৭০ বছর সংসারের পর হাতে হাত রেখেই মারা গেলেন দম্পতি

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০১৯      

অনলাইন ডেস্ক

আধুনিক সমাজে সম্পর্ক নিয়ে মানুষের মধ্যে অস্থিরতাই বেশি । ভালবাসার সম্পর্কগুলো খুব বেশিদিন স্থায়ীও হচ্ছে না। অথচ জীবনের ৭০ টা বছর একসঙ্গে কাটিয়ে, এই পৃথিবী ছেড়েও একইসঙ্গে চলে চলেন অস্ট্রেলিয়ান এক দম্পতি। সত্যিকারের ভালবাসা যে কখনও শেষ হয় না এই দম্পতির জীবনের গল্প যেন তাই প্রমাণ করেছে।

ভালবেসেই বিয়ে করেছিলেন ফ্রান্সিস আর্নেস্ট প্ল্যাটেল ও নরমা জুন প্ল্যাটেল।নরমা ছিলেন শিক্ষিত ও উচ্চ পরিবারের মেয়ে। অন্যদিকে ফ্রান্সিস বেড়ে ওঠা দরিদ্র এক পরিবারে। তারপরও তাদের ভালবাসায় কোনদিন ছেদ পড়েনি । ৭০ বছরের বিবাহিত জীবনে বেশ সুখের সঙ্গেই পার করেছেন এই দম্পতি। 

নরমা দীর্ঘদিন ধরে আলঝাইমার রোগে ভুগছিলেন। ফ্র্যান্সিসও বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন। কিছুদিন আগে দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুজনকে রাখাও হয় একই ঘরে।পাশাপাশি দুই বেডে রেখে চিকিৎসা চলছিল তাদের। 

সম্প্রতি একইদিনে এবং প্রায় একইসময়ে মারা যান এই দম্পতি। জানা যায়, চিকিৎসা চলাকালে গত ৫ জানুয়ারি হঠাৎ নরমার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। অস্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে শুরু করেন তিনি। ফ্র্যান্সিসও সেই সময় অস্থির হয়ে ওঠেন।দায়িত্বে থাকা নার্স ১০ মিনিট পর পর তাদের পরীক্ষা করছিলেন। সেই নার্সই দশ মিনিটের ব্যবধানে পরীক্ষা করতে এসে দেখেন, দুজনের শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। চিকিৎসকরা দুজনের মৃত্যুর সঠিক মুহূর্ত জানাতে পারেননি। তাই দুজনের মৃত্যু প্রায় একসঙ্গে হয়েছে বলেই ধরা হয়েছে। তবে অবাক ব্যাপার হলো এই দম্পতি যখন মারা যান তখন তারা একজন আরেকজনের হাত ধরে ছিলেন। 

এই দম্পতির মেয়ে বলেন, ‘ অসুস্থ অবস্থায় বাবা যখন হাসপাতালের বেডে কষ্ট পাচ্ছিলেন মা সারাক্ষন তার দিকে তাকিয়ে থাকতেন। বাবা যদি কিছু খেতে না চাইত, মাও খেতে চাইতেন না। এমনকী বাবা পানি না খেলেও মা খেতেন না। প্রতিটি কাজে মা অনুসরণ করতে বাবাকে। তারা দুজন দুজনকে এতটা ভালবাসতেন যে মারাও গিয়েছেন একসঙ্গে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বেঁচে থাকতেও যেমন তারা একে অন্যের হাত একদিনের জন্যও ছাড়েননি, তেমনি মৃত্যুর সময়ও তারা একে অন্যের হাত ধরে ছিলেন’।

মৃত্যুর সময় ফ্র্যান্সিস আর্নেস্ট প্ল্যাটেলের বয়স ছিল ৯২ বছর। আর তার স্ত্রী নরমা জুন প্ল্যাটেলের বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। সূত্র : জি নিউজ, ইন্ডিয়া টুডে  

বিষয় : আন্তর্জাতিক অস্ট্রেলিয়া