নতুন উৎসাহ আর উদ্দীপনায় আবার শুরু হচ্ছে 'বিএফএফ-সমকাল জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসব'। তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক ও বিজ্ঞানশিক্ষায় আগ্রহী করার লক্ষ্যে বিএফএফ ও সমকালের উদ্যোগে আটটি সফল বিতর্ক আসরের পর ২০ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে স্কুলশিক্ষার্থীদের নিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞান বিতর্কের আসর। আয়োজন সফল করতে সমকাল সভাকক্ষে আয়োজক, বিচারক ও শুভানুধ্যায়ীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা শেষে বিএফএফ ও সমকালের মধ্যে সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরিত হয়।

'বিতর্ক মানেই যুক্তি, বিজ্ঞানে মুক্তি'- স্লোগানে ৬৪ জেলার ৫২০ স্কুল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে এ বিতর্ক উৎসব। অংশ নেবে অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির প্রায় দুই হাজার বিতার্কিক। তিন পর্বের বিতর্কে জেলা ও বিভাগ পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে দেশসেরা ১৬টি দল অংশ নেবে জাতীয় জাতীয় পর্যায়ে চূড়ান্ত আসরে। উৎসবে শুধু বিতর্ক আর প্রতিযোগিতা নয়; দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি এবং প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে আনন্দের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা জানবে বিজ্ঞানের বিভিন্ন মজার ও জটিল দিক। একই সঙ্গে এ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতিটি আয়োজন শুরু হবে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে। এ ছাড়া শিক্ষার্থী-অভিভাবক-দর্শকশ্রোতার জন্য থাকছে ভিন্নধর্মী আয়োজন, যা উৎসবকে আরও সাফল্যমণ্ডিত করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অতিথি ও আয়োজক প্রতিনিধিরা। গত মঙ্গলবার বিকেলে সমকাল কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবম আসরের বিতর্ক উৎসবের সূচনা হয়।

সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান, বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের (বিএফএফ) নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী, সমকালের সহযোগী সম্পাদক সবুজ ইউনুস, বার্তা সম্পাদক খায়রুল বাশার শামীম, নগর সম্পাদক শাহেদ চৌধুরী, প্রধান প্রতিবেদক লোটন একরাম, ফিচার সম্পাদক মাহবুব আজীজ, সম্পাদকীয় বিভাগের প্রধান শেখ রোকন, বিজনেস এডিটর জাকির হোসেন, সহকারী সম্পাদক জিয়া হাসান, বিশেষ প্রতিনিধি শরীফুল ইসলাম, মার্কেটিং ও বিজ্ঞাপন বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার মো. ফরিদুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক হাসান জাকির, বিতর্ক প্রশিক্ষক মাজেদ আজাদ ও সুহৃদ সমাবেশের ঢাকা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব ফরিদুল ইসলাম নির্জন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমকাল সুহৃদ সমাবেশের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় সম্পাদক আসাদুজ্জামান।

মোজাম্মেল হোসেন বলেন, সমাজের বিদ্যমান কুসংস্কার, কূপমণ্ডূকতা ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করতে সবাইকে বিজ্ঞানমনস্ক হওয়া প্রয়োজন। একটি প্রতিযোগিতায় দেশজুড়ে ৫২০টি স্কুলের

অংশগ্রহণ সত্যি প্রশংসনীয় ও গর্বের। সংবাদপত্র হিসেবে সমকাল শুধু সংবাদ পরিবেশনই করে না, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মতামত গঠন ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। বিজ্ঞান ও বিতর্ক সমাজ গঠনে অত্যাবশ্যকীয়। তাই বিজ্ঞানমনস্ক ও বিজ্ঞানমুখী এবং সমাজ গঠনে এমন আয়োজনের ভূমিকা অপরিসীম। আয়োজনটি বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা করছি।

আবু সাঈদ খান বলেন, টানা ৯ বছর এত বড় একটি আয়োজন চালিয়ে যাওয়া কঠিন। শত সীমাবদ্ধতা মোকাবিলা করে বিজ্ঞানমনস্ক ও যুক্তিনির্ভর সমাজ গঠনে সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন হিসেবে আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। বিজ্ঞানভিত্তিক, যুক্তিবাদী সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা নিয়মিত বিজ্ঞানবিষয়ক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবের মাধ্যমে বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে আমরা কিছুটা হলেও অবদান রাখতে পারব। সবার সহযোগিতায় এ আয়োজন অব্যাহত থাকুক, ছড়িয়ে পড়ূক সবখানে।

সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ আট বছর সমকালের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজনটি সম্পন্ন করেছি। এই আয়োজন শুরুর পর থেকে অনেক জেলায়, স্কুলে বিজ্ঞান বিতর্ক ক্লাব তৈরি হয়েছে। যা আমাদের স্বস্তি দেয়। আমি বিশ্বাস করি,

আমাদের আয়োজনের যে লক্ষ্য ছিল, আমরা সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হচ্ছি। আমরা সৃজনশীল সব আয়োজনের পাশে আছি। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা ও প্রসারের নিয়মিত আয়োজনগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষার চেষ্টা করছি। এত বড় একটি আয়োজন ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে নেওয়া কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কিন্তু সবার আন্তরিকতায় এটি সম্ভব হয়েছে।

সবুজ ইউনুস বলেন, বিশাল এই আয়োজনের ধারাবাহিকতা রক্ষাই একটি সাফল্য। প্রান্তিক পর্যায়ে বিজ্ঞানকে পৌঁছে দিচ্ছে এ উৎসব। প্রিন্টের পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রচার অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিতর্কে আগ্রহ বাড়বে। দেশকে এগিয়ে নিতে তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানে আগ্রহী করে তোলার কোনো বিকল্প পথ নেই।

খায়রুল বাশার শামীম বলেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সামনের দিনগুলোতে সফলভাবে উৎসব আয়োজন করতে সাহায্য করবে। কীভাবে আরও প্রান্তিক পর্যায়ে বিতর্ক উৎসব পৌঁছানো যায়, সে লক্ষ্য নিয়ে আমাদের আরও বিস্তৃত কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। যেন দেশের শ্রেষ্ঠ বিতর্ক আমাদের এ আয়োজন থেকে বেরিয়ে আসে।

শাহেদ চৌধুরী বলেন, তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানে বিকশিত করতে বিজ্ঞানচর্চা অপরিসীম। এ জন্য বিজ্ঞান বিতর্কের পাশাপাশি বিজ্ঞানচর্চাভিত্তিক আয়োজন করা প্রয়োজন।

লোটন একরাম বলেন, আধুনিক বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে বিজ্ঞান বিতর্ক। এ ধরনের আয়োজন বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

মাহবুব আজীজ বলেন, সমকালের রয়েছে আধুনিক, প্রগতিশীল ও ইতিবাচক সম্পাদকীয় নীতি; যা একটি বিজ্ঞানভিত্তিক আধুনিক সমাজ গঠন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে

অবদান রাখছে। সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি আমরা সৃজনে-মননে গড়ে ওঠা বিজ্ঞানমনস্ক আগামীর জন্য কাজ করছি।

শেখ রোকন বলেন, বিএফএফ ও সমকালের বিজ্ঞান বিতর্ক সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। আগামী আসরগুলো সফলভাবে আয়োজন করতে এখন থেকেই পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিতে হবে।

মাজেদ আজাদ বলেন, উৎসবের সূচনালগ্ন থেকে বিচারকার্য পরিচালনা করে আসছি, এটা আমার জন্য সৌভাগ্যের। বেসরকারিভাবে সমকাল-বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের যে যৌথ প্রয়াসের ধারাবাহিকতা, একজন বিতার্কিক ও বিচারক হিসেবে বলব- আপনারা আপনাদের জায়গা থেকে সফল হয়েছেন। বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসব শুধু বিতর্কচর্চা নয়, এর মাধ্যমে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান ও মুক্তচিন্তা চর্চায় আগ্রহী হচ্ছে।

২০১৩ সাল থেকে দেশজুড়ে নিয়মিতভাবে আয়োজিত হচ্ছে বিতর্ক উৎসব। এ বছরের প্রতিযোগিতা শুরু হবে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর। জেলা পর্যায়ের বিতর্ক চলবে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত। ১৭ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে বিভাগ পর্যায়ের উৎসব। ২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর ঢাকায় দুই দিনের চূড়ান্ত আসরের মধ্য দিয়ে এ বছরের মতো বিতর্ক উৎসবের পর্দা নামবে।

সদস্য সুহৃদ সমাবেশ, ঢাকা কেন্দ্রীয় কমিটি