেটরিতে। ভোটের আগে বিব্রত ট্রাম্প নিজের ব্যর্থতার দিক থেকে জনগণের দৃষ্টি ফেরানোর জন্য যে তার এসব বোলচাল, তা অবশ্য বুঝতে কষ্ট হয়নি কারো।


করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুতির অভাব ও ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতায় দেশটিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৯৭ হাজার ৬৬৫ জন, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বাধিক। পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক না হলেও এর মধ্যেই এবার পরমাণু পরীক্ষা করার তোড়জোড় শুরু করেছেন তিনি। করোনা মোকাবেলায় নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে ও আসন্ন নির্বাচনে হারানো জনপ্রিয়তা ফিরে পেতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


হোয়াইট হাউসের প্রশাসনিক সূত্র মতে, পেন্টাগনের কাছে খবর আছে রাশিয়া ও চীন হালকা পরমাণু পরীক্ষা করার তোড়জোড় করছে। তার পরেই বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসেন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। বৈঠকে পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষার কথা উঠেছে।

১৯৯২ সালে শেষবার পরমাণু পরীক্ষা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি, পরমাণু পরীক্ষা নিয়ে বিশ্ব জুড়ে চাপা উত্তেজনা থামাতে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে বৈঠকও চায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন।  কীভাবে তা করা হবে, তা এখনও ঠিক হয়নি। তবে রাশিয়া ও চীন পরমাণু পরীক্ষা থেকে বিরত না হলে পরিস্থিতি অন্যরকম হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর কোনও পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটায়নি। তবে পরমাণু নিরস্ত্রীরকণের যে নিয়ম রয়েছে তাতে এরকম বিস্ফোরণ ঘটালে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে আন্তর্জাতিক মহলে।  সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট।