স্বাধীনতার পরই অনেকে দেশকে 'তলাবিহীন ঝুড়ি' বলেছেন। অনেকে বলেছেন, দেশটি উন্নয়নের 'কঠিন পরীক্ষার' সম্মুখীন। এ সবকিছু অনেকটাই ঝেড়ে ফেলে দিয়ে এই দেশটি উন্নয়নের একটি সন্তোষজনক পর্যায়ে এসেছে। এর পেছনে দেশের আপামর জনসাধারণের সমর্থন, রাজনৈতিক নেতা, সরকারি-বেসরকারি খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সবিশেষ অবদান রয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিশেষ করে প্রবৃদ্ধি এবং সামষ্টিক সূচকের সন্তোষজনক অবস্থান ইতিবাচক হতে শুরু করেছে। ১৯৯১ সালে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত সব সরকারই পরোক্ষভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়। এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সবাই সচেষ্ট। কোন সরকার কতটুকু অর্জন করেছে তার চুলচেরা বিশ্নেষণ বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে করা যেতে পারে। তবে সবারই সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের তুলনায় সন্তোষজনক অবস্থায় আছে, বিশেষ করে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনায়।

দুটি বিশেষ অর্জন নিয়ে এখন আলোচনা চলছে। প্রথমত, বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। মাথাপিছু আয় (বর্তমান বাজারদরে) দুই হাজার ডলারের কাছে পৌঁছেছে। দক্ষিণ এশিয়ার এবং আমাদের প্রতিবেশী অনেক দেশ বাংলাদেশ থেকে পিছিয়ে আছে। আমাদের চ্যালেঞ্জ হলো মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে অবস্থানটি দৃঢ় করে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ হওয়া। আমরা যেন মধ্যম আয়ের দেশের ফাঁদে না পড়ে যাই অর্থাৎ এই পর্যায়েই যেন আটকে না থাকি। বেশ কিছু দেশই বছরের পর বছর এই পর্যায়ে আটকে আছে।

দ্বিতীয় বিশেষ অর্জন হলো জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী অনুন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরিচালিত হবে। সরকার অবশ্য ২০২৬ সাল পর্যন্ত সময় দিয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশ ঘোষণা করার জন্য। কারণ, কিছু প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য এবং এই অবস্থানটি ধরে রাখার জন্য। এ প্রচেষ্টার সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে 'টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য' বা 'সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (মোটা দাগে ১৭টি লক্ষ্য) অর্জন করা। এর জন্য প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, কার্যক্রম এবং অর্থ। সেগুলো খুব সহজ বিষয় নয়।

উন্নয়নের সামষ্টিক অর্থনীতি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আমাদের প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশের বেশি হচ্ছে, বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ৪৪ বিলিয়ন ডলারের মতো হয়েছে। রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পেয়েছে, রপ্তানি আয় বেড়েছে এবং বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাত সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। তবে সেগুলোর সুফল সুষমভাবে এবং সমতার মানদণ্ডে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। সমস্যাটা সেখানেই। উপরন্তু ব্যক্তিগত আরও সম্পদের বৈষম্য বাড়ছে। কর্মসংস্থানের স্বল্পতার কারণে বেকার মানুষের (বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে) সংখ্যা বাড়ছে। মূল্যস্ম্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ইদানীং খাদ্যদ্রব্য ও অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীর (সেবা যেমন যাতায়াত, বাড়িভাড়া, স্বাস্থ্য) জন্য ব্যয়ভার বাড়ছে, যার ফলে দরিদ্র, নিম্নবিত্ত এমনকি মধ্যবিত্তরাও দুর্ভোগে আছে। এখন প্রয়োজন হচ্ছে সমতাভিত্তিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বণ্টনের বিষয়টি সামনে আনা। সেজন্য সরকারের নীতিকৌশল এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে দরিদ্র ও প্রান্তিক ব্যক্তির সার্বিক উন্নয়ন অর্থাৎ সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন দুটি ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে বেশ অগ্রসর হয়েছে এবং এই পথটুকু আসতে আমাদের ৫০ বছর লেগে গেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশ এই সময়ের মধ্যে আমাদের তুলনায় অনেকটা বেশি এগিয়ে গেছে। কাজেই আমাদের এখন লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে, কীভাবে আরও দ্রুত এগোনো যায়। ৫০ বছর সময়টা কিন্তু কম নয়। এই সময়ে কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ার মতো দেশ নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং বিভিন্ন রকম চড়াই-উতরাই থাকবে একটা দেশে। আমাদের দেশটা তুলনামূলকভাবে নতুন। নতুন দেশে গণতন্ত্র সুসংহত করতে অনেক সময় লাগে।

