উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে রচিত বরেণ্য লেখক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘চিলে কোঠার সেপাই’ উপন্যাস নিয়ে পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। তরুণদের মাঝে পাঠ্যাভাস গড়ে তুলতে সমকাল সুহৃদ সমাবেশ ঢাকা কেন্দ্রীয় কমিটি সমকাল সভাকক্ষে রোববার এ পাঠচক্রের আয়োজন করে। সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পাঠচক্রে প্রধান বক্তা ছিলেন শিক্ষাবিদ ও লেখক খালিকুজ্জামান ইলিয়াস। বক্তা হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সমকালে ফিচার সম্পাদক মাহবুব আজীজ ও সহসম্পাদক এহসান মাহমুদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুহৃদ সমাবেশের বিভাগীয় সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুজ্জামান। আয়োজনে ঢাকার বিভিন্ন ইউনিটের ৪০ জন সুহৃদ অংশ নেন। তারা পাঠচক্রে অংশ নিয়ে নিজেদের পাঠপ্রতিক্রিয়া উপস্থাপন করেন।

প্রধান বক্তা খালিকুজ্জামান ইলিয়াস বলেন, জীবনবাস্তবতা, ইতিহাস, রাজনীতি-গভীর অর্ন্তদৃষ্টি ও সূক্ষ্ম কৌতুকবোদ দিয়ে তিনি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলা ভাষার অন্যতম এই ক্লাসিক রচনা করছেন। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বইটি নিয়ে যে আবদেন দেখছি, এটা আমার জন্য অত্যন্ত ভালোলাগার বিষয়। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ছিলেন তারুণ্যদীপ্ত। নিম্নশ্রেণী সংগ্রামী মানুষের ভাষাকে তিনি শিল্পে রূপান্তরিত করে দেখিয়েছেন। তার উপন্যাসের চরিত্ররা জীবন্ত। তিনি বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে তৎকালীন সময় ও বাস্তবতাকে চিত্রায়িত করেছেন।

আবু সাঈদ খান বলেন, উনসত্তরের মিছিলে আমরা অনেকে স্বশরীরে ছিলাম। আমরা দেখেছি শ্রেণি সংগ্রাম কীভাবে শহরে-গ্রামে আন্দোলিত হয়েছে। যার বাস্তব চিত্র আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের লেখার মধ্যে ফুটে উঠেছে। তার লেখার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের জীবন্ত হয়ে আছেন, থাকবেন। সুহৃদদের পাঠ্যভাস চলমান রাখার আহ্‌বান জানাই।

মাহবুব আজীজ বলেন, জীবনের আনন্দ পেতে হলে বই পড়ার বিকল্প নেই। এই উপন্যাস সমুদ্রে সাঁতার কাটার মতোই। শ্রেণীবৈষম্য, জাতীয়তাবাদসহ জীবন বাস্তবতার কঠিন চিত্র রূপায়ন হয়েছে এতে। আসলে পূর্ববঙ্গের মহাকাব্য 'চিলে কোঠার সেপাই।

এহসান মাহমুদ বলেন, এখানে গ্রাম বা শহরকে কেন্দ্র করে চরিত্রগুলো ফুটে উঠেছে। গ্রামীণ নিম্নশ্রেণী মানুষের ভাষাকে সাহিত্যের মাধ্যমে দারুণভাবে শিল্পায়িত করা হয়েছে। রাজনীতি মনোভাব, বিদ্রোহী, বিপ্লবী চেতনা প্রভৃতি বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে লেখক সুচারুরূপে চিত্রায়ণ করেছে।