বাঙালির ইতিহাস হাজার বছরের বহিঃশত্রুর নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম আর আত্মত্যাগের সুদীর্ঘ ইতিহাস। তারই পথ ধরে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১-এর মার্চে পুরো জাতি তার সর্বশেষ দখলদার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঐক্য ও আত্মবিস্ম্ফোরণের চূড়ান্ত বিন্দুতে এসে দাঁড়ায়। সেই কেন্দ্রবিন্দুর নাম বাংলাদেশ।

২৫ মার্চ ১৯৭১-এ সংঘটিত হয় ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা। নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া বর্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের শুরুও সেই কালরাত থেকেই এবং ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। বীর বাঙালি অসীম সাহস নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে হানাদার পাকিস্তানিদের পরাজিত করে। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া বাংলাদেশের আপামর মানুষের রক্তের ঋণ আমাদের চিরকালীন পাথেয়।

এবারের সমকাল স্বাধীনতা দিবস বিশেষ সংখ্যায় আমরা দেখতে চেয়েছি স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে বাংলাদেশের অর্জন ও সম্ভাবনা। সমাজ-রাজনীতি, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, কৃষি-অর্থনীতি, উদ্যোগ-উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংকট ও সমাধান নিয়ে দেশের অগ্রগণ্য বুদ্ধিজীবীদের বিশ্নেষণে উঠে এসেছে পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশের মানুষের সমাজ ও জাতীয় জীবনের বাস্তবতা। সেইসঙ্গে উপস্থাপিত হয়েছে একাত্তরের প্রতিরোধ পর্বে মুক্তিযোদ্ধাদের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা। আছে ২৬ মার্চ, ১৯৭১-এর পরিপ্রেক্ষিত নিয়ে নিবন্ধ। আর এসবই মনে করিয়ে দেয়- বহুমূল্য রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এ দেশ; উদার-গণতান্ত্রিক-অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন আমাদের অবশ্যকর্তব্য।
স্বপ্ন, ব্যর্থতা, অর্জন ও আকাঙ্ক্ষার সামগ্রিক মূল্যায়নে প্রিয় মাতৃভূমিকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয় নিয়ে স্বাধীনতা দিবসে সমকালের বিশেষ সংখ্যা 'রক্তঋণের বাংলাদেশ'।