‘চারদিকে শুধু আগুন আর আগুন’

পাকিস্তানে বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২০   

অনলাইন ডেস্ত

প্রচণ্ড শব্দ… এবং তারপর চারদিকে শুধু আগুন আর আগুন…এভাবেই নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে শুরু করলেন শুক্রবার সিন্ধু প্রদেশে দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত পাকিস্তানি বিমানের বেঁচে যাওয়া অন্তত দুই যাত্রীদের একজন মুহাম্মদ জুবাইর। মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় নিহত হন ৯৭ জন। কী ভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনো পরিষ্কার হয়নি।

পাইলটের কাছ থেকে পাওয়া বার্তায় দেখা গেছে, বিমানটি প্রথমবার নামার চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়।

এরপর এটি মে ডে কল পাঠায়। স্থানীয় সংবাদগুলো এসব কথা জানিয়েছে। করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত দেশটিতে লকডাউনের পর অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল শুরু হতেই এই ঘটনা ঘটল।

ফ্লাইট পিকে৮৩০৩ নামের এয়ারবাসটি লাহোর থেকে করাচি যাচ্ছিল। স্থানীয় সময় ২ টা ৩০ মিনিটে করাচি জিন্নাহ ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরে নামার সময় এটি আগুন ধরে গিয়ে বিধ্বস্ত হয়। খবর বিবিসির

৯১ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রুসহ ৯৯ যাত্রীর মধ্যে ৯৭ জনই নিহত হন। বেঁচে যাওয়া দুজনের মধ্যে মুহাম্মদ জুবাইর সামান্য আঘাত পান। কিন্তু তিনি যে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, সেটা হলো এরকম আমরা কেউই ভাবিনি যে বিমানটি বিধ্বস্ত হতে যাচ্ছে। কারণ নামার সময় খুব মসৃণ গতিতে নামছিল সেটি।

জুবাইর বলেন, ‘আচমকা ধাক্কায় আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম। জ্ঞান ফিরে আসার পর দেখি চারদিকে শুধু আগুন আর আগুন। জ্বলছে দাউ দাউ করে। তারপরই চিৎকার আর কান্নাকাটি শুনলাম। বাচ্চাদের আর  বয়স্কদের।’
জুবাইর বলেন, ‘সিটবেল্ট খুলে বেরিয়ে আসি আমি। সামনে আলো দেখতে পেয়ে ওদিকে যাই। আমি লাফ দিয়ে দশ ফুট নিচে পড়ি।’

প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ উজায়ের খান বলেন, ‘বিমানটি আকাশ থেকে বিকট শব্দে ভূমিতে নেমে আসে। আমার চোখের সামনে চারটি বাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে যায়। এটা যে কী দৃশ্য, বলে বোঝানো যাবে না।’