মানুষের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা, গণতন্ত্র বিষয়ে সচেতনতা এবং তা প্রতিষ্ঠিত হতেও সময় দরকার। তার মানে এটা নয় যে, সুশাসনকে বিসর্জন দিয়ে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা বাদ দিয়ে আমরা শুধু উন্নয়নের দিকে যাব। যে দেশগুলোর কথা বলেছি, তারা কিন্তু তা করেনি। বিভিন্ন সরকারের সময়ে বিভিন্ন দেশে সুশাসনে কিছু ঘাটতি থাকতে পারে; কিন্তু অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর প্রতি জোর দেওয়া হয়। এ কারণে ওই দেশগুলো এতদূর এগিয়েছে। ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া সরকার কিন্তু দেশের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে। তবু সেখানে জনগণের কল্যাণমুখী ও সমতাভিত্তিক উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

রাষ্ট্রীয় কাজে আমরা যখন নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিই, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত হয় এবং সে অনুযায়ী কাজ হয়ে থাকে। কিন্তু যে কথাটি বলার- বিশ্বের কাতারে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের কিছু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মসম্পাদনে প্রাতিষ্ঠানিক যে দুর্বলতা ও ত্রুটি রয়েছে, সেগুলো দূর করতে হবে। আমাদের কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আছে- বাংলাদেশ ব্যাংক, বিটিআরসি, বিইআরসি, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। এসব প্রতিষ্ঠানে দক্ষ ও কর্মতৎপর লোকজনকে আনতে হবে এবং সেখানে কাউকে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়ে আসা যাবে না। অর্থনীতি পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সুষ্ঠু ও কার্যকরী প্রতিষ্ঠান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানগুলো যদি দুর্বল হয়, তাহলে কোনো নীতি, পরিকল্পনা কাজে লাগবে না। আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারব না।

এটির সঙ্গে আরও কিছু ক্ষেত্রে নজর দেওয়া উচিত। সরকারি সেক্টর বা খাত- এগুলোর মধ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। এই দুটি বিভাগে যদি আমরা বিশেষভাবে নজর দিতে না পারি, তাহলে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারবে না। আমরা বলছি, শিক্ষার হার অনেক বেড়েছে; কিন্তু এখানে গুণগত মানের ব্যাপার আছে। উচ্চশিক্ষা নিয়ে বের হওয়ার পরও অনেকে কাজ পাচ্ছে না, সেটি নিয়েও ভাবতে হবে। কারিগরি শিক্ষার প্রতি জোর দিতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, শিক্ষার মানটা বাড়াতে হবে। কারণ, সূচকের দিক থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। শতবর্ষে পা দেওয়া দেশের ঐতিহ্যবাহী বড় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যাকে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হয়ে থাকে, অথচ আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে এটা দুই হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায়ও নেই। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত শিক্ষায় ভালো করছে, এমনকি সিঙ্গাপুর ও চীন এ বিষয়ে অনেক এগিয়ে আছে। তারা পৃথিবীর অন্য দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।

