হেমন্তের সকাল। কুয়াশার চাদর ভেদ করে একে একে আসছে তর্কযোদ্ধারা। কাকডাকা ভোরে ঘুম ভেঙে যুক্তির ঝঙ্কারে জমজমাট লড়াই করতে পথেও চলে প্রস্তুতি। বিতর্কের ভেন্যুতে এসেও একেক দল একেক দিকে অবস্থান নিয়ে চালাতে থাকে প্রস্তুতি। ২৪ নভেম্বর সকালটি এভাবেই শুরু হয় বিএফএফ-সমকাল জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসব ময়মনসিংহ অঞ্চল পর্যায়ের বিতার্কিকদের। বিতর্ক মঞ্চ প্রস্তুত করা হয় ময়মনসিংহের পলিটেকনিক ইনস্টিটিশনের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অডিটোরিয়ামে। ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর নিয়ে ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিতর্ক উৎসবের আয়োজন করা হয়। লালগালিচা বিছানো মঞ্চের দুই পাশে দুই তার্কিক দলের জন্য জায়গা দেওয়া হয়। মঞ্চে বসেন বিচারকরা। দিনব্যাপী বিতর্ক উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. শওকত হোসেন ও মাইজবাড়ী আবদুল খালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম জহিরুল ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সমকাল প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় নিজের বক্তব্যে মো. শওকত হোসেন বলেন, বিতর্কের মাধ্যমে যুক্তির লড়াই হয়। এ লড়াই জ্ঞানের লড়াই। এই যুক্তিবাদী জ্ঞানীদের হাত ধরেই আগামীর বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। একই কণ্ঠে সুর মিলিয়ে একেএম জহিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের বিতর্কচর্চা করা আবশ্যকীয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিতর্ক ক্লাবের মাধ্যমে নিয়মিত বিতর্কের চর্চা করা উচিত।

বিতর্ক চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। পক্ষ-বিপক্ষ দলের যুক্তিতর্কে দিনভর মুখর থাকে তর্কমঞ্চ। তার্কিকদের তর্কযুদ্ধ মুগ্ধ হয়ে শোনেন দর্শকরা। ক্ষণে ক্ষণে হাততালিতে মুখর করে তোলেন পুরো চত্বর। চূড়ান্ত পর্বে যুক্তিতর্কে জয় ছিনিয়ে নেয় ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের তার্কিকরা এবং রানার্সআপ ঘোষণা করা হয় নেত্রকোনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে। ফলাফল ঘোষণা করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক সহসভাপতি ফিরোজ আহমেদ। শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয়েছেন নেত্রকোনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তার্কিক দলের প্রথম বক্তা মাহ্‌দিয়ে খান ফাতিন। বিতর্কে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন পূর্বধলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসলাম মিয়া, ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান অনিক, ডিবেট অ্যারেঞ্জমেন্ট সেক্রেটারি মাহমুদুল রাফিক, আনন্দ মোহন ডিবেটিং সোসাইটির বিতার্কিক তানজিল আহমেদ তালুকদার।

সমাপনীতে অতিথি ছিলেন আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক ড. মো. হাফিজুর রহমান, জেলা নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আমিন কালাম, মৎস্য কর্মকর্তা সানোয়ার রাসেল, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম।

মো. হাফিজুর রহমান বলেন, যেখানে যুক্তির সঙ্গে সঙ্গে একটি রূপরেখা থাকে। তীক্ষষ্ট বুদ্ধিসম্পন্নরাই বিতর্ক করে। সমস্যার সমাধানে পৌঁছাতে বিতর্কর্চার বিকল্প নেই। নুরুল আমিন কালাম বলেন, বিতর্কের অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে যুক্তি, যা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ঘটায়। কিছু প্রশ্ন ও সত্যের মুখে দাঁড় করায়, পরমতসহিষ্ণুতা শেখায়।

উৎসব আয়োজনে সুহৃদ সমাবেশের বিভিন্ন ইউনিটের সুহৃদরা সহযোগিতা করেন। অনুষ্ঠানে সমকালের গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি ইজাজ আহ্‌মেদ মিল, সুহৃদ আরিফ আহমেদ, ফয়সাল খান, পারভেজ মিয়া, মাহমাদুল হাসান বিদ্যুৎ, জহিরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

বিষয় : ময়মনসিংহ জিলা স্কুল বিভাগীয় উৎসব

মন্তব্য করুন