ছাপা পত্রিকায় করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি নেই, মত বিশেষজ্ঞদের

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২০     আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যম হিসেবে ছাপা পত্রিকার নাম উঠে আসছে বারবারই। বিতর্ক চলছে বিষয়টি নিয়ে। অনেকেই বলছেন, এর মাধ্যমে মানুষে মানুষে ছড়িয়ে পড়ছে ভাইরাস। আসলেই কী তাই? মোটেও না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ছাপা পত্রিকার মাধ্যমে করোনা ছড়ানোর কোনও ঝুঁকি নেই।

ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পত্রিকার মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানোর তথ্যকে যুক্তিহীন বলেও মন্তব্য করেছেন চিকিৎসকরা। 

নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের জন্য ভারতীয় সরকারের পদকপ্রাপ্ত বেবি মেমোরিয়াল হাসপাতালের চিকিৎসক অনুপ কুমার বলেছেন, পত্রিকা অনিরাপদ- এমন তথ্যের কোনও যুক্তি নেই। তবে কেউ যদি জনবহুল এলাকাতে এই পত্রিকা পড়তে যান সেটাতে ঝুঁকি থাকে। নিজের কক্ষে পত্রিকা পড়লে করোনায় সংক্রমিত হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। 

অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (এআইআইএমস) পরিচালক ড. রনদীপ গুলেরিয়া বলেন, পত্রিকার ওপর এই ভাইরাস বেশিক্ষণ জীবিত থাকে না। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যেও পত্রিকা দেওয়া বিলি করা হচ্ছে না। সুতরাং পত্রিকা পড়লে এই ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার কারণ নেই।

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. ওম শ্রীবাস্তব বলেন, পত্রিকার মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছে- এমন প্রমাণ কোথাও নেই।

ওয়াশিংটনে সেন্টার ফর ডিজিস ডাইনামিক্স, ইকোনোমিক্স অ্যান্ড পলিসির পরিচালক ড. লক্ষীনারায়ণ বলেন, পত্রিকার মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা নেই। সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখলে বাতাসে হাঁচি-কাশির মাধ্যমে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি আছে।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চের (আইসিএমআর) সাবেক প্রধান ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ড. টি জ্যাকব জন বলেন, সংবাদপত্র ভাইরাসের বাহক- এমন তথ্য আমরা শুনিনি। এর মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা একবারেই নেই। কল্পিত ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরো সায়েন্সের (এনআইএমএইচএএনএস) বিশেষজ্ঞ ড. ভি রাভী বলেন, হাত না ধুয়ে নাক, চোখ ও মুখ স্পর্শ করা যাবে না। অনেকেই তো টাকা স্পর্শ করতেও ভয় পাচ্ছেন। শুধু কী পত্রিকা? যেকোনও কিছুই তো দূষিত হতে পারে। এখন পর্যন্ত টাকা এবং পত্রিকার মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানোর কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ফটিক্সি সি-ডকের চেয়ারম্যান ড. অনুপ মিশ্র বলেন, পত্রিকার মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে- গবেষণায় এমন কিছু দেখা যায়নি। পত্রিকার মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা নেই। গুজবে বিশ্বাস করা ঠিক নয়।

কলকাতার ভাইরাসবিদ ড. অমিতাভ নন্দী বলেন, যদি কোনওভাবে পত্রিকার ওপর ভাইরাস থাকেও; তবুও তা টিকবে অল্প কয়েক মিনিট। শুষ্ক জায়গায় পত্রিকার রাখা নিরাপদ।

ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির সাবেক পরিচালক ড. দীপক গাদকারী বলেন, পত্রিকার মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানোর তথ্য অবৈজ্ঞানিক ও অযৌক্তিক। জনগণকে আতঙ্কিত করা উচিত নয়। পত্রিকা স্পর্শ বা পড়ার মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি নেই।