ইলিয়াস কাঞ্চন, রুবেল ও ডিপজলদের ঐক্যের ডাক

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২০     আপডেট: ২০ জুলাই ২০২০   

বিনোদন প্রতিবেদক

চলচ্চিত্র–সংশ্লিষ্ট ১৮টি সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানকে বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে।  এই বয়কটের প্রতিবাদেই রোববার এফডিসির জহির রায়হান মিলনায়তনের প্রদর্শন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। সেখানে শিল্পী সমিতির নেতারা বয়কটের প্রতিবাদ করে চলচ্চিত্রের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। 

বিকেল পাঁচটা  শুরু হওয়া সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের চেয়ে সমিতির সদস্য ও মিশা-জায়েদ প্যানেলের সমর্থকদের উপস্থিতিতেই ছিলো ভরপুর। সমিতির সহ-সভাপতি চিত্রনায়ক রুবেলের সঞ্চালনায় শুরু হওয়া সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই বক্তব্য দেনঅভিনেতা এবং শিল্পী সমিতির প্রচার সম্পাদক জ্যাকি আলমগীর। মিশা-জায়েদকে বয়কটের প্রতিবাদ করে তিনি সবাইকে এক হয়ে কাজ করারও আহ্বান করেন। 

শিল্পী সমিতির সংবাদ সম্মেলন হলেও তাতে সমসাময়িক কোন তারকাশিল্পীকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। তবে উপস্থিতি ছিলেন  চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, ডিপজল, অঞ্জনা, রুবেল ও সমিতির অনেক নেতারা। 

সঞ্চালনার মাঝে মাঝে নিজেও বক্তব্য দেন রুবেল।  মিশা-জায়েদের বয়কটের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রুবেল বলেন, প্রযোজক ও পরিচালক সমিতি হচ্ছে শিল্পীদের বাবা-মা। যদি সন্তানরা ভূল করেই থাকে তাহলে বাবা-মায়েরা কেনো তাদের বয়কট করবে? বরং তারা বিষয়টাকে সমাধান করার চেষ্টা করবে। যারা বয়ক করেছেন তাদের আহ্বান করছি ঝামেলা নয় আসুন একসঙ্গে চলচ্চিত্রের উন্নয়নে হাটি।’

করোনার বিগত চারমাস বাসা থেকে একদিনের জন্যও বের হননি ইলিয়াস কাঞ্চন। কিন্তু চলচ্চিত্রের মানুষের মধ্যকার ঝামেলা দেখে তিনি ঘরে বসে থাকতে পারেননি। ছুটে এসেছেন এফডিসিতে।  বক্তব্যে বিষয়টি উল্লেখ করে  তিনিও বয়কট নয় সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান করেন। সেই শিল্পী সমিতির বর্তমান কমিটিরও কাজের প্রশংসা করেন।  ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমি  এফডিসিতে এসেছি ঝামেলা মিটিয়ে দিতে। আমরা ঝামেলা চাইনা। শিল্পীরা চলচ্চিত্রের একটা অংশ। তাদের বাদ দিয়ে কখনো কোনো উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। এখন যে দুর্যোগ চলছে, সেখানে শিল্পী, প্রযোজক, কলাকুশলী—অনেকেই খারাপ দিন পার করছেন। আপনাদের সবাইকে বলব, নিজ নিজ সংগঠনের মাধ্যমে বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ান। অনর্থক আমাদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করবেন না। ভুল মানুষেরই হয়। মিশা- জায়েদ ভুল করলে সেটা সবাই বসেই সমাধান করবো। 

বক্তব্যে মিশা সওদাগরও ভুল বোঝাবুঝির অবসান চাইলেন। তিনি বলেন,‘আমরা কোনো রকম দলাদলি, হিংস্রতা, বিদ্বেষ চাই না। আমরা চাই চলচ্চিত্রের উন্নয়ন। আমাদের শিল্পী সমিতির মূল কাজ শিল্পীদের স্বার্থ সংরক্ষণ। আমরা সবাইকে সম্মান করে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু দুঃখ একটাই, আমাকে বয়কট করা হলো। জায়েদের যদি কোনো অন্যায় থাকে, আমাদের লিখিত আকারে দিতেন। আমরা নিজেরা বসে সমস্যার সমাধান করতাম। কিন্তু এখন তা বড় আকার ধারণ করল। 

বয়কট হওয়া জায়েদ খানও জানালেন তাকে কি অভিযোগে বয়কট করা হয়েছে সেটা তার কাছে অজানা। তাকে কেবল বিপদে ফেলতেই এমন ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলে দাবী তার। তার বিরুদ্ধে মামলার পাঁয়তারাও হচ্ছে বলে জানান তিনি। যারা এটি করছেন অবশ্যই সেটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবী করে জায়েদ বলেন, চলচ্চিত্র অঙ্গনকে তারা একটি সার্কাসে পরিণত করছেন। রাত নেই, দিন নেই আমি শিল্পী সমিতির সবার স্বার্থে কাজ করেছি। যারা আমাকে বয়কট করেছে আমি তাদের কার উপকার করিনি?  আমাকে বিপদে ফেলতে চাইছেন তারা। অথচ আমি যদি ভুল করি আমাদের উপদেষ্টামণ্ডলী ও  আমাদের অভিভাবক আছেন  তাদের কাছে অভিযোগের বিষয়ে বলা যেত। তা না করে তারা বয়ক করলেন।