ডেঙ্গু সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমে আসছে। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে সংক্রমণের হার একবারে কমে আসার সম্ভাবনা দেখছে সংশ্নিষ্টরা। যদিও এখনও কয়েকশ মানুষ ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। পাশাশাশি দেশের কোথায়ও না কোথায় মৃত্যুর সংবাদ দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ডেঙ্গুতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে চলতি বছর এ রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৫০ জনে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩৬ জন রোগী। চলতি মাসের ২৯ দিনে মৃত্যু হয়েছে ১০৯ জনের। আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ হাজার ৯০৮ জন। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ বছর দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ৯৩২ জনে। এর মধ্যে ঢাকায় ভর্তি হয়েছেন ৩৬ হাজার ২৬৮ জন। আর ঢাকার বাইরে ২০ হাজার ৬৬৪জন।

এর আগে কোনো বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু ২০০ ছাড়ায়নি। এবছর মৃতদের ৩৩ শতাংশই শিশু। ডেঙ্গুর সবচেয়ে বড় প্রকোপ দেখা দেয় ২০১৯ সালে। ওই বছর মৃত্যু হয় ১৬৪ জনে। বেশি মৃত্যু হয়েছে চলতি মাসে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে এ বছরও সবচেয়ে বেশি ১৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়। এর মধ্যে ১৪৯ জনেরই মৃত্যু হয়েছে রাজধানীর হাসপাতালে। ঢাকার পরে রয়েছে চট্টগ্রাম। এই বিভাগে এখন পর্যন্ত ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে শুধু কপবাজারেই প্রাণ গেছে ২৫ জনের।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার সমকালকে বলেন, ‘বৃষ্টি না হলে ডেঙ্গু সংক্রমণ আর বাড়বে না। ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তবে যেহেতু ডেঙ্গু ৬৪ জেলাতে ছড়িয়েছে। সারাবছর মিলবে ডেঙ্গু রোগী। মশা নিধণ কর্মসূচি সারাবছর করতে হবে।’