একদিন একটি পিঁপড়ে হেঁটে হেঁটে নদীর দিকে যাচ্ছিলো। নদীর পাশে বিশাল বন। বনের অদূরে মাঠ। মাঠে সবুজ সবুজ ঘাস। ঘাসের ডগায় বিন্দু বিন্দু শিশির। শীতে পুব আকাশে সূর্য উঠলে শিশির বিন্দু চিকচিক করে। দেখতে কী সুন্দর! ঘাসের ফাঁকে ফাঁকে ঘাসফড়িং। মনের আনন্দে লাফালাফি করে। ঘাসফুল ছোঁয়। হঠাৎ একটি ফড়িং দেখলো একটি পিঁপড়ে হেঁটে হেঁটে নদীর দিকে যাচ্ছে। ঘাসফড়িং ভাবলো, পিঁপড়েটি নদীর দিকে যাচ্ছে কেন? কিছুক্ষণ পর ঘাসফড়িং একটু সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললো- পিঁপড়ে বন্ধু, এই সকাল সকাল হেঁটে নদীর দিকে যাচ্ছো কেন?
পিঁপড়ে বললো, সকালে বনের গাছগাছালির ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো ভালো করে ঢোকে না। তাই বনে সকালে রোদ পাই না। ভাবলাম নদীর পাড় গেলে রোদ পোয়ানো যাবে।
ঘাসফড়িং বললো, এই কথা?
পিঁপড়ে বললো- ফড়িং বন্ধু, তোমার সঙ্গে কথা বলে ভালোই লাগল। অনেক দিন হলো এই পথ দিয়ে যাওয়া হয়নি। তোমার সঙ্গে দেখা হওয়াতে খুব আনন্দ পাচ্ছি।
ঘাসফড়িং বললো, আমারও ভালো লাগছে তোমার দেখা পেয়ে। আমিও সবুজ আঙিনা থেকে ভোরের প্রকৃতি দেখছিলাম। তোমার মতো রোদের অপেক্ষায় ছিলাম। পাশের বনের পাখপাখালির কিচিরমিচির শুনছিলাম।
পিঁপড়ে বলল, আমাদের পৃথিবীটা খুব সুন্দর, তাই না?
হ্যাঁ। অপরূপ পৃথিবীর প্রকৃতি। নদী, জল, চন্দ্র, সূর্য, সবুজ ঘাস, নীল আকাশ সবই সুন্দর।
তুমি তো মজা করে কথা বলো ফড়িং বন্ধু।
ঘাসফড়িং বললো, তাই?
পিঁপড়ে বললো- ফড়িং বন্ধু, তুমি কি আমাদের বাড়ি মাঝে মধ্যে আসতে পার না?
তা পারি। আঙিনায় অনেক কাজ থাকে তো, তাই সময় হয়ে ওঠে না। তবে তুমি যখন এতো করে বলছো নিশ্চয় বেড়াতে যাবো।
ফড়িং বন্ধু, তুমি আমার বাড়ি গেলে খুব আনন্দ হবে।
হ্যাঁ। আনন্দ করবো। হাসিখুশি আর আনন্দফুর্তির মধ্যেই তো সবার জীবন।
পিঁপড়ে বললো, বন্ধু চলি। রোদ্দুর খাওয়া হলো। এবার বনের দিকে যাই। খাদ্যের জোগাড় করতে হবে। এখন থেকে খাদ্য সঞ্চয় না করলে বর্ষায় খাবো কী?
ঘাসফড়িং বললো, আবার এসো।
পিঁপড়ে ছয় পায়ে পিলপিল করে হেঁটে জঙ্গলের দিকে চললো। ঘাসফড়িং অনেকক্ষণ পিঁপড়ের পথের দিকে চেয়ে রইলো।
এক সময় মিশে গেল সবুজ ঘাসের রংয়ে।

বিষয় : পিঁপড়ে

মন্তব্য করুন