করোনাভাইরাস মৌসুমি চক্রে ফিরে আসতে পারে, বলছেন গবেষকরা

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২০     আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

করোনাভাইরাস নিয়ে নিয়মিতই গবেষকরা নতুন সব খবর জানোচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের এক সিনিয়র বিজ্ঞানী  জানিয়েছেন, মৌসুমি চক্রের সময় নতুন এই ভাইরাসটির ফিরে আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে এই ভাইরাস প্রতিরোধে ভ্যাকসিন এবং কার্যকর চিকিত্সার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন ওই মার্কিন বিজ্ঞানী। খবর এনডিটিভির
সংক্রামক রোগ নিয়ে কাজ করা গবেষক দলের প্রধান ও যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফৌসি জানিয়েছেন, ভাইরাসটি এখন শীত শুরু হচ্ছে এমন এলাকায় অর্থাৎ পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ’দক্ষিণ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলিতে শীতের মৌসুম শুরু  হওয়ায়  আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।’
তিনি  জানান, যদি বিষয়টা এমন হয় তাহলে এটা চক্রাকারে আবারও অন্য এলাকায় আঘাত করবে। এ কারণে এটি প্রতিরোধে সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ’ ভাইরাসটি প্রতিরোধে ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রে আরও জোর দিতে হবে। ’ তিনি আরও বলেন, ’ ভাইরাসটি শনাক্ত করতে দ্রুত পরীক্ষারও ব্যবস্থা করতে হবে ‘ । তিনি জানান,  পরবর্তী চক্রের আগে ভ্যাকসিনের ব্যাপারে সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ও  চীনে  তৈরি দুটি ভ্যাকসিন পরীক্ষামুলকভাবে মানবদেহে প্রবেশ করানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা শেষে এই ভ্যাকসিন তৈরি করতে এক বছর থেকে দেড় বছর সময় লাগতে পারে।
এছাড়া আরও কিছু ওষুধ প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে।
ফৌসি বলেন, ‘আমি জানি প্রতিষেধক তৈরির চেষ্টা সফল হবে। তবে আগামী চক্রের জন্য সত্যিই আমাদের প্রস্তুত থাকা দরকার।’
ফৌসির কথা অনুযায়ী, গরম এবং আর্দ্র আবহাওয়ার তুলনায় ভাইরাসটি শীতল আবহাওয়ার বেশি বিস্তার লাভ করে।  এদিকে চীনের অনেক গবেষকও একই কথা বলেছেন। যদিও গবেষণাটি এখনও প্রাথমিক অবস্থায় আছে।
গবেষকদের মতে, শীতে শ্বাস প্রশ্বাস থেকে যেসব জীবাণু বের হয় সেগুলি ঠান্ডা  আবহাওয়ায় দীর্ঘকাল ধরে বায়ু দ্বারা বাহিত থাকে। আবার ঠান্ডা আবহাওয়া শরীরের  প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল করে দেয়। অন্যদিকে অতিরিক্ত উত্তপ্ত পৃষ্ঠে ভাইরাসগুলির বৃদ্ধি দ্রুত হ্রাস পায়।
তবে বিজ্ঞানীরা এটাও বলছেন, সংক্রমণের হার কমে যাওয়া মানে ভাইরাস একবারে নির্মূল হ্ওয়া নয়। কারণ গরম আবহাওয়া  সত্ত্বেও অষ্ট্রেলিয়ায় এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন  ২ হাজার ৫০০ জন । এর মধ্যে মারা গেছেন ৮ জন।