আজ মুক্তির কথা ছিলো ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৬০ লাখ টাকা সরকারি অনুদান প্রাপ্ত সিনেমা ‘আশীর্বাদ’ এর।  কিন্তু মুক্তি পায়নি। ছবিটির সহ-প্রযোজকের জেনিফার ফেরদৌসের সঙ্গে নায়ক-নায়িকা ও অন্যান্য কলাকুশলীদের দ্বন্দ্বে জড়ানোর জন্যই সরকারি অনুদানের এই ছবিটি আলোর মুখ দেখল না আজ। 

তবে মুক্তি না পেলেও গতকাল  সিনেমাটির নায়ক জিয়াউল রোশান ও চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে নিয়ে সহ-প্রযোজকের একাধিক অভিযোগ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন নায়ক-নায়িকা। 

মাহিয়া মাহির অভিযোগ, ‘জেনিফার ফেরদৌস কোনো পেশাদার প্রযোজক নন। যেহেতু এটা সরকার ও জনগণের টাকার সিনেমা তাই জেনিফার ফেরদৌস এখানে লাইন প্রডিউসার। তাকে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল উনি বরং সেখান থেকে টাকা মেরেছেন।’

মাহি বলেন, ‘খুব স্বপ্ন নিয়ে অনুদানের সিনেমাটি করতে চেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম কোনোভাবে যদি প্রধানমন্ত্রী কাজটি দেখেন! ৬০ লাখ টাকায় অনেক ভালো সিনেমা বানানো সম্ভব। কিন্তু আমার অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি, সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকার মতো খরচ করেছেন প্রযোজক। বাকি টাকা প্রযোজক কোথায় খরচ করেছে সরকারের খতিয়ে দেয়া উচিত। তার জবাবদিহি করা উচিত। এই টাকা ওনার নয়। সরকারি অনুদান দেয়া হয় জনগণের ট্যাক্স থেকে।’

নায়িকা মাহি অভিযোগ করে আরও বলেছেন, ‘সরকার সংশ্লিষ্ট যারা আছে তাদের কাছে আবেদন জানাই বাকি টাকা জেনিফার ফেরদৌস কোথায় খরচ করেছেন নাকি শপিং করেছেন খুঁজে দেখার।’

সংবাদ সম্মেলনে রোশান বলেন, ‘আমি মাত্র একলাখ টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছি। বলেছি আমার বাকি টাকা সিনেমাটির ভালোর জন্য খরচ করতে। কিন্তু জেনিফার তা করেনি। বরং নিজের মন মতো যা ইচ্ছে তাই করছেন। আমাদের না জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করছেন যাতে তার ব্যক্তিগত প্রচার বাড়ে। আমাকে মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে নিজের কাটতি বাড়াচ্ছেন। যা আমি কোনোভাবে আশা করিনি। বাধ্য হয়েই আজ সবাইকে কথাগুলো জানাতে হলো।’

সিনেমাটির পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান মানিক বলেছেন, ‘‘এখন সিনেমার একটা জোয়ার চলছে। ‘পরাণ’, ‘হাওয়া’ হিট যাচ্ছে। দর্শক হলে ফিরছে। অথচ এই সময়ে আমার একটা ছবি মুক্তি পেলেও সেটি নিয়ে পজিটিভ কিছু বলতে পারছি না। একজন নির্মাতা হিসেবে এরচেয়ে কষ্টের বিষয় আর কি হতে পারে?’’

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পের ‘আশীর্বাদ’ পরিচালনা করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা মুস্তাফিজুর রহমান মানিক। এতে আরও অভিনয় করেছেন কাজী হায়াৎ, রেহানা জোলি, রেবেকা, সীমান্ত প্রমুখ।