আমরা সেই কাতারে নেই; বরং পিছিয়ে আছি। আমাদের দেশের অনেক সেক্টরে উন্নয়ন হচ্ছে সত্য; কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে মনোযোগটা আরও বাড়াতে হবে। আমাদের যে প্রাথমিক বা স্কুল পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেগুলোর ব্যবস্থাপনা আগের চেয়ে খারাপ হয়ে গেছে। অর্থের বরাদ্দ যে পরিমাণ বেড়েছে, তার তুলনায় ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন হয়নি। সরকারি হাসপাতালগুলোতে অবকাঠামো বেড়েছে, সেবার মানটা বাড়েনি। এখন স্বাস্থ্যের অনেক সেবা বেসরকারি খাতে চলে যাওয়ায় মানুষ বেসরকারি হাসপাতালনির্ভর হয়ে পড়ছে। সেখানেও আছে অনেক বিড়ম্বনা। কোনো মানুষের যদি চিকিৎসার জন্য একশ টাকা ব্যয় হয়, সেখানে কমপক্ষে ৬০ টাকা রোগীর পকেট থেকে দিতে হয়। এই ব্যয়বহুল চিকিৎসাসেবা নেওয়া সবার পক্ষে সম্ভব নয়। এই জিনিসগুলোর ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। কভিড-১৯ মহামারির ফলে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আমরা কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছি। স্বাস্থ্য খাতের দুর্বল ব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, সর্বোপরি সমন্বয়হীন পদক্ষেপ প্রকট হয়ে সামনে আসছে। এগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে।
আরেকটি বড় বিষয় হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় যেসব প্রতিষ্ঠান আছে, সেগুলোর দক্ষতা, জবাবদিহি বাড়াতে হবে। সারা বছর দায়সারা গোছের কাজ চলছে; দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি না থাকায় সাধারণ মানুষ বঞ্চনা ও অবিচারের শিকার হচ্ছে। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে হবে। দেশকে আরও দ্রুত এগিয়ে নিতে হলে উন্নয়ন ও উদ্যোগের ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা ও জবাবদিহি বাড়াতে হবে। গণতন্ত্র, সুশাসন ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে সমতাভিত্তিক, টেকসই এবং কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। কালক্ষেপণ, অজুহাত আর অবহেলা নয়, দেশটিই জনগণের এবং সেটিই হবে মূলমন্ত্র।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যেসব পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণ করা হবে তাতে সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক বৈষম্য কমানোয় গুরুত্ব দিতে হবে। এ পর্যন্ত যে উন্নয়ন হয়েছে, তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে অপেক্ষাকৃত কম পৌঁছেছে। অল্প কিছু মানুষের কাছে আয়ের উৎস এবং সম্পদ কুক্ষিগত হয়েছে। এমনকি ব্যাংকগুলোর ঋণপ্রবাহের দিকে তাকালেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখব, ব্যাংকের ঋণগুলো অল্প কিছু মানুষের কাছে- সোজা কথায় অল্প কিছু ব্যবসায়ী এবং বিশেষ অঞ্চলের বিশেষ ব্যক্তির কাছে কেন্দ্রীভূত হয়ে যাচ্ছে। এটা শুভলক্ষণ নয়। কারণ, যারা সৎ ও উদ্যমী, ক্ষমতার উৎস থেকে দূরে এমন বড় ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং যারা নতুন উদ্যোক্তা তারা ঋণসুবিধা পাচ্ছেন না। ফলে দিন দিন ব্যবসার ক্ষেত্রে একটা অসম পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তি এবং বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৬ দফা ছিল মূলত রাজনৈতিক স্বাধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য রাজনৈতিক স্বাধিকার দরকার। এ দুটি বিষয় পাশাপাশি রেখে গুরুত্ব দিতে হবে। উন্নয়নের জন্যই সব উদ্যোগ নিতে হবে; কিন্তু উন্নয়নের চালিকাশক্তি কারা, কাদের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে- সেটা যদি বিবেচনা ও কার্যক্রমে প্রতিফলিত না হয়, তবে তা টেকসই এবং জনকল্যাণমুখী হবে না। সে জন্য গণতন্ত্র, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং উন্নয়নের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সমান তালে চলতে হবে। এক পায়ে ভর করে চললে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া যাবে না। দুই পায়েই ভর করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

আমাদের সামনে এখন যে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো আছে, তা শুধু প্রবৃদ্ধি দিয়ে সমাধান হবে না। আবার মূল্যস্ম্ফীতি, যেটার ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেটা রোধ করেও কাজ হবে না। কারণ, মানুষের যদি আয় না থাকে, আয়ের সংস্থান না থাকলে মূল্যস্ম্ফীতি কমিয়ে লাভ হবে না। এখন আমাদের করণীয় হচ্ছে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফল সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছানো। একজন ধনী লোক কন্ট্রিবিউট করছেন, তিনি যেমন সুবিধা পাবেন, তেমনি একজন গরিব লোক, যিনি দিনরাত পরিশ্রম করছেন, তিনিও যেন বঞ্চিত না হন। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, পৃথিবীর দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী দেশের সামাজিক, মানবিক ও নাগরিক অধিকারের যে সূচকগুলো আছে, সে তুলনায় আমরা পিছিয়ে আছি। এখানে ধনী-গরিবের বৈষম্যও বেশি। সুইডেন, নরওয়ে, আমেরিকা বা ইংল্যান্ডের মতো দেশেও বৈষম্য আছে। কিন্তু আমাদের দেশের মতো এত প্রকট নয়। বিশেষ করে উত্তর ইউরোপের দেশগুলো কল্যাণমুখী দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদেরও সেটা লক্ষ্য হওয়া উচিত।

আমরা প্রধানত বস্তুবাদী বিষয়গুলো খেয়াল করি। কিন্তু কোন খাতে কীভাবে উন্নতি হচ্ছে, সেটার প্রভাব কীভাবে পড়ছে, তা খেয়াল করি না। কয়েকটা সূচক এবং এগুলোর উল্লম্ম্ফনের চেয়ে সামাজিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমুখী উন্নয়নের মাত্রা ও গুণগত মান বাড়াতে হবে। জনসংখ্যা বাড়ছে, এটা একটা সমস্যা। প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভূমিসম্পদের অপ্রতুলতার কথা মাথায় রেখে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের কথা ভাবতে হবে। পরমুখাপেক্ষী না হয়ে নিজেদের সামর্থ্য ও সম্পদের সুষ্ঠু ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও উচ্চ প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে দ্রুত সমতাভিত্তিক সমাজ ও কল্যাণমুখী শাসন এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

লেখক
অধ্যাপক
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
সাবেক গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংক